শাহীন মিয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ: প্রবাসী কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রবাসীদের সুপরিচিত সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠন দিরাই-শাল্লা কালচারাল এন্ড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে-এর বার্ষিক সাধারণ সভা গত ২ জুন পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সভা শেষে ঘটে যাওয়া একটি সন্ত্রাসী সহিংস ঘটনার অভিযোগ পুরো প্রবাসী দিরাই-শাল্লা কমিউনিটিকে গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সভা শেষে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন জগনুর সঙ্গে কথা বলার সময় সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন মিয়ার ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দিরাই সাকিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র সেলিম সর্দার এবং দিরাই কামরীবীজ গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র আসাদুজ্জামান আক্তার হুসাইনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনও ধরনের উস্কানি ছাড়াই শাহীন মিয়ার ওপর অতর্কিতভাবে সেলিম সর্দারগং শিরিরীক ভাবে আক্রমণ চালায়। আকস্মিক এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাই অবাক ও হতবম্ভ হয়ে পড়েন; (ঐ সময় সবাই চেয়ারে বসা ছিলেন,) কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এগিয়ে আসার আগেই ঘটনাস্থল থেকে সেলিমগং দ্রুত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্সে খবর দিলে- খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ছলে আসে এবং আহত শাহীন মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। এম্বুলেন্সের প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুলিশ তার বক্তব্য গ্রহণ করে এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রেকর্ড করে।
পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শাহীন মিয়াকে তার বন্ধু ও স্বজনরা নিরাপদে কেমব্রিজে তার বাসায় পৌঁছে দেন। চিকিৎসাকর্মীরা তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে পরবর্তী চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে সক্রিয় তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় প্রবাসী দিরাই-শাল্লা কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একটি সামাজিক সংগঠনের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান শেষে এ ধরনের সহিংসতার অভিযোগ সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কমিউনিটির সচেতন মহল নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, যুক্তরাজ্যের আইনের শাসনের প্রতি আস্থা অটুট রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস না পায়।







