শিক্ষাথীরাই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি: জেলা প্রশাসক
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, কৃতি শিক্ষাথীরাই আগামীর মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন এবং নৈতিক আদর্শে বলীয়ান একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের এই অর্জন তোমাদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং তোমাদের অভিভাবকদের ত্যাগের ফসল। জিপিএ-৫ পাওয়া অবশ্যই আনন্দের, তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না। মনে রাখবে, এটি তোমাদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি ধাপ মাত্র। আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে এখন থেকে। তোমাদেরকে অবশ্যই মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং শিক্ষক ও পিতা-মাতার কথা শুনে নিজেদের স্বপ্নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
‘মেধার স্বীকৃতি, আগামীর অনুপ্রেরণা— হোক স্বপ্নপূরণের দৃঢ় অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে ছাতক সমিতি সিলেট-এর উদ্যোগে এসএসসি এবং দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ‘মেধার জয়োল্লাস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাতক সমিতি সিলেটের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল জলিল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং ছাতক সমিতি সিলেটের উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা, জাহিদপুর উইমেন্স কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা অধ্যক্ষ ছানাওর আলী কয়েছ, ভাঁতগাও আইডিয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ শামীম আহমদ, সমিতির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি জনাব আ ন ম ওহিদ কনা মিয়া, উপদেষ্টা রুহুল ফারুক ও সহসভাপতি অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ। ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা মেধার জয়োল্লাস-২৬’ উপকমিটির আহ্বায়ক এ. টি. এম. তারেক-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছাতক সমিতি, সিলেট-এর সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদিকুর রহমান ছাদিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কেরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আল মামুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং ছাতক সমিতির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি জনাব নাসিম হোসেইন বলেন, “ছাতক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। আজকের এই আয়োজন তরুণদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাবো, তোমরা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে এবং মেধা ও সততা দিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে।
উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল হান্নান, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ খসরুজ্জামান, সহ-সভাপতি যথাক্রমে দবিরুল ইসলাম, নুরুল আলম, মো. রকিব উল্লাহ, মো. আবুল কাশেম, আবু সালেহ ইয়াহিয়া, এস.এম ছমরু মিয়া, মোঃ শফিক মিয়া, এড. মো. ছায়াদুর রহমান, এডভোকেট শফিক মিয়া, নির্বাহী সদস্য রোটা. মো. আশরাফুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ কবির মিয়া, মো. এনামুল হক রুবেল, তোফায়েল আহমদ, মো: ফজলুর রহমান রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল হক শাহীন, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. সায়েম আহমদ, এস এম আমজাদ, রাহেল আহমদ, এডভোকেট মনির উদ্দিন, এড সাজ্জাদুর রহমান,জনাব বারীন্দ্র দাস সজীব, জনাব শেখ ফরহাদ আহমদ (গাজী মিল্টন), শফিক নুর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম সেফুল, সৈয়দ মনসুর আলী, মোঃ ওসমান আলী, আনোয়ার হোসেন রাজু, শাহ মোহাম্মাদ শাকিল, লিটন মিয়া, প্রচার সম্পাদক জনাব এস এম জিতু মুন্না, সহ-প্রচার সম্পাদক সেপার আহমদ,দপ্তর সম্পাদক তানবির আহমদ জুয়েল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জুবায়ের আহমদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু শামীম, পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল মালিক রুভেজ, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক অলিউর রহমান আলেক, জন সংযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু জাবের, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদিকা লিপি বেগম, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. উসমান গনি (কাছন), সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, ফুজায়েল বিন হাবীব, সদস্য ছিদ্দিকুর রহমান, হেলাল মিয়া, জুবায়েল আহমদ, হেলাল আহমদ, এনাম আহমদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৬০ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে সম্মাননা সনদ, নগদ অর্থ ও আকর্ষণীয় উপহার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।







