১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস
মাদক প্রতিরোধ ঐক্য, একাতা অঙ্গীকার একমাত্রই প্রতিরোধ করা সম্ভব
আজ ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য স্লোগান হলো “দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ” সরকার ৮ মাসের সময় তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগ করেছেন। এই তরুণ প্রজন্ম গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদক প্রতিরোধ করতে তাহার নির্বাচনীয় এলাকায়। গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে মনের আবেগে কিবা কৌশল অবলম্বন করার জন্য সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী ব্যক্তিগত পিস্তল হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে যান। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মানুষের মাঝে ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়, যেমন তেমনি অনেকে এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। সে যেহেতু জনগনের ভোট নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তেমনি জনগণের কাছে জবাবদিহি প্রতিনিধি ইশরাক প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়ে ছিলেন। যখন সেই শপথ লেখা লাইন-অনুগ্রহ অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব। কিন্তু শপথ নীতির ভঙ্গ করেছেন সেই দিন, অনুচ্ছেদ ৫৮ (২) সরকার প্রধান যেকোনো সময় মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলতে বা অনুরোধ করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ওই জায়গাটিতে পুলিশ যেতে ভয় পায়, কারণ ছাদ থেকে গু’লি করা হয়। সেই মাদকের স্পটে যৌথ অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই নারীসহ ১৫ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ড ১০০ টাকা করে জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
গত দশ মাসে এই মাদক স্পটে ১৪০ বার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদকের কারখানা। সীমান্তে এতো নজরদারি তবুও কিভাবে মাদক আসছে নতুন নতুন কৌশলে। মাদক নিয়ে আসছে মাদক পাচারকারীরা ভারত ও মিয়ানমার ৮০% মাদক বিক্রি করে বাংলাদেশে কাছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসছে প্রতিনিয়ত আমাদের দেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় সিরাপ, বিদেশি মদ, ইয়াবা ও ভয়ংকর ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এই সব নেশা নিয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা এবং নিজের ভবিষ্যৎকে শেষ করছে যেমন তেমনি পরিবার সমাজ পরিবেশ ধ্বংস করছে। আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ ও সবজি বাজারের মতো দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বিক্রি করছে। পাড়া-মহল্লায় শহর থেকে গ্রাম মাদকের সেবনের দিনে দিনে অতিক্রম করার কারনে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অভিজাত শ্রেণীর সন্তানরা ও তরুণ যুবসমাজ, শিশু বিভিন্ন শ্রেণীর লোক ধ্বংসের মুখে নিজের জীবন ও যৌবন শেষ করছে। তেমনি অপরাধ মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাদের দেখাদেখি আশেপাশের বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিসহ অন্যরাও বিপদগামী হচ্ছে। মাদকের টাকা জন্য অপরাধ জগতে নাম লিখে বর্তমানে আমাদের দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ থেকে ৮৩ লাখ মাদকাসক্ত, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। জাতীয় গবেষণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরিপে মাদক প্রতিরোধ সরকার আইন কঠিন করেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মরণ নেশা মাদকদ্রব্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। তরুণ প্রজন্মের জীবন ধ্বংসের বর্তমানে অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর সামাজিক সমস্যা। প্রতিদিন মহাসড়ক, নদীপথ সীমান্ত আসছে মাদক বিক্রি সাথে জরিত ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় এনেও প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বার বার মাদক নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা আজ যেমন স্বপ্ন দেখি সকলে দেশ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে।
কবি বলেছেন যৌবন যার যুদ্ধ যাওয়ার সময় তাঁর, ২০২৬ সালে সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে যুব সমাজকে মাদক গ্রাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই বছর মাদক প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ওয়ার্ড এলাকায় ভিত্তিক সংগঠনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মিছিল ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কতটুকু প্রতিফলন হয়। সরকার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে মাদকাসক্ত ভালো আচার-ব্যবহার, নৈতিকতা ও সততার অনুশীলনকে সম্পর্কে কাউন্সিল করা পূর্ণবাসনের মাধ্যমে চিকিৎসা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে কর্মস্থলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করে দেওয়া। সীমান্তের মাদকের অবৈধ প্রবেশ পথগুলো ও মাদক পাচারকারী চিহ্নিত করে সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় নিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। নাম পরিচয় গোপন রেখে অপরাধী সম্পর্কে তথ্য ডিজিটাল অ্যাপস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ সংস্থাকে দেওয়া সরকার এই সম্পর্কে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের সচেতন করা। পাশাপাশি আমাদের সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকিলে ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিলে কঠোর আইন পদক্ষেপ গ্রহণ করা, ডিজে পার্টির আড়ালে অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধ করা।
আমাদের দেশে রোহিঙ্গাদের মাদক অপরাধ দমন করতে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উদ্যোগগুলো ভূমিকা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্বরোড, রেল স্টেশনে মাদকের চোরাচালান মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জনপ্রতিনিতি সাধারণ জনগণ সমন্বিত করে আধুনিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মাদকের সিন্ডিকেট, বড় গডফাদার, পাচারচক্র নেপথ্যের তথ্য অনুসন্ধান সাংবাদিক, লেখক, দায়িত্বশীল ভূমিকা সরকার মূল্যায়ন করা। মাদক মামলায় বিচার বিভাগ তদারকি করা। মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে মাদকমুক্ত আলোচনা করা। থানায় যেসব মাদক মামলা আছে তা জবাবদিহি করা। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর অধীন স্থানীয় সরকার মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যকে পাড়া মহল্লা, ওয়ার্ড নিয়ে মাদক প্রতিরোধ তথ্য প্রদান করার সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার উচ্চ কর্মকর্তাদের অবগত করা। মাদক সেবনকারী মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ধরিয়ে দিলে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার দেওয়া।
বাংলাদেশে যেসব দেশ থেকে মাদক চোরাচালান আসে আমাদের দেশে মাদক প্রবেশ করে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক পদক্ষেপ নেওয়া। পিতা মাতা অভিভাবক নিয়মিত প্রতিদিন একবার সন্তানের সঙ্গে সুন্দর ও বন্ধুত্ব পারিবারিক পরিবেশে সময় দেয়া, ধর্মীয় জ্ঞান ও ভালো কাজে মন মানসিকতা তৈরি করা, বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দেওয়া, সন্তানের বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে খবর নেওয়া, সাহিত্য খেলাধুলা এবং সামাজিক কাজে অনুপ্রণা দেওয়া। সবুজ শ্যামল একটি সমাজ রাষ্ট্রকে মাদক প্রতিরোধ হাতে হাত রেখে ঐক্য একাতা অঙ্গীকার একমাত্র মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব।







