শীর্ষ সংবাদ

   দৈনিক সিলেট ডটকম-এ  বিজ্ঞাপণ দিন আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বিশ্বময ছড়িয়ে দিন


 

 
Page Rank
 
 ২৪-০৫-২০১৩ শুক্রবার
 
এই জনপদ
 
 
 
 
 

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) নেতৃবৃন্দের মধ্যের এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে। বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগরীর চালিবন্দরে ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে এই সৌজন্য বৈটক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিভিন্ন সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং ক্যামেরা ও মোটর সাইকেল ভাংচুর, মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক নেতাদেরকে আশস্ত করেন করে বলেন, আগামীদিনে এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
এসময় তারা সাংবাদিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদেরকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ইমজা পরিবারের সকল সদস্য সাংবাদিকতার নীতিমালা সমুন্নত রেখে মাঠে-ময়দানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, মহানগর সভাপতি সদ্য প্রাক্তন সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা যুব বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিৎ সরকার, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম এবং ইমজা নেতৃবৃন্দের মধ্যে সংগঠনের সভাপতি আল-আজাদ (মাছরাঙা টেলিভিশন), সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপন (ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশন), সহ সভাপতি লিটন চৌধুরী (চ্যানেলএস ইউকে), সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শিহাব (বৈশাথী টেরিভিশন), সহ সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ (ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশন), প্রচার সম্পাদক নিরানন্দ পাল (একাত্তর টেলিভিশন),  সদস্য মুজিবুর রহমান ডালিম  মোহনা টেলিভিশন), গোলজার আহমদ (চ্যানেল টুয়েন্টিফোর) ও শাহজাহান সেলিম বুলবুল (ইসলামিক টেলিভিশন) উপস্থিত ছিলেন।
               

 
 
 
 
 
 
 

জাতীয় যুব সংহতি সিলেট জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২২ মে যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অনুমোদন প্রদান করে। আলতাফুর রহমান আলতাফকে সভাপতি, মরতুজা আহমদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও মোঃ আশিক মিয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন-সহ সভাপতি ফয়ছল উদ্দিন, আবুল কাশেম সেবুল, মিজানুর রহমান মোগল, আবুল কাহের, আমিন উদ্দিন, এনামুল হক এনাম, তাজিদ বক্স লিমন, আবু আহমদ, ফারুক আহমদ রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর খান, মোঃ আনহার আলী, কয়েছ আহমদ, আবু তাহের, নুরুজ্জামান শাহানুর, তোফায়েল আহমদ তরফদার, আব্দুল্লাহ আল মুর্শেদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক জালাল আহমদ, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মোঃ আখলাকুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক হোসেন আহমদ, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক হাসান আহমদ, দফতর সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহি, যুগ্ম দফতর সম্পাদক মুহিব আল হাসান, কৃষি সম্পাদক জামাল আহমদ, যুগ্ম কৃষি সম্পাদক বেলাল আহমদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গুলজার আহমদ, যুগ্ম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহান উদ্দিন নাজু, যুগ্ম শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক তানিম আহমদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল আহমদ, যুগ্ম সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বদরুল ইসলাম, যুগ্ম তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুস শহিদ এনাম, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফয়জুর রহমান গেদুল, যুগ্ম সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এ ফয়ছল, যুগ্ম শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন, যুগ্ম শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর পাশা গৌছ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, যুগ্ম আইন বিষয়ক সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান আইয়ুব, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ আহমদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ক্বারী আব্দুল মুকিত, যুগ্ম ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তেরা পাশা, যুব মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা তামান্না বেগম, যুগ্ম যুব মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সুলতানা বেগম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আমির উদ্দিন রতন, যুগ্ম স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ছানাউল হক ছানা, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বুলবুল আহমদ, যুগ্ম পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জমির উদ্দিন, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শাহ আলম যুগ্ম যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন খান, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আলী সিদ্দেক, যুগ্ম ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান স্বপন, শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক মুহিবুর রহমান খান মুকিত, যুগ্ম শৃঙ্খলা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কবিরুল হাসান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, যুগ্ম বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদ আহমদ।-বিজ্ঞপ্তি 
   
               

 
 
 
 
 
 
 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক গণিত বিভাগের প্রধান ড. সাজেদুল করিম বলেছেন, একবিশং শতাব্দীতে সফল হতে মেধাবীদের অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও নৈতিক অবক্ষয়তা রোধে মেধাবীদের শিক্ষার পাশাপাশি ধর্ম চর্চায়ও গুরুত্ব দিতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগামীতে মাহাতি মোহাম্মদের মতো বড় মাপের মানুষ হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সিলেটের দু’টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মেধাবীদের আরো উদ্যোমী হতে হবে। তিনি শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী শাবিপ্রবিতে ভর্তি হয়। তিনি এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আরো আন্তরিকতা হওয়ার আহবান জানান।
তিনি  বৃহস্পতিবার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজির উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাথী তাহমিদ হাসানের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আক্তার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুস শাকুর, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলেজ শাখার ইনচার্জ গোলাম রব্বানী, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মজুমদার, অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবিহা সুলতানা রুপা, কোরআন তেলাওয়াত করেন মাহমুদুল হাসান মারুফ, ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন রাফিদুল ইসলাম। এ সময় জেএসসি ও এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট সহ বিভিন্ন উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। ঐ দিন সকালে জামেয়ার বালিকা শাখায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। বালিকা শাখার ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল সেলিনা আক্তার ক্রোরী’র সভাপতিত্বে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী তাম্মী ও অনন্যার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সমাজসেবী ডা: আমেনা শফিক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা: জেরিন রহমান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামেয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মজির উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষিকা জাকিয়া ফেরদৌসী, ফরিদা বেগম প্রমুখ।
               

