কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল ৫ প্রবাসীর প্রাণ, কানাইঘাটে শোকের মাতম
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল ৫ প্রবাসীর প্রাণ,দেশের বাড়ী কানাইঘাটে শোকের মাতম চলছে।জানা যায়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে স্বপ্ন পূরণের আশায় তার পাড়ি জমিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে।কিন্তু জীবিকার সেই সংগ্রামই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল পাঁচজন প্রবাসী বঙ্গালীর জীবন।কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ তরুণ প্রবাসী।মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে।
গত রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কাদির আহমদের বাড়ী উপজেলার ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামে।সে ঐ গ্রামের আব্দুন নুর এর পুত্র।কাদির আহমদের বাবা জানান,চার বছর আগে সংসারের অভাব দূর করতে কাতারে গিয়েছিলেন তার ছেলে। আগামী মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু জীবিত নয়,লাশ হয়েই ফিরতে হচ্ছে আমার ছেলেকে।
নিহত জুবায়ের আহমদ উপজেলার ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আগতালুক গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার পুত্র।তার গল্প যেন আরও বেশি হৃদয়বিদারক।বাবার মতোই প্রবাসে নিভে গেল জুবায়েরের জীবন প্রদাীপ।প্রায় ১৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসেই মারা যান তার বাবা। সেই শোক বুকে নিয়েই বড় হয়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন জুবায়ের।বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন গড়তে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,বাবার মতো তিনিও প্রবাসের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
তার মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,স্বামীকে হারিয়েছি বিদেশে,এবার ছেলেকেও হারালাম।আল্লাহ আমার সবকিছু নিয়ে গেলেন।অপেক্ষা ছিল বাবার ফেরার,কিন্তু ফিরবে নিথর দেহ।জুবায়েরের ছোট্ট সন্তান এখনো জানে না, তার বাবা আর কোনোদিন ঘরে ফিরবেন না। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগেও ফোনে কথা হয়েছিল। দেশে ফিরে সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
নিহত মস্তাক আহমদ (২৭) আগতালুক গ্রামের আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের পুত্র। তার বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।
নিহত জসিম উদ্দিন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র।তার বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।দুই শিশুসন্তানকে বুকে জড়িয়ে আহাজারি করছেন তার স্ত্রী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহত জিবাল আহমদ (৩৫) ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের আব্দুন নুর এর পুত্র।তার বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।স্বজন হারানোর আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তারা। পথে তাদের বহনকারী একটি পাজেরো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
এ ব্যপারে ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর জানান, নিহতদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্য।তিনি ঘটনার খবর পেয়ে নিজেই শোকাহত হয়ে পড়েছেন। নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকাহত পরিবার গুলোকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।তবুও স্বজন হারানোরর আর্তনাদ সহ্য করার মতো নয়।চেয়ারম্যান আবু বকর মরদেহগুলো দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দানের জন্য আহবান করছেন। তিনি আরও জানান,মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার বিকালের দিকে কানাইঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তাপস চক্রবর্তী তুশার খাদ্য সামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এঘটনায় কানাইঘাট উপজেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।







