দেশের প্রাচীন শতবর্ষী মাধবীলতা
এক সময় রংপুর বলতে মাহিগঞ্জকেই বোঝাত। বর্তমান রংপুর নগরী গড়ে ওঠার এক হাজার বছর আগে মাহিগঞ্জ নগরী গড়ে উঠেছিল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে। এখানেই দেখা মিলল দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শতবর্ষী মাধবীলতার একটি গাছ। একশ বছর ধরে পাকুড় গাছকে জড়িয়ে বেঁচে আছে এই গাছ। সম্প্রতি এই গাছটিকে আবিষ্কার করেন কয়েকজন প্রকৃতিপ্রেমী। কৃষিবিদদের মতে, এটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মাধবীলতা গাছ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নদী ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সম্প্রতি আমরা কয়েকজন প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী মাহিগঞ্জে ঘুুরতে গিয়েছিলাম। মাহিগঞ্জের ভিসা সেন্টার থেকে যে সড়কটি দমদমা পর্যন্ত গেছে, সেই সড়কের কিছু দূরে রাস্তার পাশে একটি পুরোনো পুকুর দেখতে পেলাম। অপরপ্রান্তে দেখতে পেলাম একটি পাকুড় গাছকে জড়িয়ে আছে মাধবীলতার গাছটি। এই গাছটির লতা এতো মোটা যে, প্রথমে বিশ্বাস হয়নি এটি মাধবীলতা। পরে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি মাধবীলতা। এর বয়স একশ বছরেরও বেশি হবে। মাধবীলতা আবিষ্কারের আরেক সঙ্গী ওয়ার্ল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার কবি ও লেখক রানা মাসুদ বলেন, অনেকে মধুমঞ্জুরিকে মাধবীলতা বলে ভুল করেন। কিন্তু এই গাছটি মাধবীলতা। দুর্লভ এই গাছটি সংরক্ষণ করা জরুরি। পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নান বলেন, ‘পুরাতন রংপুরখ্যাত মাহিগঞ্জকে নিয়ে রংপুরবাসীর গর্বের শেষ নেই। এখানে এখনো কেউ এলে ফিরে যান সোনালি অতীতে। ডিমলা কালীমন্দির এলাকার মাধবী ফুলের গাছটি এই শহরকে করেছে গর্বিত।’ এই চেনা ফুলটিকে কাছাকাছি সুযোগ পেলে দেখে আসার অনুরোধ করেন তিনি।
মাধবীলতা সম্পর্কে জানা গেছে, চিরসবুজ কাষ্ঠল লতানো গুল্ম, কচি লতা রোমশ। পাতা সরল, প্রতিমুখ, অবলং। মঞ্জরি রেসিম, রোমশ। ফুল উভলিঙ্গ, পূর্ণাঙ্গ, সুগন্ধ বিশিষ্ট; বৃত্যাংশ ৫টি, সিলকি রোমশ; পাপড়ি ৫টি, ডিম্বাকার-উপবৃত্তাকার, দণ্ডল, বাইরে রোমশ, সাদা, সুগন্ধযুক্ত; পুংকেশর ১০টি; স্ত্রীকেশর ৩টি, সংযুক্ত, গর্ভাশয় রোমশ; ফেল সামারা, ৩-পাখনা বিশিষ্ট, পাখা অসম। পুষ্পায়ন সাধারণত: বসন্তকাল। রক্তচাপ কমানোর গুণাবলি আছে এ গাছের। পাতা হাঁপানি, বাত ও বিভিন্ন চর্মরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় মাধবীলতা।







