অপহরণ করে বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন, প্রতিবাদে মানববন্ধন
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নে সুমারাই গ্রামের কৃষকদল নেতা তোফায়েল আহমদকে অপহরণ করে বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। এই ঘটনার মূল হোতা ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুজ্জামান, তাঁর ভাই সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম জগলু এবং তাঁদের ভাই-ভাতিজাসহ প্রায় ১৫-১৬ জনের চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং তোফায়েল আহমদের পরিবারের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সচেতন নাগরিক ও তোফায়েল আহমদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য ও সুমারাই গ্রামের তোফায়েল আহমদ সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে বাড়ি ফেরার পথে পালপুর গ্রামের ফখরুজ্জামান ও তাঁর ভাই শফিউল আলম জগলুসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী পথরোধ করে। পরবর্তীতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তোফায়েলকে অপহরণ করে ফখরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অবরুদ্ধ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় আরেক দফা নির্যাতনের শিকার করা হয়। পরে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ফখরুজ্জামানের বাড়ি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তোফায়েলকে উদ্ধার করা হলে পড়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতা ফখরুজ্জামান ও তাঁর ভাই জগলু গংরা এভাবে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এক কৃষকদল নেতা ও এলাকার নির্দোষ মানুষের ওপর এমন নৃশংস ও অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অভিযুক্ত আখাইলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুজ্জামান, তাঁর ভাই শফিউল আলম জগলুসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী।







