পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও ক্লান্ত লাগছে, কেন এমন হয়
সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব অনেক। চিকিৎসকরা টানা ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেন। তবে অনেক সময় দেখা যায় পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তিভাব যায় না অনেকের। বিষয়টা নিয়ে একটি পডকাস্টে কথা বলেছেন ডা. মার্ক হাইম্যানের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ডা.অ্যান্ডি গ্যালপিন। মূলত অ্যান্ডি গ্যালপিন বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
কেন ৮ ঘণ্টা ঘুমের পরও ক্লান্তি যায় না
বর্তমান সময়ে অনেকেই বলেন ৮ ঘণ্টা ঘুমালেও তাদের ক্লান্তি শেষ হচ্ছে না। এ বিষয়ে ডা.অ্যান্ডি গ্যালপিন জানান, তারা পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছে কিন্তু এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয় না। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা.অ্যান্ডি গ্যালপিন বলেন, আসলে তারা দাবি করে যে প্রতিদিন ৮ থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা ঘুমায় কিন্তু ক্লান্তি থেকে যায়। কিন্তু এটাও বলে যে তাদের সোশ্যাল জেট ল্যাগ ছিল। আর সোশ্যাল জেট লেগ হচ্ছে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা ইন্টারনাল বডি ক্লক এবং সামাজিক কর্মসূচি মধ্যকার সময়ের অমিল বা অসঙ্গতি। তাই ছুটির দিনে ঘুমের সময় পেলেও পুরো সপ্তাহের চাপ থেকে দূরে থাকতে রাত করে ঘুমান অনেকে আর এতে যেন ক্লান্তি কাটাতেই চায় না।
স্লিপ জেট লেগ কি
পুরো সপ্তাহে কাজের চাপে আমরা নিয়ম মানতে যেন বাধ্য। দেখা যায়, সকাল ৯ টায় অফিস, তাই আপনি প্রতিদিন ১১ টায় ঘুমান আর সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠেন। কিন্তু ছুটির দিনেই সবটা বদলে যায়। যেহেতু পরদিন সকালে উঠবার তাড়া নেই তাই আপনি রাত ২টা পর্যন্ত জাগেন আর সকাল ১০ টায় জাগছেন। হ্যাঁ, এতে আপনি ঠিকই ৮ ঘণ্টা ঘুমাছেন, কিন্তু নিয়মের পরিবর্তন ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। আর এটাই স্লিপ জেট লেগ বলেছেন ডা.অ্যান্ডি গ্যালপিন।
আমরা অনেকেই ছুটির আগের দিন জেগে থাকি ছুটির কাজের চাপ থেকে দূরে থেকে রিলাক্স করতে। আর তে আমরা ভেবে নেই ভালো হচ্ছে। তবে এটা মোটেই ভালো নয়। আপনি ঠিকই ৮ ঘণ্টা ঘুম পাচ্ছেন, কিন্তু নিয়ময়ের এই পরিবর্তন ক্লান্তির মাত্রা যেন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
ঘুমের নিয়মিত অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা ঘুমের গুণমানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর একেকদিন একেক সময় ঘুমালে তার প্রভাব শরীরে দেখা দেয়। যাদের বয়স বেশি তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। দেখা যায়
অ্যান্ডি ব্যাখ্যা করেছেন যে ২০ বছর বয়সী, এমনকি ৩০-এর দশকের শুরুর দিকের মানুষেরা স্লিপ জেট ল্যাগ সামলে নিতে পারে। তবে, যারা এই বয়স পার করেছেন, তাদের জন্য এটি সত্যিই সহজ নয়। ডা. অ্যান্ডি বলেন, পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার গুরুত্ব অনেকেই বুঝতে পারেন না। প্রতিদিন দিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা দারুণ অভ্যাস।
তাই ক্লান্তি কাটাতে আপনি কত ঘণ্টা ঘুমালেন কেবল সেটি নয়, নিয়ম মানছেন কিনা সেদিকেও নজর দিন। ছুটির দিন মানেই রাত জেগে সকালে বেলা করে জাগা নয়। এটা আপনাকে আনন্দ দিতে পারে কিন্তু ক্লান্তি কাটায় না। যা পরে নানান সমস্যা তৈরি করতে পারে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস







