জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল
ইসলামে জাদুটোনা সম্পূর্ণ হারাম। এটি ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কুরআনেও জাদুটোনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সুলাইমান (আ.) কুফরি করেনি, বরং শয়তানরা কুফরি করেছে। তারা মানুষকে যাদু শেখাত…‘(সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)
অন্যদিকে হাদিসেও ধ্বংসাত্মক এই কাজ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
সেগুলো হলো— (১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, (২) জাদু করা, (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা, (৪) এতিমের সম্পদ (অন্যায়ভাবে) আত্মসাৎ করা, (৫) সুদ খাওয়া, (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সধবা, সরলমনা ও ঈমানদার নারীকে অপবাদ দেয়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪)
খোদ নবীজি (সা.) ওপরও একবার এক ইহুদি জাদু করেছিল। এর প্রভাবে রাসুল (সা.) কোনো কাজ না করেও তাঁর মনে হতো তিনি সেই কাজটি করেছেন। পরে মহান আল্লাহর নির্দেশে দু’জন ফেরেশতা নবীজির (সা.) চিকিৎসা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)
এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে জাদু-টোনার মতো ভয়ংকর বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা মিলবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম। পরে এক জায়গায় আমরা নবীজিকে (সা.) পেলাম। তখন তিনি (রাসুল সা.) বললেন- বল। আমি কিছুই বললাম না।
নবীজি (সা.) আবারও বললেন, বল। এরপরও আমি চুপ করে রইলাম। তারপর রাসুল (সা.) আবারও বললেন- বল। তখন আমি প্রশ্ন করলাম- কি বলব? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন- প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) তিনবার পাঠ করবে, তাহলে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৫)
এছাড়াও আরেকটি হাদিসে কালো জাদু বা জাদু-টোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে দোয়ার কথা এসেছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো- بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।
অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনান আত তিরমিজি: হাদিস: ৩৩৮৮)