 
 
 
 
 
 
 

রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জের বালাই ও মইলাট হাওর, এওলাসার বিল, বালিকিল বিল এবং মেঘনা বিলসহ প্রায় সবক’টি হাওরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের প্রবণ বর্ষণ ও পহাড়ী ঢলে উপজেলার শত শত একর বোরো ধান এখন পানির নীচে। প্রবল বর্ষন শুরু হলে কৃষকরা কাঁচাপাকা ধান ঘরে তুলতে চাইলেও দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে শেষ আসাও ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু স্থান থেকে কৃষকরা হাটু পানি, কোমর পানিতে নেমে বা নৌকা দিয়ে ধান কেঁটে নিয়ে আসলেও অবিরাম বর্ষণের ফলে তা মাড়াই করে শুকানো যাচ্ছে না। এতে অনেক জায়গায় কাঁটা ধানের স্তুপে পচন ধরেছে। হতাশ হয়ে পড়েছেন জকিগঞ্জের কৃষক সমাজ। দোবাইল বিলের পানি নিস্কাশনের পথে বাঁধ দেয়ায় পানি দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বোরো মৌসুমের শুরুতে বৃষ্ঠি না হওয়ায় এবারে ধানের ভালো ফলন হয়নি। অনাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বেশীরভাগ বোরো ধানের মাঠ শুকিয়ে যাওয়ায় ধান পাকতে দেরী হয়। দেরীতে হলেও সম্প্রতি ধান পাকতে শুরু করে। এরইমধ্যে গত দেড় সাপ্তাহ ধরে অবিরাম ভারী বর্ষণের ফলে এখন শত শত একর বোরো ধান  পানিতে নীচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা আরো জানান, একদিকে ভারী বর্ষণ আর অন্যদিকে এইচ এস এগ্রো কমপ্লেক্স কর্তৃক হাওরে ফিশারী প্রকল্পের নামে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে খাস ভূমি, ছোট-বড় খাল ও তাল নদী অবৈধ দখল করে বসে থাকায় হাওরের পানি নিস্কাশন হতে পারছে না। একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের প্রথমদিকে কতিপয় লোক ফিসারী প্রকল্পের নামে বাঁধ নির্মাণ শুরু করলে তখন হাজার হাজার কৃষক স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে তা বন্ধ করার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করে। এরপর কিছুদিন তা স্থগিত থাকলেও পরবর্তীতে আবারও বাঁধ দেওয়া হয়। যা এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে আর্বিভূত হয়েছে। কৃষকদের এমন দূরাবস্তার সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের প্রদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। অদৃশ্য কারণে প্রসাশন নীরব বলে স্থানীয়রা জানান। পানিতে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধানের পরিমান জানতে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা সঠিক কোন পরিসংখ্যান দিতে পারেননি। কৃষি অফিসের উপ সহকারী হীরালাল বিশ্বাস জানান, পানির কারণে বোর ধানের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কারণ পানি আসার পূর্বে ধান কাঁটা শেষ হয়ে যায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে এখনও প্রচুর পরিমাণ কাচা ধান রয়েছে ও পানির নীচে অনেক পাকা ধান তলিয়ে গেছে বলে এ প্রতিবেদক উক্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন কিছু ধান পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কৃষকদের এমন দূরাবস্তার বিষয়টি চলতি মাসের উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদ উত্থাপন করে তার প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। অপরদিকে ভারতের পাহাড়ী ঢল ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে দ্রুত বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধি  অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় বিপদসীমা অতিক্রান্ত করতে পারে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে আমলসীদ, ছবড়িয়া, বাখরশাল, মানিকপুর, গঙ্গাজল, ভক্তিপুর, ইছাপুর, সুপ্রাকান্দি, বড়চালিয়া, উজিরপুরসহ অনেকস্থানে ভেড়িবাঁধ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় আতংকিত নদীপারের লোকজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা স্থানীয় প্রশাসন থেকে এসব ভেড়িবাঁধ নির্মাণ বা মেরামত না করায় অনেকস্থানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করছে। জকিগঞ্জের বীরশ্রী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সেমন আহমদের নেতৃত্বে বীরশ্রী ইউনিয়নের সুপ্রাকান্দি এলাকায় প্রায় ১২০ ফুট বেড়ী বাঁধ নির্মাণ করেছে এলাকাবাসী। সেমন আহমদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশায় থাকলে স্থানীয়রা পানিতে ডুবতে হবে। তাই এলাকাবাসীতে সাথে নিয়ে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বীর আহমদ বলেন, উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে যারা বাঁধ নির্মাণ করছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখনই মেরামত না হলে জকিগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌছিবে।
               

 
 
 
 
 
 
 

