দিরাইয়ে স্কুল নির্মানের নামে মানব পাচারকারী’র বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎতের শোরগোল
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের উমেদনগর গ্রামে বোরহান উদ্দিন নামক এক ব্যাক্তি স্কুল নির্মাণের নামে টাকা আত্মসাৎ নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জৈনিক বোরহান উদ্দিন একজন মানব পাচারকারী দলের সদস্য তিনি দীর্ঘদিন যাবত ঢাকা শহরে অবস্থান করে মানব পাচারের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এলাকার উঠতি বয়সের যুবকদের ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে , ইরান, লিবিয়া, ও মধ্যপাচ্য দেশে নিয়ে এলাকার কিছু যুবকদের আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। অনেকে আবার মাফিয়াদের হাতে বন্দী হয়ে বাড়ি বিক্রি করেও দিয়েছেন। ইদানীং তিনি স্কুল নির্মানের নামে বিভিন্ন মহল থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করে নিজের পকেট ভারি করছেন। উমেদনগর গ্রামের এক প্রবীণ মুরুব্বী জানান, আমাদের গ্রামে স্কুল নির্মান হয়েছে ভালো কথা, আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। কিন্তু স্কুলের নামে নিজের পকেট ভারি করা এটা আসলেই মন্দনীয়। ইদানীং লোক মুখে শুনতে পারছি আমাদের গ্রামের বুরহান উদ্দিন বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে স্কুল নির্মাণের নামে পয়সা উত্তোলন করে নিজেই খাচ্ছেন। লন্ডন, আমেরিকা সহ অনেক লোকজন জানিয়েছেন স্কুলে টাকা দিয়েছেন, কিন্তু স্কুল ভবনের অবস্থা দেখলে মনে হয় উত্তোলনকৃত চাঁদা আদায়ের এতো টাকা যায় কোথায়,। নিশ্চয়ই তিনি স্কুলের নাম ধরে বিভিন্ন মহল থেকে টাকা আদায় করে নিজেই খাচ্ছেন।
উমেদনগর গ্রামের এক যুবক জানান, আমরা জানি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সার্বজনীন হয়। কিন্তু আমাদের গ্রামের নতুন স্কুলটি লাগছেতেছে একক মালিকানা কোন প্রতিষ্ঠান। আমার দেখা মতে সব স্কুলেই ম্যানেজিং কমিটি আছে। কিন্তু আমাদের স্কুলে কোন ম্যানেজিং কমিটি নেই। তার কারণ নিশ্চয় এলাকাবাসী অবগত। আমাদের গ্রাম ও অত্র এলাকার মানুষদের তোয়াক্কা না করে বোরহান উদ্দিন নামের একজন লোক স্কুলের নামে দেশ- বিদেশের অবস্থানরত লোকদের কাছে থেকে টাকা তুলে তুলে নিজের পকেট ভারি করতেছেন। অনেক জায়গায় থেকে ইতিমধ্যে আমাদের কাছে খবর এসেছে। শুনে আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি । উনি সহ যে বা, যাহারা স্কুলের নামে চাঁদা তুলে নিজেদের পকেট ভরছেন এসব সিন্ডিকেটের নিকট বলতে চাই শীঘ্রই জনসম্মুখে স্কুলের আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। আর স্কুলের নামে বোরহান উদ্দিন সহ যারা মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দিরাই উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এবং তাদের এই প্রতারনার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই৷
অনুসন্ধানে জানা যায়, বুরহান উদ্দিন ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি মানব পাচারকারী দলের সদস্য। ঢাকায় ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে উঠতি বয়সি গ্রাম গঞ্জের সাধারণ মানুষদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপের নামে লিবিয়া, ইরান, সিরিয়া’র মতো যুদ্ধবিগ্রহ দেশে পাঠান। এসব দেশে ইউরোপের আশায় গিয়ে অনেক মানুষ জান – মাল সহ সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেক আবার মাফিয়াদের জ্বালে আটকা পরে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়ে বেশ অর্থ ও দিয়েছেন। এসবের মূলহোতা ছিলেন বোরহান উদ্দিন। এলাকার অনেক জানিয়েছেন লিবিয়া যে লোকজন মৃত্যুবরণ করেছে। এবং যারা আটকা আছেন এই সিন্ডিকেটের সাথে বোরহান উদ্দিনের যোগাযোগ আছে বলে অনেকই দাবী করেছেন।
অনুসন্ধানে আরো, জানা যায়, দুই বছর আগে ১০১ শতাংশ জায়গা বোরহান উদ্দিন স্কুলের নামে দিয়ে দেন। পূর্বের কমিটি এই জায়গা বাবত বুরহান উদ্দিনকে ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। আটগ্রামের মানুষ মিলে ১২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর বুরহান উদ্দিন নিজের প্রভাব খাটিয়ে এই কমিটি বিলুপ্ত করে উক্ত জায়গার দাম নির্ধারণ করেন ৩৮ লক্ষ টাকা। এ দিকে ১২ লক্ষ মেরে দিয়ে দেশ বিদেশের মানুষকে বুঝিয়েছে তিনি ৩৮ লক্ষ টাকার জায়গায় একক ভাবে স্কুলে দিয়েছেন। এই ৩৮ লক্ষ টাকার জায়গায়কে মিথ্যা সাইনবোর্ড বানিয়ে তিনি দেশ ও প্রবাসের মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়েছন। এই নিয়ে উমেদনগর গ্রাম সহ সারা রাজানগর ইউনিয়নে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী স্কুল নির্মাণ ও বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে স্কুলের নামে অর্থ সংগ্রহের সম্পূর্ণ টাকার বোরহান উদ্দিন জনসম্মুখে হিসাব দিতে হবে।
এব্যাপারে বোরহান উদ্দিনকে একাধিক কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি। তাই উনার বক্তব্য আনা সম্ভব হয়নি।







