ব্রিজ এখন মরণ ফাঁদ!
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর থেকে সীমান্তের ৪ ইউনিয়নে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা শরীফপুর ব্রিজ। প্রতিদিনই লাখো মানুষ যাতায়াত করেন এই ব্রিজ দিয়ে কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের খামখেয়ালি ও অবহেলার কারনে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলাচল করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে ব্রিজটির একাধিক স্থানে রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সম্প্রতি নতুন করে আরও বেশ কয়েকটি অংশে রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাটাতনের ভাঙন আগের মতোই রয়ে গেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পাটাতনের ফাঁক দিয়ে কারো পা ঢুকে গেলে স্থায়ী পঙ্গুত্ব কিংবা প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসতে পারে।
স্থানীয় মাসুদ রানা জানান, জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এই ব্রিজ নিয় কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সীমান্তসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ পথ হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেই প্রতিদিন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় আব্দুল হামিদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজটি এখন চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে, এর পরও প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করছে, যে কোন সময় ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ হলেও প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ নেই। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মেওয়া না হলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেছেন, দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি মনে করছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
এখানে নতুন করে ব্রিজ নির্মান এবং আপাতত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষের জানমাল রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরূপ রতন সিংহ বলেছেন, ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে সংষ্কারের জন্য এডিপির বরাদ্দ হয়েছে, তবে এখনও টেন্ডার হয়নি।