সুধাংশু শেখর হালদার,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার সন্ধ্যার পূর্বে  শ্রীমঙ্গলস্থ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যালয়(লেবার হাউস) দখলমুক্ত হলো। বুধবার  বেলা ২ টায় এ কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বিকাল ৫ টা ৩৫ যুগ্ম পরিচালক(শ্রম) মোজাম্মেল হোসেন দখলদার বিজয় প্রসাদ বুনার্জির কাছ থেকে লেবার হাউজের মালামালসহ,ভবন ও ভবনের চাবি গ্রহন করেন। তবে চা শ্রমিকদের কষ্টার্জিত মজুরী থেকে প্রতি মাসে কেটে নেওয়া ১০ টাকা করে চাঁদায় গড়ে উঠা ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। লেবার হাউজের দায়িত্ব গ্রহন করে যুগ্ম পরিচালক(শ্রম) চাবিটি শ্রীমঙ্গলস্থলস্থ উপ-পরিচারক(শ্রম) গিয়াস উদ্ধেিনর কাছে হস্তান্তর কালে সাংবাদিকেদর কোন প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে তার পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপ- পরিচালক(শ্রম) গিয়াস উদ্দীন বলেন, ঢাকায় সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রীর সভাপতিত্বে চা শ্রমিক ইউনিয়নের উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের গৃহীত ৫টি সিদ্ধান্তে এখন লেবার হাউজের দায়িত্ব তিনি নিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকী কাজগুলো সম্পন্ন হবে। গণতান্ত্রীক উপায়ে ২০০৮ সনের ২ নভেম্বর প্রথমবারের মত চা শ্রমিকরা সরাসরি ভোট প্রদান করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় লেবার হাউজে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল। নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার প্রভাবে চা শ্রমিক ইউনিয়নে গণতন্ত্রায়ণের এক বছরের মাথায় ২৫ নভেম্বর ২০০৯ সনে লেবার হাউজ জবর দখল করে নেয়। দীর্ঘ ৩ বছর ৭ মাসে দীর্ঘ আন্দোলণ করে সম্প্রতি চা শ্রমিকরা একযোগে সবগুলো চা বাগানে কর্ম বিরতি পালন করলে মন্ত্রণালয়ে শ্রম মন্ত্রীর উদ্যোগে একটি বৈঠকে ৫টি সিদ্ধান্তের  ভিত্তিতে অবশেষে লেবার হাউজ দখল মুক্ত হয়। চা শ্রমিকরা ২১ মে একযোগে কর্ম বিরতি পালন করলে মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রীর সাথে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জরুরী বৈঠক শেষে লিখিত সিদ্ধান্তে গতকাল বুধবার চা শ্রমিকরা কর্ম বিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের ৫টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তগুলো যথাক্রমে ১। ট্রেড ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা, ২। যুগ্ম-পরিচালক(শ্রম) ২২ মে লেবার হাউজ দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এ ব্যাপারে চা শ্রমিক উভয়পক্ষের নেতারা সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন, ৩। বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৩১ জুলাই ২০১৩-এর মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম গ্রহন করা, ৪। মজুরী সংক্রান্ত বিষয়টি মালিক পক্ষের সাথে বসে বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করা ও ৫। ২২ মে সকল চা বাগানে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসাবে একজন যুগ্ম পরিচালক(শ্রম) শ্রীমঙ্গলস্থ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যালয় লেবার হাউজের দায়িত্ব গ্রহন করছেন।গতকাল বুধবার বেলা ২ টায় চট্রগ্রাম থেকে আগত শ্রম মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি যুগ্ম পরিচালক(শ্রম) মোজাম্মেল হোসেন লেবার হাউজের দায়িত্ব গ্রহন করার কথা ছিল। বুধবার সকাল থেকে শ্রীমঙ্গলস্থ লেবার হাউজের সামনে উৎসুক কয়েক শতাধিক চা শ্রমিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এসময় ওখানে আরও ছিলেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী ও ২০০৮-এর নভেম্বরে নির্বাচনে পরাজিত হয়েও দখলদার বিজয় প্রসাদ বুনার্জি। বুধবার শ্রীমঙ্গলস্থ উপ-পরিচালক(শ্রম) গিয়াস উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতে ও স্বাক্ষরিত গৃহীত ৫টি সিদ্ধান্তে চট্রগ্রাম থেকে আগত যুগ্ম পরিচালক(শ্রম) মোজাম্মেল হোসেন লেবার হাউজের দায়িত্ব বুঝে নিবেন। তবে তার আগে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে কিছু প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। উপ-পরিচালক গিয়াস উদ্দীন জোর দিয়ে বলেন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন হবে। এবং গঠনতন্ত্রের সংশোধনী এনে ৩১ জুলাই এর  মধ্যে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা  করা হবে। 
               

 
 
 
 
 
 
 

বুধবার সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত নগরীর পাঠানটুলা থেকে এমসি কলেজের ছাত্রের লাশ এবং মজুমদারী এলাকায় নিজ কর্মস্থলের পেছন থেকে এক কিশোর ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে অপর যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে একই দিন হবিগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে একটি চিড়ার মিল থেকে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাহুবলে শিশু সন্তানকে জবাই করে হত্যা করেছে এক পাষন্ড পিতা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪ টায় নগরীর মজুমদারী থেকে গলায় রশি পেছানো অবস্থায় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। নিহত আল আমিন (১৬) নগরীর শাহী ঈদগাহ অনামিকা-১৩ নম্বর বাসার নূর আহমদের ছেলে। মজুমদারী এলাকার আবদুল মনাফের মালিকানাধীন রংয়ের দোকান শারমিন এন্টারপ্রাইজের পেছন থেকে আল আমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে রং দোকানটির কর্মচারী ছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিমানবন্দর থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, আল আমিনের মৃত্যু না হত্যা তা জানা যায়নি। তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করা যাবে। তবে সুরহতাল রিপোর্টে তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। এদিকে  বুধবার সকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বরের মোকাম বাজারে ধান ক্ষেত থেকে এসিডদগ্ধ এক যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোলাপগঞ্জ থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ছিলিমপুর কাউয়াটিকর এলাকায় একটি জমিতে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে এসআই আশরাফ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতভাগ্য এ ব্যক্তির কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশ বলেছে-নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় পেঁচানো অবস্থায় একটি গামছা এবং সাথে একটি মোবাইল পাওয়া গেছে। তার পরনে শার্ট এবং লুঙ্গি ছিল। হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে একটি চিড়ার মিল থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর নাম দিলীপ দাশ(২৫)। তিনি এই মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার সকালে বিসিক শিল্প নগরীস্থ চিড়ার মিলের টয়লেট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলার শমসেরনগর উপজেলার পালকীছড়া গ্রামের রামদাশের পুত্র দিলীপ সপরিবারে ঐ চিড়ার মিলে থেকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার টয়লেটে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে অবস্থান করায় লোকজনের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আরো জানান, বাহুবলে শিশু সন্তানকে জবাই করে হত্যা করেছে এক পাষন্ড পিতা। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। পুলিশসহ স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র নিজাম উদ্দিন (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। গত ১৫ দিন ধরে তিনি তার সন্তানদের হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন নিজাম উদ্দিনের বড় তিন ছেলেকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। কিন্তু ৩ বছর বয়সী তামিমা আক্তার বাড়িতে ছিল।  বুধবার বাড়ির লোকজনের অজ্ঞাতে শিশু তামিমা আক্তারকে তার পিতা দা দিয়ে জবাই করে। স্থানীয় লোকজন ঘাতক নিজাম উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।                

