কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
কোলন ক্যান্সার, যাকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সারের একটি। যদিও বয়স ও জেনেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবুও আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কোলন ক্যান্সার সাধারণত কোলনের ভেতরের আস্তরণে ছোট পলিপ থেকে শুরু হয়। এই পলিপগুলো ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং (যেমন: কোলনোস্কোপি) করলে এসব পলিপ আগেই শনাক্ত করে অপসারণ করা যায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেবল ক্যান্সার প্রতিরোধেই সহায়ক নয়, এটি হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। নিচে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ও ক্ষতিকর খাদ্যগুলোর একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা দেওয়া হলো।
সাধারণ উপসর্গ
মলে রক্ত থাকা, পেট ব্যথা বা ফাঁপা, ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অন্ত্রের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন। যদিও লক্ষণগুলো সূক্ষ্ম হতে পারে, দ্রুত শনাক্তকরণ জীবন বাঁচাতে পারে।
কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী খাবার
১। দুগ্ধজাত পণ্য
ক্যালসিয়াম কোলনের কোষ রক্ষা করে এবং ক্ষতিকর উপাদানকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি (যা অনেক দুগ্ধজাত পণ্যে থাকে) রোধক ভূমিকা রাখতে পারে। কম চর্বিযুক্ত দুধ, দই, পনির খাওয়া যেতে পারে।
২। আস্ত শস্যদানা
যেমন: ওটমিল, ব্রাউন রাইস, গমের রুটি। এগুলোতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হজমে সহায়তা করে এবং ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী পদার্থ শরীর থেকে অপসারণ করে। প্রতিদিন অন্তত ৯০ গ্রাম গোটা শস্য খাওয়ার চেষ্টা করা ভালো।
৩। ডাল ও মটরশুঁটি
যেমন: মসুর ডাল, শিম, ছোলা, সয়াবিন। ফাইবার, উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। সালাদ, স্যুপ বা তরকারিতে সহজেই যুক্ত করা যায়।
৪। রঙিন ফল ও সবজি
যেমন: ব্রকলি, গাজর, বাঁধাকপি, কমলা, স্ট্রবেরি। এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ও ভিটামিন সি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
যেমন: স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল। প্রদাহ কমায় এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করে। তবে পারদ-সমৃদ্ধ মাছ (যেমন: হাঙ্গর, সোর্ডফিশ) নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যেসব খাবার কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে
১। লাল মাংস
গরু, ভেড়া বা শুয়োরের মাংস বেশি খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ তাপে রান্না করলে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। সপ্তাহে ৫০০ গ্রাম বা তার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
২। প্রক্রিয়াজাত মাংস
যেমন: হট ডগ, সসেজ, বেকন, হ্যাম। বিকল্প হিসেবে তাজা, চর্বিহীন মাংস বা উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন বেছে নিন।
৩। অ্যালকোহল
নিয়মিত বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। কমিয়ে দিন বা পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই উত্তম। কোনো নির্দিষ্ট খাবার ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে না পারলেও, সচেতন খাদ্যাভ্যাস কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। ফাইবার, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস, লাল মাংস ও অ্যালকোহল কম খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া








