সংযোগ সড়কে ধস, ঝুঁকিতে আব্দুজ জহুর সেতু
সুনামগঞ্জ আব্দুজ জহুর সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল এই সেতুর কারণে জেলার কুতুবপুর ও মল্লিকপুর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
উল্লিখিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির সংযোগ সড়কের বেশকিছু জায়গায় ভাঙন ধরেছে। ধসে পড়েছে ব্লক। বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম পাশে অবস্থিত কুতুবপুর এলাকায় সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় সে অংশের ব্লকগুলোর অধিকাংশই ধসে পড়ে গেছে। সড়কের অনেক স্থান ধসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত; যা যানবাহন চলাচলের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
সেতুর পশ্চিম দিকে কুতুবপুর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের সিঁড়ির পাশেই বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে বসে গেছে। কিছু কিছু স্থানে পিলারও ভেঙে গেছে।
সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত মল্লিকপুর অংশেও সেতুর সংযোগ সড়কের অনেকটা ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা জানান, সড়ক ও সেতুর পিলার ভেঙে যাওয়ার কারণে পুরো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তাছাড়া সেতুর দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পরপরই সেতুর ওপর মাদকাসক্তদের আড্ডা জমে। এতে করে সেতুসংলগ্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সেতুটি চালু হলে মানুষজনের যাতায়াত নিয়মিত হবে। তখন অপরাধীরা আড্ডা বা অন্যায় কাজ করতে সুযোগ পাবে না।
কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, দুই থেকে আড়াই বছর ধরে অ্যাপ্রোচ ভেঙে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কুতুবপুর এলাকায় সিঁড়ির দুই পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। গাড়ি চলাচলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের চলাচল সীমিত থাকায় অপরাধ বাড়ছে।
একই গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের ওপরের একাংশ ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটবে বাকি অংশ ধসে। আসছে বর্ষায় এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা দরকার।
মল্লিকপুর এলাকার শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান ইমু বলেন, আব্দুজ জহুর সেতুর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুই পাশের সড়ক ভেঙে গেছে, পিলারগুলোও ভাঙা। সড়কের চারপাশে অন্ধকার। রাতে কেউ চলাচল করতে চায় না সেতু এলাকায়। সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ভাড়ায় বাইক চালান। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হলেও এই সড়কপথে দুই-তিনবার যাতায়াত করতে হয়। তখন সেতুতে উঠতে গেলে ভয় করে। আসা-যাওয়ার পথে বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আতঙ্ক থাকে সব সময়। আব্দুজ জহুর সেতুর পিলারগুলোও ভেঙে গেছে। দিন দিন ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। কুতুবপুর এলাকায় বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রাতে গাড়ি নিয়ে চলাচল করা বিপজ্জনক। দীর্ঘ এই সেতুর ওপরের অংশ এখন ক্রাইমজোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এলাকায়।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, আব্দুজ জহুর সেতুর উভয় প্রান্তে সম্প্রতি বর্ষণে বেশকিছু অংশের সিসি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিগগিরই সেতুর সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। টেকসইভাবে এটিকে মেরামত করা হবে। এছাড়া সেতুতে যাতায়াতকারীদের সুবিধার্থে সোলার লাইট স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত আব্দুজ জহুর সেতুটি জেলার সড়ক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সেতুটি জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের যোগাযোগ সহজ করেছে। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুজ জহুরের নামে এর নামকরণ করা হয়।
২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সুরমা নদীর ওপর নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয় সেতুটির। বিভিন্ন সময় অর্থাভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালের ৩০ জুন এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।







