বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা
বর্তমান দেশের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস। আপাতত গ্যাসের কথা না বলে বিদ্যুতের কথাই বলি। আমাদের জনজীবনে বিদ্যুৎ কতটুকু প্রয়োজন তা এখানে লিখে বিস্তারিত বলার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারন আমরা আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে অনুভব করছি বিদ্যুত যে,আমাদের কি পরিমাণে চাহিদা রয়েছে তা আমরা হারে হারে টের পাচ্ছি।
বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের এই দুর্বিষহ গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিহীন ক্লাস!এটা কষ্টকর। সমগ্র বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৮০০০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ একাই গ্রাস করে রাজধানী ঢাকা। এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।
বিভাগীয় শহরগুলোতেও প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট খরচ হয়। জেলা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০০ মেগাওয়াট খরচ হচ্ছে। দেশের সমগ্র উপজেলা এবং সমগ্র গ্রাম নিয়ে খরচ হয় প্রায় ৬৫০০ মেগাওয়াট। এই বর্ণনা অনুযায়ী বর্তমানে সরকার বিদ্যুতের সেবা দিতে প্রায় ব্যর্থ হয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন।
এবার হিসাব করে দেখেন শহর বন্ধর থেকে শুরু করে গ্রামে গঞ্জে কতটুকু মেগাওয়াট খরচ হচ্ছে আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য? এখনেও গ্রামের মানুষের সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরণ কেন?? প্রশ্ন থেকে যায় জনমনে।
আরো একটি পরিসংখ্যান হলো । রাজধানী ঢাকা সহ সমগ্র বাংলাদেশে আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ এয়ারকন্ডিশন (এসি) সচল আছে! আর এই এসি গুলো প্রায় ৬০০০হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরছ করে!
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় দেশের কোনো কাজকর্মে অনেক মিতব্যয়ী জেনে আসছি। তাই আপনার নিকট দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমার মতামত হলো, দেশে যেহেতু বেশি পরিমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তাই আপাতত দেশের সমস্ত এসি গুলো বন্ধ করা যেতে পারে। আর তা করলে প্রায় ৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আর এই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ গ্রামগঞ্জের মানুষের উপহার হিসাবে পায়।
গ্রাম বাঁচলে, বাংলাদেশ বাঁচবে! আরো একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, শহরের টাকাওয়ালা মানুষের সরকারি বিদ্যুৎ ছাড়াও বিকল্প ব্যবস্হা আছে। কিন্তু গ্রামের নিম্নবিত্ত মানুষের সরকারি বিদ্যুৎতের বাহিরে বিকল্প কিছু নেই।
আমিনুল ইসলাম আমিন।
দিরাই সুনামগঞ্জ







