শাবিতে অভ্যুত্থান দিবস পালনে পক্ষপাতের অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ আয়োজনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বসহ প্রশাসনের নানা অফিসিয়াল কাজে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলা থেকে বিক্ষোভটি শুরু হয়ে গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভে ‘লাখো শহিদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না’, ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও, লড়াই করো’, ‘ভুয়া ভুয়া, প্রশাসন ভুয়া’, ‘লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘জুলাইয়ের গাদ্দাররা, হুশিয়ার সাবধান” ইত্যাদি স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আজকের আলোচনা সভায় গিয়ে দেখি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাই অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা করছে। তাদের একজনকে অনুষ্ঠানের সমন্বয়তার দায়িত্ব দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুষ্ঠানের সূচনা, খাবার ব্যবস্থাপনাসহ সব কিছুতেই বৈষম্যবিরোধী নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।”
তিনি বলেন, “৫ অগাস্ট পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিলো সব দল-মতের ছাত্রদের ব্যানারে। কিন্তু পরে তারা যখন সরাসরি রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে, তখন সেই ব্যানার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তারপরও প্রশাসন তাদের একচেটিয়া সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড ব্যবহার করে তারা ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছে।”
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন,“আজকের প্রোগ্রামটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটা প্রোগ্রাম। অথচ আজকের এ প্রোগ্রামে আমাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার মাধ্যমে। প্রশাসন তাদেরকেই বারবার নানা ফান্ড ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৫২ জনের মতো কর্মী শহীদ হয়েছিল। অথচ আমরা দেখছি, প্রশাসন একটি গোষ্ঠীকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দিয়ে ছাত্রদলের সাথে বৈষম্য করছে।”
এ অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক এছাক মিয়া বলেন, “আজকের প্রোগামের সঞ্চালনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। সমন্বয়ক পবনকে শুধুমাত্র শহীদ পরিবারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য স্টেজে কথা ডাকা হয়, যেহেতু সে তাদের সাথে যোগাযোগের করে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আর খাবারের দায়িত্ব ছাত্রদেরকে দেই। আমি যেহতু ছাত্রদের সাথে সম্পর্কিত সেহেতু আমি কিছু ছাত্রদের নিয়ে কাজ করে নিয়েছি। কিন্তু ফান্ডিং সহ সব খরচও আমার অফিস থেকে হচ্ছে এবং আমি তাদেরকে দিয়ে খরচ করিয়ে নিয়েছি।” “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে কোন প্লাটফর্ম এখন নাই, যারা আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল ও আগ্রহ দেখিয়েছে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং অন্যরা এইভাবে আগ্রহ দেখায়ও নাই। তাই সংযুক্ত করা হয় নাই।”
এর আগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরী সঞ্চালনায় ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক এছাক মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন।
এছাড়া এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, বিভাগের প্রধান, শিক্ষার্থী, জুলাই অভ্যুত্থানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এরআগে অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কট করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এদিকে অনুষ্ঠান শেষে দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্য সভা থেকে বের হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় পয়েন্টে ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েন তিনি।
এসময় উপাচার্য তাদের সাথে বসার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটি হইতো নিয়মের কিছু বত্যয় ঘটিয়েছে, তাই ছাত্রদল এরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টা নিয়ে প্রশাসন বসবে”।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও উপ উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম চৌধুরী।
এরপর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালরে কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই শহীদদের স্মরণে শোকরানা ও দোয়ার মাহফিল আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সন্ধ্যায় থেকে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি আবাসিক হলে রাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ভোজনের আয়োজন করে হল কর্তৃপক্ষ।








