শান্তিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মূল কপিতে জমির চৌহদ্দি সঠিক থাকলেও অফিসের বালাম বহিতে তা পরিবর্তন করে লিপিবদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলিল সংরক্ষণ ও নিবন্ধন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মূল দলিল ও বালাম থেকে সংগৃহীত নকল পর্যালোচনায় জানা যায়, ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে দলিল নং-৬৬৫-এর মাধ্যমে পঞ্চাশ হাল মৌজায় ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন মোছা. করিমা আক্তার মিলি। মূল দলিলে জমির চৌহদ্দিতে পূর্বে ভিন্ন দাগের পুকুর, পশ্চিমে বৈষ্ণব চরন সড়ক, উত্তরে জগদীস তালুকদার এবং দক্ষিণে বিক্রিত দাগের অংশ উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে ১০ জুন ২০২০ তারিখে একই দাগে দলিল নং-৭৫৭-এর মাধ্যমে জমি ক্রয় করেন করিমার স্বামী মো. ফয়েজ উল্ল্যা। ওই দলিলেও মূল চৌহদ্দি উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালামে উভয় দলিলের চৌহদ্দি পরিবর্তিত অবস্থায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এ নিয়ে ফয়েজ উল্ল্যা সুনামগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং-৫৩৩/২০২১ দায়ের করেন। পরে জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপিল মোকদ্দমা নং-৬৭/২০২৪ দায়ের করা হয়। মামলায় বালামে চৌহদ্দি পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।
ফয়েজ উল্ল্যা অভিযোগ করে বলেন, বালামে চৌহদ্দি পরিবর্তনের কারণে তিনি টাকা দিয়ে কেনা জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। তিনি মূল দলিলের সঙ্গে বালামের তথ্য সংশোধনসহ সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে সুজন চন্দ্র তালুকদার বলেন, ওই দাগে তাঁর কাকাদের অংশ রয়েছে এবং বালামে চৌহদ্দি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
শান্তিগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার জামাল হোসেন বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। আদালতের আদেশ পেলে বালাম সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই এবং আদালতের কোনো আদেশও তিনি পাননি। অফিসিয়ালি আদেশ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







