সীমান্তে আটদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পাঁচ যুবক
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত এলাকায় এক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের শিকার পাঁচ যুবক টানা আট দিন ধরে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সকালে, যখন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ওই পাঁচ যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি তাদের নাগরিকত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ না থাকায় গ্রহণ করতে আপত্তি জানায় এবং বাধা প্রদান করে। এরপর থেকেই রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন ওই যুবকরা।
বর্তমানে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে তারা দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়ে গেছেন। না পারছেন ভারতে ফিরে যেতে, না পারছেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে। সীমান্তের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটালেও তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক উপায়ে এই সংকটের সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। তবে ঠিক কত দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।







