২ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরল ম্যানইউ
লিভারপুলের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ দিকে কোবি মাইনুর গোলে নিশ্চিত হয় এই জয়, আর এর মধ্য দিয়ে দুই বছর পর আবারও ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেডের ভুলের সুযোগ নিয়ে ডমিনিক শোবোসলাই ও কোডি গাকপো গোল করে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান। তবে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে ১৮ গজ বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জয়সূচক গোল করেন মাইনু, যার ফলে উল্লাসে ফেটে পড়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড।
এই জয়ে ৩ ম্যাচ বাকি থাকতে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইউনাইটেড। অন্যদিকে চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ৫৮, একই পয়েন্ট পঞ্চম স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলারও, যারা একই দিনে টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ইউনাইটেডের দারুণ। ষষ্ঠ মিনিটে মাতেউস কুনহার গোলে এগিয়ে যায় তারা, আর আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেঞ্জামিন শেশকো।
কুনহার গোলটি আসে প্রতিপক্ষের ক্লিয়ারেন্স তার পায়ে পড়ার পর, নিচু ও জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি, যা আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে।
এরপর ব্রুনো ফার্নান্দেসের হেড প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঠেকালেও বল গিয়ে লাগে শেশকোর শরীরে এবং জালে ঢুকে পড়ে। ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে নিশ্চিত হয়, বলটি তার হাতে লাগেনি, ফলে গোলটি বৈধ ধরা হয়।
প্রথম ১৪ মিনিটেই দুই গোল হজম করা লিভারপুলের জন্য এটি ছিল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে দ্রুত ২-০ পিছিয়ে পড়ার ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭তম মিনিটে আমার্দ দিয়ালোর ভুলে বল হারানোর সুযোগে ব্যবধান কমান শোবোসলাই। তিনি মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে এসে হ্যারি ম্যাগুয়্যারকে পেছনে ফেলে ডিয়োগো দালটের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান।
এর নয় মিনিট পর প্রতিপক্ষের ভুল পাস থেকে সুযোগ পেয়ে সমতা ফেরান গাকপো, যা ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউনাইটেড। মৌসুমের শুরুতে সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমের অধীনে উপেক্ষিত থাকা ২১ বছর বয়সী মাইনু, নতুন পাঁচ বছরের চুক্তি করার তিন দিনের মাথায়ই জয়সূচক গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন।
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতে খেলেছেন এই মিডফিল্ডার, একটি ম্যাচ মিস করেছেন চোটের কারণে।
ম্যাচ শেষে মাইনু বলেন, ‘আমি খুব বেশি গোল করার সুযোগ পাই না, তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করতে পেরে আমি খুবই খুশি।’
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইউনাইটেড প্রায় ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারত, কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।






