টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদের সংবর্ধনা শনিবার
যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ও বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। সম্প্রতি দেশে এসে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া কূটনৈতিক মহলের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেছেন।
তাঁর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিজ এলাকা জালালপুরে দুটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জালালপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর।
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নেসারুল হক চৌধুরী বুস্তান ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি কামনা করেছেন।
এদিকে আগামী ২ নভেম্বর সোমবার ফজলুর রহমান মেম্বার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জালালপুর ডিগ্রি কলেজে ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদকে আরেকটি সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সাংবাদিক খালেদ আহমদ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন।
ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদের জন্ম সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের খতিরা গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বেগ ও মা হুসনে আরা বেগম—দুজনই প্রয়াত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। অভিবাসী জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
যুক্তরাজ্যে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় কিচেন পোর্টার হিসেবে। পরবর্তীতে নিজস্ব রেস্তোরাঁ ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং টানা ১২ বছর ক্যাটারিং খাতে সফলতার সঙ্গে কাজ করেন। জীবনের একপর্যায়ে, ৩২ বছর বয়সে, তিনি নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি ভর্তি হন টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে এবং সেখানে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি ও ওপেন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শেষে ২:১ গ্রেডে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন এবং ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি একজন ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। সিভিল, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইনে কাজের পাশাপাশি পুলিশ স্টেশন রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শিক্ষার্থী থাকাকালীনই তিনি রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে হেলথ অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় ১৫ বছর এ দায়িত্ব পালন করে তিনি চিকিৎসাসেবা গ্রহীতাদের অধিকার ও কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন কমিটির ভাইস-চেয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন।
কমিউনিটির উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি পুলিশ কাস্টডি ভিজিটর প্যানেলের সদস্য ও স্কুল গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাউন্সিল অব মসকস টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিশপসওয়ে মসজিদের পরিচালক ও সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন তিনি।
নিজ জন্মভূমির প্রতিও রয়েছে তাঁর গভীর টান। জালালপুর অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি ইউকের সেক্রেটারি হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রবাসে অবস্থান করেও জন্মভূমির মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া তাঁর সামাজিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার মুশতাক আহমদ পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। নিজের সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদানকে তিনি অন্যতম প্রধান প্রেরণা ও শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর বড় ছেলে ও মেয়ে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিবারের পেশাগত ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে।
একজন অভিবাসী শ্রমজীবী থেকে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোর তাঁর জীবনযাত্রা অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও জনসেবার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। জন্মভূমি জালালপুরে তাঁকে ঘিরে আয়োজিত দুটি সংবর্ধনা প্রবাসে তাঁর অর্জন, নেতৃত্ব ও এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কেরই স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