 
 
 
 
 
 
 

দুনিয়াতে ভাল কাজের ফল ভাল অভিশ্বম্ভাবী। যারা ভাল কাজ করে দুনিয়া থেকে চলে যায় তাদের কবর বেহেশতের ফুলের বাগানে পরিণত হয়। মুমিন তার কর্মের মাধ্যমে আখেরাতের জন্য আবাস্থল গড়ে তুলতে পারে।
সম্প্রতি আস্তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মিজান আজিজ সুইটের অর্থায়নে এবং আস্তা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম কুয়ারপারাস্থ শাহ সৈয়দ লাল (র.) মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থান এর রিটেনিং দেয়াল, মাটি ভরাট, ইসলামিক ক্যালিওগ্রাফি দ্বারা সৌন্দর্য বর্ধন, মসজিদের অজুখানা ও শৌচাগার পুনঃনির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য ও ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ মালিক এ কথাগুলো বলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আস্তা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আবু তালেব মুরাদ, সাবেক কাউন্সিলর সিকন্দর আলী, সাবেক কাউন্সিলর আমেনা বেগম রুমী, শাহানা বেগম শানু, আস্তা ফাউন্ডেশনের কার্যকরী কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ তুহেল ও এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য যে, এই গোরস্থানে ৩টি ওয়ার্ডের মৃত ব্যক্তিদের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
               

 
 
 
 
 
 
 

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবু নগরী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা ইমরান মাযহারী, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)’র ছেলে মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মিজানুর রহমান কাসিমী সহ বিপুল সংখ্যক উলামাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও রিমান্ডের নামে অকথ্য নির্যাতন জুলুম এবং মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে উলামাদের হয়রানি ও আলেমদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিলেটের ৩১৩ জন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন।
এক যৌথ বিবৃতিতে উলামাগণ বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম নজিরবিহীন তান্ডব জাতি আর প্রত্যক্ষ করেনি। সরকার আলেম উলামাদের রক্ত পান করেও ক্ষান্ত হয়নি, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে তারা নিরীহ আলেম উলামাকে গ্রেফতার করে যে জুলুম নির্যাতনের স্টিম রুলার চালাচ্ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। উলামাগণ বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলেই উলামা মাশায়েখ ও পীর বুজুর্গানে দ্বীনের উপর জেল জুলুম হুলিয়া দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। তারা দেশের সচেতন ইসলামপ্রিয় জনতশাকে এ বিষয়টি নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উলামাগণ অবিলম্বে আল্লামা বাবু নগরী সহ সকল আলেম-উলামার নিঃশর্ত মুক্তি দাবী জানিয়ে বলেন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে যার পরবর্তী দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতিদাতা আলেমগণ হচ্ছেন-আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মাওলানা মনছুরুল হাসান রায়পুরী, মাওলানা এডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মাওলানা আতাউর রহমান, প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ খলিলুর রহমান, মাওলানা হাফিজ আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা আলী নূর, মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা মুফতি ফয়জুল হক, মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা রফিক আহমদ মহল্লী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা জুবায়ের আল মাহমুদ, মাওলানা শায়খ মাহবুব আহমদ, মাওলানা আখতারুজ্জামান, মাওলানা তালিব উদ্দিন, মাওলানা আ.হ,ম ফখর উদ্দিন, মাওলানা তোফায়েল আহমদ উসমানী, মাওলানা হাসান আহমদ, মাওলানা এম বেলাল আহমদ চৌধুরী, মাওলানা শিব্বির আলম খান, মাওলানা আব্দুর রশীদ, মাওলানা দিলোয়ার বখত, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, মাওলানা মুতাওয়াক্কিল বিল্যাহ জালাল, মাওলানা ইয়াহইয়া খান, মাওলানা ইমাদ উদ্দিন ছালিম, মাওলানা আনছার উদ্দিন, মাওলানা আছলাম রহমানী, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, মাওলানা মুহিউদ্দিন, মাওলানা হাফিজ আজিজুল কিবরিয়া ফুরকানী, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা আবু জাফর সরকার, মাওলানা মোস্তফা কামাল, মাওলানা সালেহ আহমদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, হাফিজ জুনাইদ আহমদ প্রমুখ।
               

 
 
 
 
 
 
 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের বখাটে খালেদ বিয়ের প্রলোভনে ফেলে একই গ্রামের মেহেরুন(ছদ্ম নাম) নামে ২২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ভাদগাঁও গ্রামের তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে কিছুদিন আটকে রেখে বখাটে খালেদ ও তার দুই সহযোগী আলী হোসেন ও তারেক ধর্ষন করে । এলাকাবাসী অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আর এম ও ) জানান, মেয়েটিকে জরুরী ভিত্তিতে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে । ধর্ষনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করা হলে এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে ।এবং বাকী দুইজনকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান ।
               

