অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জব্দ করা ড্রেজার মুচলেকায় ছাড়, জনমনে নানা প্রশ্ন
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নৌকাসহ জব্দ করা তিনটি ড্রেজার মেশিন আটক করে উপজেলা প্রশাসন। পরে আইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণ না করে মুচলেকা নিয়ে মালিকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে পরে রাতেই তা ছেড় দেয়া হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে এই ঘটনা প্রকাশ হলে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা ঝড় শুরু হয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের মত পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ নিরুৎসাহিত হয়। ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় বালু খেকো চক্র ও ড্রেজার বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে , মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে ড্রেজারগুলো মালিকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত দুটি মুচলেকায় দেখা যায়, উপজেলার সলোকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের মোঃ রহমত আলীর ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (২৮), একই ইউনিয়নের কাইয়ারগাও গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে মো. জাহের মিয়া (২৭) লিখিতভাবে স্বীকার করেন তারা নিজেদের মালিকানাধীন ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায় যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন।
মুচলেকায় আরও উল্লেখ করেন, তাদের কর্মকাণ্ড বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(গ) ধারায় অপরাধ। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন এবং পুনরায় একই অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা মেনে নেবেন বলেও লিখিতভাবে উল্লেখ করেন।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, আমরা ড্রেজার আটক করিনি, আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। তা মৌখিকভাবে বলা হলেও লিখিতভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় অপরাধীরা উপস্থিত ছিলেন না, পরে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর তারা মুচলেকা দিয়েছেন। তাদের নজরদারিতে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আমার যেহেতু এই উপজেলায় প্রথম অভিযান ও ড্রেজার মালিকরা প্রথম ও শেষ বারের মত আবেদন করেছে আর অবৈধ কাজে যুক্ত হবে না, সে কারনে মানবিক দৃষ্টিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।







