এমপির উপস্থিতিতেই লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান, পরে এমপির অস্বীকার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের বিতর্কিত উলামা লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা মাওলানা শেখ সাইফুল সিদ্দিকীর বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাইফুলের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ‘আনুষ্ঠানিক যোগদানে’র দাবি করা হলেও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে একে কেবল ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর রাতে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে মাওলানা শেখ সাইফুল সিদ্দিকী বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন বলে সাইফুল নিজে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন। সেখানে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর এই যোগদান অনুষ্ঠানে ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী ছাড়াও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে সাইফুলের এই দাবির পরপরই কুলাউড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাইফুলের বিতর্কিত ভূমিকা ও বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা। মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক হোসেনসহ বিএনপি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুলের বিএনপিতে যোগদানের পর কুলাউড়া উপজেলা ও ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন শাখা ও নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই চিত্র ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সমালোচনার মুখে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু জানান, “কয়েকদিন থেকে ফেসবুকে একটা সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আপনাদের সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি আমেরিকা থেকে সাইফুল আলম সাহেব আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে ফুল নিয়ে বিএনপি অফিসে আসেন এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশ অনুযায়ী বিএনপিতে যোগদান প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ।”
এমপি শকুর এই দলভুক্তির বিষয়টি অস্বীকার ও ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’-এর ব্যাখ্যার বিপরীতে সাইফুল সিদ্দিকীর ‘আনুষ্ঠানিক যোগদান’ এবং উপজেলা-ইউনিয়ন বিএনপির অভিবাদন জানানোর বিষয়গুলো কুলাউড়া রাজনীতিতে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।