 
 
 
 
 
 
 

সুধাংশু শেখর হালদার,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাক্ষ্মনবাজার এলাকার আয়নাছড়া পাহাড়ী এলাকায় বোমা তৈরীর সময় বিস্ফোরণে ইমাদ উদ্দিন (২২),রকি আহমদ(২৪) নামে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোমা ও ককটেল তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে । এ ঘটনায় ইমাদের ডান হাতের কব্জি
শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে । রকির পায়ে ও পেটে মারত্মক জখম হয়েছে। জানাগেছে আহতরা দুজনই ব্রাক্ষ্মনবাজার জালালাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র । কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসানুজ্জামান দৈনিক সিলেট ডটকম-এর মৌলভীবাজার প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইমাদ ও রকিকে আহত অবস্থায় মংলাবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে । আহতরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পুলিশী হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।
               

 
 
 
 
 
 
 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর  সভাপতি এড. আনোয়ারূল ওয়াদুদ টিপু বলেছেন- ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এর উপর রিমান্ডের নামে যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা নাৎসী বাহিনীর নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। এটা দেশবাসীকে নাৎসী বাহিনী আজ বর্তমান না থাকলেও তাদের প্রেতাত্মারা যে আজো আমাদের মাঝে বিরাজমান তা স্মরন করিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই ফ্যাসীবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে পঙ্গু করে দেয়ার যে কর্মসুচী হাতে নিয়েছে তা দেশেবাসীর কাছে পরিষ্কার। ইতিহাস সাক্ষী এভাবে করে কখনো সত্যিকারের ইসলামী আন্দোলনকে রূখা সম্ভব নয়। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপর যত বেশী নির্যাতন হবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় ততই নিকটবর্তী হবে। 
তিনি বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর’র উদ্যোগে আয়োজিত রিমান্ডের গুরূতর অসুস্থ  শিবিরের কেন্দ্রীয়  সভাপতির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে  আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে  উক্ত কথা বলেন। ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম উদ্দিন এর যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পুর্ব সভাপতি মাসুক আহমদ, প্রচার সম্পাদক সুহেল আহমদ, ছাত্রকল্যান সম্পাদক ফখরূল আলম সেলিম, মদন মোহন কলেজ সভাপতি পারভেজ আহমদ, আলিয়া মাদ্রাসা সভাপতি মিসবাহ-উল ইসলাম প্রমুখ।
তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয়  সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এর উপর নির্যাতন বন্ধ করে তাকে মুক্তির আহবান জানিয়ে বলেন, যদি তার উপর নির্যাতন বন্ধ না করা হয় ,অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, সরকারের অতি উৎসাহী কিছু লোকে অপতৎপরতা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে তার কোন ধরনের ক্ষতি হলে এদেশের  লক্ষ-লক্ষ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেটের বহুল আলোচিত ধণাঢ্য ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান আতিক হত্যা মামলার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্র পক্ষ। এ লক্ষে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে মামলার ২ সাক্ষী সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো: মিজানুর রহমানের আদালতে তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট জানা গেছে, গতকাল বিকেলে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো: মিজানুর রহমানের আদালতে মামলার সাক্ষী আবুল হাসান বাবুল ও আব্দুল মুনিম তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে মামলার বাদী হাজী খুরশেদ আলী, সিলেটের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম ও আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট জ্যোৎস্না ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর পারস্থ নিজের মালিকানাধীন হোটেল অনুরাগের তৃতীয় তলার ৩২২ নং কক্ষ থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় আতিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  নিহত আতিক হোটেল অনুরাগের মালিক লন্ডন প্রবাসী হাজী খুরশেদ আলীর পুত্র। আতিক নিজেও লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি হোটেল অনুরাগের এমডি ছিলেন। এ ঘটনার পরদিন কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ২০১১ সালের ১৮ জুন শফিকুর রহমান শফিক, সুমন উরফে মামা সুমন ও খোকন নামের ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়। এর মধ্যে শফিক ও সুমন গ্রেফতার হন। হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন শফিক। এক পর্যায়ে আদালতের জামিন নিয়ে শফিক দেশ থেকে পালিয়ে যায়।
এদিকে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল দেয়া ২ সাক্ষীসহ এ পর্যন্ত ৫ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার ৩১ সাক্ষীরদের মধ্যে বাকীদের সাক্ষ্য গ্রহণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম। তিনি জানান, আগামী ২ মাসের মধ্যেই মামলার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় ‘মেসাস ফেমাস পরিবহন সংস্থা’ নামক প্রতিষ্ঠানে গোলাম মৌলা নামক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে গত ১৯ মে, রোববার সকালে কতিপয় সন্ত্রাসী রামদা সহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙ্গে নগদ টাকা সহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী এনাম হোসেন রুমী সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-২০, তাং ২০/০৫/ ২০১৩ইং, ধারা-১৪৩/ ৩৮০/ ৪২৭ বা: দ: বি:)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোলাম মৌলা ও গোপাল সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে তারা জোরপূর্বক ওই প্রতিষ্ঠান দখল করে প্রতিষ্ঠানের মালিককে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এনাম হোসেন রুমী অত্যন্ত নিরীহ লোক বিধায় গোলাম মৌলা গংদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না। আসামীরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বিধায় এনাম হোসেন রুমী নিরবে সবকিছু সহ্য করে চলছিলেন।
উল্লেখিত তারিখে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখল করার লক্ষ্যে আসামীরা বেপরোয়াভাবে আক্রমণ চালায়। এর পূর্বেও একাধিকবার রুমীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের মালিক থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিলেও নিরীহ রুমী জীবনের নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তিনি মনে করছেন আসামীরা যেকোনো সময় তাকে বা তার পরিবারের লোকজনকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে পারে। এ ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিৎ বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোবহানীঘাট এলাকার কতিপয় ব্যবসায়ীদের অভিমত।
               

