বর্ষায় জলাবদ্ধতা, জকিগঞ্জে এক সড়কের দুর্ভোগে ৫ গ্রাম
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরী, সকড়া, ইলাবজ, হালঘাট ও এলংজুরী—এই পাঁচটি গ্রাম যেন উন্নয়নের নেটওয়ার্কে থেকেও বাস্তবে বিচ্ছিন্ন এক জনপদ।
চারপাশে পাকা সড়কের সংযোগ থাকলেও মাঝখানের মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অনুন্নত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবুর বাজার থেকে মজলি ও বিলপার হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে।
একইভাবে থানাবাজার থেকে পাঠানচক ও বিলপার হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত আরেকটি পাকা সড়ক চালু রয়েছে। কিন্তু এই দুই সড়কের মাঝখানে থাকা গ্রামগুলো সরাসরি সংযোগ সড়কের অভাবে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ফলে অল্প দূরত্ব হলেও মানুষকে ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ব্যাহত হয়। শুকনো মৌসুমেও সড়কের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ অঞ্চলের প্রায় ১৬টি গ্রামের মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকেরা জানান, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় তারা নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক সময় পরিবহন সংকটের কারণে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এলাকার শিক্ষার্থীরা জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, থানাবাজার লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, এলংজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ, জকিগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রায় ২৩০ বছরের পুরোনো সকড়া জামে মসজিদে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে অনেকেই নিয়মিত নামাজে অংশ নিতে পারেন না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, “দীর্ঘদিন এলাকাবাসী নিজেদের টাকায় কোনোভাবে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী রেখেছিল। কিন্তু এখন সেটিও আর সম্ভব হচ্ছে না। সাতঘরী ব্রিজ থেকে সকড়া জামে মসজিদ হয়ে এলংজুরী পর্যন্ত অংশটি পাকা হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।”
একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন সকড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম। তিনি বলেন, “এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অসুস্থ রোগী নেওয়াও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখেও পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।”
স্থানীয়দের মতে, অন্তত মসজিদসংলগ্ন অংশসহ প্রায় আধা কিলোমিটার হ্যারিজবল্ড ইট সলিং করা হলে সাময়িকভাবে হলেও চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরো এক কিলোমিটার সড়ক দ্রুত পাকাকরণ জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, সাতঘরী ব্রিজ থেকে সকড়া জামে মসজিদ হয়ে এলংজুরী পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কটি দ্রুত পাকা করা হলে বাবুর বাজার ও থানাবাজার থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের তথ্যমতে সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তালিকায় রোড আইডি নম্বর ৬৯১৯৪৪১২৮ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।







