অস্তিত্ব সংকটে নবীগঞ্জের নজাইখাল

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নজাইখাল খালটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। পলি জমে ভরাট হওয়া এবং স্থানীয় কিছু সংখ্যক লোকদের অবৈধ দখলের ফলে এই খালটি এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা এখন এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও নৌ-চলাচলের রক্ষার জন্য সময়ের দাবি। বুধবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বর্তমানে অবৈধ দখলের কারণে খালের দুই পাড় দখল করে প্রভাবশালী মহল স্থায়ী স্থাপনা, ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। ফলে খালের প্রশস্ততা অনেকাংশে কমে গেছে। দীর্ঘ বছর খনন না করায় খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য বাজারের ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনেজ লাইনের বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি নবীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির সেচ কাজ এই নজাই খালের ওপর নির্ভরশীল। খালটি খনন করা হলে কৃষকরা সময়মতো পানি পাবেন। খালের নাব্যতা ফিরে এলে বর্ষা মৌসুমে পৌরসভা ও আশপাশের গ্রামগুলোর জলাবদ্ধতা দূর হবে। একটি সচল খাল এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক সময় এই পথে বড় বড় মালবাহী নৌকা চলাচল করত। পুনরায় খনন করলে সল্প খরচে পণ্য নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এলাকা বাসীর দাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে খালের ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। শুধুমাত্র লোক দেখানো খনন নয়, বরং খালের গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে খনন কাজ পরিচালনা করা প্রয়োজন। নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সালামতপুরের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এই নজাই খালটি উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় পৌর প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগ এখন একান্ত প্রয়োজন।
খালটি তার হারানো যৌবন ফিরে পেলে বদলে যাবে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দৃশ্যপট।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ পৌর প্রশাসক রুহুল আমিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, পৌরসভা হয়ে বয়ে যাওয়া নজাইখালটি দ্রুত খনন করা হবে এই নজাইখালটি প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।






