বাহুবলে ভাড়া বাসায় ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’, চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা অভিযোগ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাতে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত ও কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহুবল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেনের বিরুদ্ধেও উঠেছে নানা অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিকের দাবি, কথিত দুই প্রেমিকার বিরোধের জেরে এক নারী ভাড়াটিয়ার স্বামীকে চেয়ারম্যান আজমল হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা মুখোশ পরা এক ব্যক্তি মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও বাড়ির মালিক হান্নান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ এলাকায় তাঁর একটি ভাড়া বাসায় দুই নারী বসবাস করেন। তাঁদের স্বামীরা চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় এলাকার বাইরে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে রাতে ওই বাসায় বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত রয়েছে।
হান্নান মিয়া জানান, সম্প্রতি ওই দুই নারীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে এক নারী চেয়ারম্যান আজমল হোসেনকে খবর দেন বলে তিনি জানতে পারেন। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুখোশ পরা আরও একজন ওই বাসায় যান। সেখানে এক নারী ভাড়াটিয়ার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
বাড়ির মালিকের ভাষ্য, ওই ব্যক্তিকে প্রথমে তাঁর ভাড়াটিয়ার কক্ষ থেকে বের করে অন্য একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যান ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি দ্রুত বাসায় উপস্থিত হন।
হান্নান মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগে আমার একজন ভাড়াটিয়া ফোন করে জানান, বাসায় পুলিশ এসেছে। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পরে জানতে পারি, আমার ভাড়াটিয়া মহিলার স্বামীকে চেয়ারম্যান আজমল হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা মুখোশ পরা একজন মারধর করেছেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও ওই বাসার এক নারী ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চেয়ারম্যান আজমল হোসেনের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি বাসাটির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরে চেয়ারম্যান মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হান্নান মিয়া জানান, সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি এলাকার কয়েকজন বাড়ির মালিকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নারী ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্যও বলেছেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মদ্যপান ও মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন। তাঁদের দাবি, তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন ভাড়া বাসায় গিয়ে নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বাহুবল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