 
 
 
 
 
 
 

এটিএম তুরাব, বিয়ানীবাজার:
সিলেটের নবাগত জেলা প্রশাসক  মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজিবী সংগঠন, শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে মত বিনিময় করেছেন। উপজেলা পরিষদ হল রোমে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের পূণ্য ভূমি সিলেট এখন দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক শান্ত। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর পূণ্যভূমিতে আগেও কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের এ দেশ। ধর্মীয় সকল কাজ সঠিকভাবে পালন করা আমাদের কর্তব্য। কিন্তু ইসলামের সঠিক জ্ঞান আমাদের অনেকের না থাকার কারণে স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করছে এবং তারা দেশে সংঘাত সৃষ্টি করছে। এ থেকে সকলকে সজাগ থাকার জন্য তিনি আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারী কর্মকর্তা, আমাদের কাজ হচ্ছে, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কাজে অগ্রসর হওয়া। আমাদের পবিত্র দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। তাই সেবার মন মানসিকতা নিয়েই এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। সিলেটের মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এলাকা বিয়ানীবাজার। শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আমার পূর্বেরও পরিচয় ছিল। তিনি এলাকা তথা দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দেশ বিদেশে সরকারের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বাস্তবমুখি শিক্ষানীর কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেছি। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। শিক্ষামন্ত্রীর স্বল্প সময়ে এই এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে স্বাধীনতার পর এ রকম উন্নয়ন কোথাও হয়েছে কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান রুমা চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ কলা, আহমদ হোসেন বাবুল, ছালেহ আহমদ বাবুল, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস দেওয়ান মকসুদুল ইসলাম আওয়াল, শিক্ষাবীদ আলী আহমদ, বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ, মুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম,এ ওদুদ রোকন, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ জলিল, কুড়ার বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলকাছ আলী, মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিহাবুল ইসলাম, চারখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমদ আলী, দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ ছালাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুদ্দিন জাফরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান, সাংবাদিক এম.হাসানুল হক উজ্জ্বল, আব্দুল ওদুদ, ছাদেক আহমদ আজাদ, এটিএম তুরাব, এম সিন উদ্দিন, ব্যবসায়ী আজাদ উদ্দিন, খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক, এছাড়াও বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী দিবা রানী দে বাবলীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তাকে নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নগরীর ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডবাসী এ অভিযোগ করেন। ওয়ার্ডবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ইউসুফ কবির।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নগরীর যতরপুর এলাকার বাসিন্দা মনিন্দ্র রঞ্জন দেবের স্ত্রী দিবা রানী দে বাবলী তাদের মনোনিত প্রার্থী। কিন্তু তাকে পরাজিত করাতে স্থানীয় চক্রটি নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দিবা রানী দে বাবলীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এ অবস্থায় তিনি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিলে ওয়ার্ডবাসী তাকে নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে এগিয়ে আসেন। বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি বাবলী ও তার স্বামীকে নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। ২০১১ সালের ৪ আগষ্ট তৎকালীন কাউন্সিলর শাহানারা বেগম শানু বাবলীর স্বামী মনিন্দ্র রঞ্জন দে এদেশের নাগরিক নয় বলে প্রত্যায়নপত্র দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলান। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসাবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গত মার্চে লাগানো পোস্টার ও বিলবোর্ড ছিড়ে ফেলা হয়। গত ২২ মার্চ রাষ্টপতি জিল্লুর রহমানের শোকসভা শেষে যতরপুর বাসায় ফেরার পথে বাবলীর স্বামী মনিন্দ্রকে মারধর করে তার পায়ের গোড়ালির উপরের রগ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ১ মে রাতে দূর্বৃত্তরা বাবলীকে মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার বাসায় হেরোইন ফেলে রেখে যায় বলে তারা অভিযোগ করেন। এর আগে শাহপরাণ থানার সাদা পোষাকধারী পুলিশ বাসায় ঢুকে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনা ও ষড়যন্ত্রের পর দিবা রাণী দে বাবলী বাদি হয়ে দুর্বৃত্তদের আসামী করে কোতোয়ালি থানায় মামলা ও একাধিক জিডি করেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। সাংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাহাড়সম ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যখন দিবা রানী দে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, তখনই তার ছবি দিয়ে ফেইসবুক ও ইন্টারনেটে কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ওয়ার্ডের ভোটারসহ তার শুভানুধ্যায়িরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। ওয়ার্ডবাসী তাকে নির্বাচন থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করে আসন্ন নির্বাচনে অপপ্রচারকারীদের জবাব দেওয়ার আহবান জানান। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অহেতুক হয়রানী ও অপ্রচার বন্ধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অজিত কুমার দাস, কিশোর চন্দ্র দেব, কাজল ঘোষ, সুকেস দাস, মোখলেছ মিয়া, মিজান শেখ, কামাল মিয়া, চাঁন মিয়া, সিরাজ মিয়া, প্রকৃতি ঘোষ, রফিক মিয়া, রূপম ঘোষ, আব্দুল আহাদ সাজল, শিমুল ঘোষ, স্বপন ঘোষ, সজল ঘোষ, অপু ঘোষ, মিন্টু ঘোষ, মো. আমিক, মনতুষ ঘোষ প্রমুখ।
               

 
 
 
জনমত জরিপ

দেশের বর্তমান সমস্যা সমাধানে দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ জরুরী---আপনি কি এই বক্তব্য সমর্থন করেন?

