বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল: মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল আজ শুধু একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি মানবসেবা, আস্থা এবং প্রবাসী-স্বদেশবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগের এক অনন্য প্রতীক। দেশে-বিদেশে এই হাসপাতালের পরিচিতি ও সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়।
আমি হাসপাতালের একজন লাইফ মেম্বার হিসেবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সময়, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে হাসপাতালের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে আমি সবসময় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি—এই প্রতিষ্ঠান যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা পাবেন। কিছুদিন আগে আমার এক সহকর্মী, যিনি একজন তান্দুরি শেফ, আমাকে জানালেন তাঁর বড় ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি জানতে চাইলেন, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মাধ্যমে কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শ পাওয়া সম্ভব কি না।
আমি হাসপাতালের এমডি ও সিইও এম শাহাবুদ্দিন মামার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি রোগীর নাম ও মোবাইল নম্বর দিতে বলেন। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতালের ম্যানেজার অলিউর রহমান রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন।
রোগী হাসপাতালে যাওয়ার পর অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। পরে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় ঢাকার একজন খ্যাতিমান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার, যিনি নিয়মিত সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে রোগী দেখেন। শুধু পরামর্শ দিয়েই কর্তৃপক্ষ থেমে থাকেননি; হাসপাতালের ম্যানেজার নিজ উদ্যোগে সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতেও সহযোগিতা করেন।
পরবর্তীতে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতাল ফাউন্ডেশন থেকে রোগীকে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। রোগীর পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই মানবিক সহযোগিতা ও আন্তরিক আচরণের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের সেই ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দোয়া আমার কাছেও পৌঁছেছে, যা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
সম্প্রতি আরেকটি অভিজ্ঞতা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। আমার এক আত্মীয়, যিনি ক্যান্সার রোগী নন, শারীরিক সমস্যার কারণে ঢাকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জানান, তিনি নিয়মিত বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অত্যাধুনিক ও মানসম্মত এই সেবার জন্য মাত্র ৪০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে অনেক সময় সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে তাঁর ভাষায়, এখানকার চিকিৎসা ও সেবার মান অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং তিনি নিয়মিত উপকার পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাসপাতালটিতে বিশ্বমানের ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হয়েছে। এর উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য জনাব ইমরান আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনাব আরিফুল হক চৌধুরী এই সেবার আধুনিকতা ও মানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত অনেক সদস্যকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তাঁদের অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে নিরলসভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন কখনো ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক মন্তব্য দেখি, তখন সত্যিই কষ্ট লাগে।
আমি বিশ্বাস করি, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া উচিত। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, ন্যায়সংগত এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করতে হলে তার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি হাজারো মানুষের জীবনে আনা ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ইতোমধ্যেই অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অনেক অসহায় পরিবার এখানে চিকিৎসা, পরামর্শ এবং আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। মানবসেবার এই মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সবশেষে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাস্টি, পরিচালনা পর্ষদ, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দাতা, দেশ-বিদেশের সকল শুভানুধ্যায়ী এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া রইল। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের এই মানবিক প্রচেষ্টাকে কবুল করেন ও বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালকে তার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে আরও সাফল্য দান করেন। আমিন







