সাপের কামড়ে মৃত্যুর তিন দিন পর জীবিত করতে ঝাড়ফুঁক
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যুর তিন দিন পর তাকে জীবিত করতে ঝাড়ফুঁক করেছেন ওঝা। উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে ওই নারীর কবরের একপাশে সামান্য মাটি খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে জীবিত করা সম্ভব।
নারীর কবরে লাল গামছা পেতে ওঝার ঝাড়ফুঁকের একটি ভিডিও শনিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সামলোচনা চলছে।
নিহত হাসনা বেগম (৫৮) উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকার প্রয়াত ওয়াজেদ আলীর মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন।
স্বজনরা বলেন, বৃহস্পতিবার সাপে কামড় দেওয়ার পর স্বজনরা হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে তার মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলাণপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামের এক ওঝা সেখানে আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি।
তিনি কবরের একপাশে সামান্য সুড়ঙ্গের মত করে মাটি খুঁড়ে সেখানে গন্ধ শুঁকে দেখেন। পরে দাবি করেন, তিনি তেলের গন্ধ পেয়েছেন। তার এ দাবিতে উৎসুক কয়েকজন মানুষও কবরের পাশে গিয়ে গন্ধ শুঁকার চেষ্টা করেন।
পরে ওঝা গাজী মিয়া নিহতের মেয়ে খালেদা বেগমকে বলেন, মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের পাশে আসবেন। তখন কবরের গন্ধ শুঁকে যদি দুর্গন্ধ না পাওয়া যায়, তাহলে মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব হবে। তবে লাশে পচন ধরে গেলে তাকে আর জীবিত করা সম্ভব হবে না।
খালেদা বেগম বলেন, “মাকে জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষাও করছিলাম। কিন্তু ওই ওঝা আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, রাতে ধ্যানে বসে তিনি দেখেছেন মা বেঁচে নেই। এখন আশাহত হলাম।”
ওঝা গাজী মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গতকালও (শনিবার) ওই নারী জীবিত ছিলেন। এখন ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়; তিনি চলে গেছেন।”
তবে পুরো বিষয়টিকে ‘হাস্যকর আর অকল্পনীয়’ বলেছেন সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকে পুলিশের দেওয়া উচিত।
“এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সাপে কাটার পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টি ভেনম ভ্যাকসিন রয়েছে।”







