২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি নিবেদন ও তাঁর বাল্যলীলার স্মরণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে সিলেটে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সিলেট মন্দিরে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ উৎসব চলবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় গৌর আরতির পর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদনের আয়োজন করা হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বৈষ্ণবীয় ঐতিহ্যে কার্তিক মাস দামোদর মাস হিসেবে পরিচিত। এ মাসে ভক্তরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে ঘিয়ের প্রদীপ নিবেদন করেন, দামোদর অষ্টকম কীর্তন করেন এবং তাঁর অপ্রাকৃত লীলা স্মরণ করেন। বৈষ্ণবদের কাছে এ মাস ভক্তি, প্রার্থনা ও সাধনার বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত।
অমল পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার সঙ্গে দামোদর নামের সম্পর্ক রয়েছে। একদিন বালক কৃষ্ণ দুধের পাত্র ভেঙে পালিয়ে গেলে মা যশোদা তাঁকে ধরতে ছোটেন। পরে স্নেহের বন্ধনে তিনি কৃষ্ণকে কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধেছিলেন। ‘দাম’ অর্থ দড়ি এবং ‘উদর’ অর্থ পেট। কোমরে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল বলে শ্রীকৃষ্ণের নাম হয় দামোদর। বৈষ্ণবীয় ব্যাখ্যায় এ লীলা ভগবানের প্রতি ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বাৎসল্য প্রেমের মহিমা প্রকাশ করে।
ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেট মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, “দামোদর মাস ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ ভক্তি নিবেদনের এক বিশেষ সুযোগ। এ মাসে প্রদীপ নিবেদন, হরিনাম সংকীর্তন এবং ভগবানের লীলা শ্রবণ ও স্মরণের মাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের কৃষ্ণভাবনাকে আরও গভীর করতে পারেন। ভক্তিপূর্ণ চিত্তে ভগবানের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদন করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের প্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, দামোদর মাসের মাহাত্ম্য মানুষের মধ্যে ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ মাসে ভগবানের নাম শ্রবণ, কীর্তন ও স্মরণের পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গ এবং পারমার্থিক জীবনচর্চায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ইসকন সিলেট মন্দিরের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস বলেন, “দামোদর দীপদান উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি জাগ্রত করা এবং বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতির শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমরা চাই, ভক্তদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এ উৎসবের তাৎপর্য জানুক। সবাই মন্দিরে এসে প্রদীপ নিবেদন, কীর্তন ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তিময় পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।”
ইসকন সিলেট সূত্রে জানা গেছে, উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য মন্দিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় গৌর আরতির পর প্রদীপ নিবেদন করা হবে। এ সময় ভক্তরা দামোদর অষ্টকম কীর্তন,পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা শ্রবণ ও প্রার্থনায় অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহী দর্শনার্থীদেরও এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদন করলে ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়। দামোদর মাসে ঘরে বসেও পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চিত্রপট বা বিগ্রহের সামনে প্রদীপ নিবেদন, হরিনাম সংকীর্তন ও তাঁর লীলা স্মরণের মাধ্যমে এ ব্রত পালন করা যায়।
আগামী ২৪ নভেম্বর সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব।







