দিরাইয়ে মহিলাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
দিরাই উপজেলার নতুন কর্নগাও গ্রামের আব্দুল কাদিদের ছেলে লেচু মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে একই গ্রামের মোছা: পারভীন আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মহিলা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখেন অভিযুক্ত লেচু মিয়া। ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দিয়ে কৌশলে নগদ দশ লক্ষ টাকা ও স্বর্নলংকার হাতিয়ে নিয়েছে লম্পট লেচু মিয়া।
ভিক্টিম নারীর অভিযোগ- বিয়ের কথা বলে লেচু তাকে সিলেট নিয়ে যায় এবং আজকাল বলে সময় ক্ষেপণ করে বিয়ে ছাড়াই তার সাথে গল্পের নাটকের মত করে মাসের পর মাস ভোগ করেছে কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে অব্যাহত চাপ দিয়েও যখন অহেতুক কালক্ষেপণ ও বিভিন্ন বাহানায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটে শুধু টাকার জন্যে চাপ দিতে থাকে তখন ভুক্তভোগী নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এই ছেলে প্রতারণার মধ্যে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে ।
ভুক্তভোগী পারভীন বলেন, “আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাসের পর মাস তার সঙ্গে রাত কাটাতে বাধ্য করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেনি। আমাকে নিয়ে লেচু জগন্নাথপুর উপজেলার তার বন্ধুর বাড়ীতে, গোলাপ নগর তার আত্মীয়র বাড়ীতে, সিলেটের অনুপম আবাসিক হোটেলে ও সুনামগঞ্জের হোটেল আল হেলালে আমাকে নিয়ে থেকেছে যার অনেক প্রমাণাদি আমার কাছে রয়েছে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত লেচু বলেন,সাংবাদিকের কাছে বক্তব্য দেব কেন? আমার সময় হলে আদালতে গিয়ে বলবো।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের কারণে মহিলা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত লেচুর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ, কিছুটা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে মেয়েদের সাথে ছবি ওঠার।
এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনাটি প্রথমে সাংবাদিকের যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে ওই আইডিতে ছবি গুলো আর খুঁজে পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, এসব ছবি অনুমতি ছাড়া প্রচার করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এব্যাপারে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, মহিলার লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।