 
হ্যাঁ না
 
 

ফলাফল দেখুন

  ছবি কথা বলে
 
 
r
vf
gg
d
gg
yyy
tty
dd
 
 
 
রবিবার সারাদেশে ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট আগামী রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু এই হরতালের ডাক দেন।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, দুর্নীতিবাজ মহাজোট সরকারের পদত্যাগ ও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিরোধী জোট এই কর্মসূচি দিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কঠোর সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমি জানি না সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার কার প্ররোচনায় এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তিনি যা বলেছেন তা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে নাসিম সাহেবের এমন মন্তব্য খুবই নির্মম। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তার এই ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য আশা করা যায় না। তারেক রহমান অচিরেই বাংলাদেশে আসবেন। আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।
মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে যে সব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা সামলানোর পরামর্শ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন আন্দোলন খেলা শুরু করেছেন। আমরা আবারো বলতে চাই, আসুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা করি। নইলে রাজপথে এর সমাধান হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।               

 
 
আরিফুল হক চৌধুরীকে বেগম জিয়ার সমর্থন
 

আরিফুল হক চৌধুরীকে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক  আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে মেয়র পদে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  বিএনপির চারজনের মধ্যে কে হবেন মেয়র প্রার্থী তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। বিষয়টিতে সমঝোতা করতে গত সোমবার সিলেট যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

তিনি বিএনপির চার প্রার্থীকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক বসেন। বৈঠকে কোন সমঝোতায় না আসতে পেরে ঢাকায় ফেরত আসেন তিনি।

এদিকে বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে আসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির এ চার প্রার্থীকে ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডাকেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ।

সিলেটে মেয়র প্রার্থীতার বিষয়টি নিয়ে রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন চারজনের সাথে বৈঠকে বসেন। পরে বিষয়টিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়। দীর্ঘ বৈঠকের শেষে সিলেটের মেয়র প্রার্থী হিসাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা দেয় বিএনপি।

এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে অন্য তিন প্রার্থী ও সিলেট বিএনপির সকল নেতা-কর্মীকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।                

 
 
উপশহরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ী খুন
 

সিলেট নগরীর উপশহরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে রিংকু বড়ুয়া  নামের এক  ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে এমসি কলেজের এক ছাত্র তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিংকু বড়ুয়ার পিতার নাম সুকুমার বড়ুয়া। উপশহর বি ব্লকে তার বাসা(নং ৩৭)।হত্যা কান্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।

 
 
লন্ডনে ফের সন্ত্রাসী হামলা, এক সেনা নিহত
 

আবদুল কাইয়ূম, লন্ডন থেকে:
লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় এক সেনা নিহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে দক্ষিণ পূর্ব লন্ডনের উইলউইচ এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় দুই সন্ত্রাসী কুপিয়ে এই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় লন্ডন জুড়ে আতংক বিরাজ করছে। নিহত ব্যক্তি উলউইচ রয়েল আর্টিলারি ব্যারাকের একজন সেনা সদস্য বলে জানা গেছে। বর্বর এই ঘটনার পর লন্ডনের সব সেনা ব্যারাকে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে সন্দেহভাজন দু’জনকেই আটক করে। তবে পুলিশের গুলিতে তারা মারাত্মক আহত হওয়ায় কড়া নজরদারিতে তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভুত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ডেইলি টেলিগ্রাফ একটি উগ্রবাদী গ্রুপের নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীদের একজন নও মুসলিম। প্রায় এক দশক আগে মাইকেল আডিবুলাজো ধর্মান্তরিত হবার পর মুজাহিদ নাম ধারণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীসুত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে উলইচের জন উইলসন স্ট্রিটে সংঘটিত এই ঘটনার সময় মিলিটারি চ্যারিটি ‘হেল্প ফর হিরোস’ লিখা টি-শার্ট পরিহিত ২০ বছর বয়সের এক যুবককে আক্রমণ করে অপর দুই যুবক। এতে ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
হোম সেক্রেটারী টেরেসা মে এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলা বৃটেনের বিরুদ্ধে হামলা। তিনি ঘটনার পরপরই ইমারজেন্সী রেসপন্স টিম কোবরা-র সাথে বৈঠক করেছেন। লন্ডনের সব ব্যারাকের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 
ফ্রান্স সফররত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার রাতেই লন্ডন ফিরেছেন। ক্যামেরন দেশে ফিরেই রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সিকিউরিটি ফোর্সদের ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিম কোবরা-র সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এই হত্যাকান্ডকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মনে করছেন ক্যামেরন । যেকোন সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরণের হামলার পর বৃটেন কখনও চুপ করে বসে থাকবে না।
ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যাক্তি রক্তাক্ত হাতে রক্তমাখা মাংস কাটার ছুরি উচিয়ে ধরে বলছে, ‘তারা আমাদের বিরুদ্ধে হামলা করলে আমাদেরও পাল্টা হামলা করতে হবে। চোখের বদলে চোখ আর দাঁতের বদলে দাঁত ফেলতে হবে। ওই লোকটি আরও বলছিল, মহিলাদের আজ এমন দৃশ্য দেখতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত, কিন্তু আমাদের দেশের মহিলাদেরও এমন দৃশ্য দেখতে হয়। তোমরা কখনও নিরাপদ অনুভব করবে না। তোমাদের সরকারকে উৎখাত করো; তারা তোমাদের কথা ভাবে না।’ বিবিসির জানায়, হামলাকারীরা হত্যাকান্ডের পর ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেমস জানান, দুইজন লোক প্রায় ২০ বছর বয়স্ক অপর এক লোকের উপর হামলা করে। তারা ক্ষেপে গিয়ে তাকে ফুটপাত থেকে টেনে নিয়ে রাস্তার মাঝখানে ফেলে রাখে। বর্বর এই হামলার পর দুই লোক প্রকাশ্যে ছুরি উঁচিয়ে আশপাশের লোকজনকে তাদের ছবি তোলার আহবান জানাচ্ছিল। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই ঘটনা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাকে ঘটনাটি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে। লন্ডন মেয়র বরিস জনসন তার টুইটার বার্তায় বর্বর ঘটনাটিকে অসুস্থ, প্রতারণামূলক এবং ক্ষমার অযোগ্য সন্ত্রাসী কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। লেবার লিডার এড মিলিবান্ড টুইটারে লিখেছেন, এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। গোটা দেশ আতংকিত। এদিকে, উলউইচের বর্বর হত্যাকান্ডের পর দক্ষিণ পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্ট ও এসেক্স এলাকার দু’টি মসজিদে বর্ণবাদী হামলা এবং আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এই পৃথক দুটো ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত নৃশংস হিসেবে উল্লেখ করে। সাবেক এমপি পদপ্রার্থী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইমাম আজমল মসরুরও বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারের এই বর্বর ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭/৭ এর সন্ত্রাসী ঘটনায় ৫২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। প্রায় ৮ বছর পর বুধবার দিবালোকে লন্ডনের রাস্তায় এমন বর্বর সন্ত্রাসী ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটলো।
               

