যুক্তরাজ্যে দুই শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সিলেটে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও ভয়ে পলায়ন
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষারত দুই বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সিলেটে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও নৃশংস শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় হিন্দু পরিবারের সদস্যরা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং চরম প্রাণভয়ে তারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এক মুসলিম পরিবারের সন্তান তাহিয়া সিদ্দিকা তুলি (২৩) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে (UK) অবস্থান করছেন। অপরদিকে, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার বাসিন্দা এক সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) পরিবারের সন্তান দ্বীপরাজ সেনাপতি (২২)-ও একই সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় তাদের দুইজনের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি তাদের এই সম্পর্ক জানাজানি হলে তরুণীর রক্ষণশীল পরিবারটি এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করে।
মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক এবং পরিবারের অমতে অবাধ্য হওয়ার বিষয়টি জানার পর তাহিয়া সিদ্দিকা তুলির পরিবার ও আত্মীয়-সংগঠন চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মেয়েকে প্রেমের প্ররোচনা দেওয়া এবং পারিবারিক ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ করার সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তরুণ দ্বীপরাজ সেনাপতির ওপর। এরই জের ধরে তরুণী তাহিয়া সিদ্দিকা তুলির বাবা, ভাই, চাচা এবং মামাসহ পরিবারের উগ্র পুরুষ সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বরে অবস্থিত হিন্দু তরুণ দ্বীপরাজ সেনাপতির গ্রামের বাড়িতে অতর্কিত ও ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা পুরো বাড়ি জুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে তাহিয়া সিদ্দিকা তুলির পরিবার তার প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। তার প্রতি চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পরিবার জন্য এটি লজ্জাজনক। তারা বলেন, তাহিয়া সিদ্দিকা তুলি যেদিন বাংলাদেশে ফিরে আসবে সেদিন তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। এঘটনায় তাহিয়া সিদ্দিকা তুলি চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে।
হামলাকারীরা বাড়িতে অবস্থানরত দ্বীপরাজ সেনাপতির নিরপরাধ পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালায়। উক্ত হামলায় হিন্দু ছেলের পরিবারের মানুষ অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হন। এই বর্বরোচিত নির্যাতনের পর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ে তারা নিজেদের পৈতৃক বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে বাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য ও থমথমে অবস্থায় রয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত প্রাপ্তবয়স্ক দুই শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়ের জের ধরে বাংলাদেশে তাদের নিরপরাধ পরিবারের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা, গুরুতর জখম ও বাড়ি ছেড়ে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে ভীতিকর পরিবেশ থাকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।







