উখিয়ায় ‘ইসলামী মাহাজ’ প্রধান গ্রেপ্তার, ৯০ অস্ত্রের তথ্য
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ‘ইসলামী মাহাজ’ নামে একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনের প্রধান মো. রফিককে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গত ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/৫ ব্লকে এ অভিযান চালানো হয়।
৮ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ক্যাম্পের সি/৫ ব্লকে রফিক তাঁর দলের সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক করছেন। পরে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএমের নির্দেশনায় পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রফিকসহ কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ রফিককে আটক করে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
৮ এপিবিএনের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রফিক নিজেকে ‘ইসলামী মাহাজ’ সংগঠনের প্রধান বলে পরিচয় দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংগঠনটির প্রায় ৩০০ জন এবং মিয়ানমারে প্রায় ৪০০ জন সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটির সদস্যদের হেফাজতে ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
তবে এসব অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশে সংগঠনটির সদস্যদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে রফিকের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, রফিকের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক কেনাবেচা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপহরণ ও গুমের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ রোহিঙ্গা সদস্যদের নিরাপত্তা বিবেচনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ৮ এপিবিএন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে উখিয়া থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম বলেন, ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ‘ইসলামী মাহাজ’ দলের প্রধান মো. রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্প এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৮ এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, রফিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।







