প্রসঙ্গ এনসিপির কর্মসূচি এবং কাইয়ুম চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এনসিপির কোনো সভা-সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য, কটূক্তি কিংবা রাজনৈতিক প্ররোচনা এলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যেন পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখান। এ বিষয়ে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সভা-সমাবেশ করবে। এ সময় তারা যদি বিএনপির কোনো নেতা বা দলকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বা কটূক্তিমূলক বক্তব্যও দেয়, তবুও আমাদের কোনো নেতাকর্মী উত্তেজিত হবেন না।’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চায় এনসিপির সব সভা-সমাবেশ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন হোক। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার সবার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন, যে উপজেলাতেই এনসিপির সভা অনুষ্ঠিত হোক না কেন, সেখানে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন না এবং দলীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সিলেটে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। সকাল থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘এনসিপি ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে হেতিমগঞ্জের দিকে রওয়ানা দেন। তবে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার পর আনুমানিক বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা গেটসংলগ্ন নূর ম্যানশনের সামনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময়ও গাড়িবহর ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
হামলায় কেউ আহত হননি বলে জানা গেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে হেতিমগঞ্জে নির্ধারিত দুপুরের খাবার না খেয়ে এনসিপির নেতারা সিলেট সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। এ সময় হেতিমগঞ্জ বাইপাস এলাকায় তাদের গাড়িবহরে দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে বিকেল ৫টার দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটের কানাইঘাটে নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এদিকে গোলাপগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হলেও পরবর্তী কর্মসূচিগুলো যাতে কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম না দেয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা এবং নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশনাকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এনসিপির পরবর্তী কর্মসূচিগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সংযম প্রদর্শন করে, সেদিকেই নজর সবার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনার মধ্যেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার এই বার্তা সিলেটের রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।






