মেরাজের রাতে নবীজি (সা.) বেনামাজির যে শাস্তি দেখেছেন
নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি শুধু একটি আমল নয়; বরং বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার গভীর সম্পর্কের সেতুবন্ধন। একজন মানুষ যত ব্যস্তই হোক, দিন-রাত পাঁচবার তাকে মহান রবের সামনে দাঁড়াতে হয়—এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক মানুষ অলসতা, গাফেলতি কিংবা দুনিয়ার ব্যস্ততায় নামাজকে অবহেলা করে। কেউ নামাজ দেরি করে, কেউ আবার সম্পূর্ণ ছেড়ে দেয়। অথচ কুরআন ও হাদিসে নামাজ ত্যাগকারীদের জন্য এসেছে কঠিন সতর্কবার্তা। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রাতে এমন ভয়াবহ শাস্তির দৃশ্য দেখেছেন, যা প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো। হাদিসের বর্ণনায় তা তুলে ধরা হলো—
মিরাজের রাতে ভয়ংকর এক দৃশ্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রাতে দেখলেন—এক ব্যক্তির মাথা বিশাল পাথর দিয়ে বারবার চূর্ণ করা হচ্ছে। পাথর নিক্ষেপ করার পর মাথা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে, এরপর পুনরায় তাকে একই শাস্তি দেওয়া হয়।
নবীজি (সা.) বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—
أَمَّا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ، فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفُضُهُ، وَيَنَامُ عَنِ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ
‘এ ব্যক্তি কে?’
তখন জিবরিল (আ.) বললেন—
‘এ সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করেছে এবং ফরজ সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকত।’ (বুখারি ৭০৪৭)
নামাজ মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণে জীবিত রাখে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ৪৫)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন—
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
‘অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন: আয়াত ৪-৫)
নামাজ শুধু জান্নাতের চাবি নয়; এটি একজন মুমিনের পরিচয়। যে ব্যক্তি নামাজকে গুরুত্ব দেয়, আল্লাহ তার জীবনেও বরকত দান করেন। আর যে নামাজকে অবহেলা করে, সে ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়।
মিরাজের রাতের ভয়াবহ সেই দৃশ্য আমাদের জন্য বড় শিক্ষা— দুনিয়ার সাময়িক ঘুম, অলসতা বা ব্যস্ততা যেন আমাদের চিরস্থায়ী আখিরাতকে ধ্বংস না করে। আসুন, আমরা আজ থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হই, সময়মতো নামাজ আদায় করি এবং নিজেদের পরিবারকেও নামাজের প্রতি উৎসাহিত করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজি বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।






