জুড়ীতে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পরিবারে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীরা
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলাতেও। উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিবুন খানম-এর পরিবার রাজনৈতিক কারণে স্থানীয়ভাবে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাদের ওপর ক্রমাগত মানসিক চাপ সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শন করা শুরু হয়। এমনকি একই দিনে তাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বাড়ি ছেড়ে সাময়িকভাবে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
প্রাথমিকভাবে তারা কুলাউড়া উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাসায় এক সপ্তাহ অবস্থান করেন। তবে সেখানেও রেহাই মেলেনি। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের ক্রমাগত চাপ, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও বিভিন্ন হুমকির মুখে গত ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তারা নোয়াখালীতে চলে যান এবং সেখানে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন।
পরবর্তীতে দেশের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলে, গত ১৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তারা নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে বাড়ি ফেরার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তাদের ওপর পুনরায় হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের কন্যা ছাত্রলীগ নেত্রী শেখ নাসরিন সুলতানা পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। মূলত এই রাজনৈতিক আক্রোশের জের ধরেই তার ওপর ধর্ষণের মতো পাশবিক ও বর্বরোচিত হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ড: শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহমান ও তার কর্মীরা এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বর্তমানে আহত ভুক্তভোগীরা সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। ফলে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিবারটি। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।







