জামায়াত এমপির ওপর বিএনপির হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী বলে দাবি করে মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘আমি পাম্পে তেল নিতে গিয়েছিলাম। এ সময় প্রায় শ’ খানের লোক নিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহমেদ বাবুর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। আমার গাড়ি ভাঙচুর করে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় আমার কর্মীসমর্থকেরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।’
জানা গেছে, এ সময় মাছুম মোস্তফার ওপরে হামলা করা হয়। পরে জামায়াতের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মসজিদে নিয়ে যায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে পূর্বধলায় পৌঁছান মাছুম মোস্তফা। এ ঘটনার এক দিন আগে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন উত্তেজনামূলক স্লোগানে মিছিল করছিল।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে সংসদ সদস্যকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
জানতে চাইলে পূর্বধলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তাসনিম জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ দিয়ে আমার গাড়িতে উঠিয়ে সংসদ সদস্যকে উপজেলা সদরে পৌঁছে দেই।
সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নিয়ে পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ঘটনাটি কারা করেছে, তা আমার জানা নেই।’
এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো: বদরুল আমিন। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা একটি মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হোগলা ইউনিয়ন থেকে ফিরছিলেন। পথে উপজেলা সদরের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে গাড়ি রেখে মাগরিবের নামাজের জন্য স্থানীয় মসজিদে গেলে তার গাড়িতে শতাধিক লোক সন্ত্রাসী হামলা করে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি মসজিদ ঘেরাও করে সংসদ সদস্য ও তার সাথে থাকা লোকজন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
বিবৃতিতে জেলা জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি বলেন, ‘সারাদেশে এখন একটি সঙ্কট চলছে। এ সময় যারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না। এ ঘটনায় আমরা পুরোনো ফ্যাসিবাদের গন্ধ পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ ঘটনার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।’