 
 
কামরানকে ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন
 

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাগরিক কমিটির ব্যানারে প্রার্থী হওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দল। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে সভা করে কামরানকে সমর্থন দেন সিলেটের ১৪ দলের নেতারা। সেই সাথে কামরানের বিজয় নিশ্চিত করতে ২৭ ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে প্রচারণা চালাতে গিয়ে যাতে নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়।

সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১৪ দলের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ১৪ দলের অর্ন্তভূক্ত সকল রাজনৈতিক দলের জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সদস্য রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, মহানগরের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা ন্যাপের সভাপতি সৈয়দ এমএ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া, জেলা জাসদের সভাপতি কলন্দর আলী, মহানগর সভাপতি জাকির আহমদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, আজাদুর রহমান আজাদ, রণজিত সরকার প্রমুখ।:            

 
 
দক্ষিণ সুরমায় বিয়ের গাড়ি দুর্ঘটনা কবলিত, নিহত ১,আহত ২০
 

দক্ষিণ সুরমার তেতলীতে বিয়ের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি প্রাইভেট কারকে ওভারটেক করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম পিয়াস দাস (২৫)। ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও ইউনিয়নের কায়স্তগ্রামের তার বাড়ি। তিনি মাইক্রেবাস যোগে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসছিলেন। প্রথমে টুকেরবাজা তেমুখীতে দুর্ঘটনার খবর চাউর হলেও পরে জানা যায় তেতলীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হতাহতের ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন এস আই কামরুজ্জামান। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে। তবে, তিনি তাৎক্ষনিকভাবে তার নাম জানাতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে তেতলী বাইপাস দিয়ে জনৈক ব্যক্তি প্রাইভেট কারযোগে সিলেট আসছিলেন। এ সময়ে বিয়েতে যোগ দিতে আসা একটি মাইক্রোবাস প্রাইভেট কারকে ওভারটেক করার চেষ্টা চালায়। ওভারটেক করতে গিয়ে কারের সামনে একটি ট্রাকের সাথে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ বাধে। ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০জন লোকজন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, মাইক্রোবাসযোগে সংশ্লিষ্টরা ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে সিলেট নগরীর বৈরাতি কমিউনিটি সেন্টারে আসছিলো। ওই সেন্টারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমানের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো।

ওসমানী হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার সিলেটের সকালকে জানান, আহত ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া মৃত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে তিনি তার নাম জানাতে পারেননি।               

 
 
আটগ্রাম-রতনগঞ্জ রোড: কষ্ট কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না জকিগঞ্জবাসীর
 

রহমত আলী হেলালী:
সিলেট শহর থেকে সবচেয়ে দূরের উপজেলা জকিগঞ্জ। এ উপজেলার মানুষ সরকারী সুযোগ সুবিদা থেকে বার বার বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষের জীবনের মৌলিক যে কয়টি বিষয় রয়েছে তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে জকিগঞ্জবাসী। যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেট জেলার আরো ১১টি উপজেলা থেকে জকিগঞ্জ অনেকগুণ পিছিয়ে রয়েছে বলে এখানকার সাধারণ মানুষ মনে করেন। উপজেলার সিংহভাগ এলাকায় এখনও বিদ্যুতের আলো পৌছেনি। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন উপজেলার সর্বত্র গ্যাস সরবরাহ করা হলেও জকিগঞ্জ বাসীর কাছে তা এখনও শুধু স্বপ্ন। এরপরও তারা ধৈর্য্য হারায় নি। দাবী আদায়ের জন্য মাঠে নামেনি। শান্তি প্রিয় মানুষগুলো নীরবে নিভৃত্বে বসে সরকার বাহাদুরের দিকে চেয়ে অপেক্ষার প্রহরগুণছে। উপজেলাবাসী ভাবছে হয়তো একদিন জকিগঞ্জবাসীর দূর্ভোগের কথা সংশ্লিষ্টদের চোঁখে পড়বে। উদ্যোগ নেয়া হবে তা সমাধানের। তবে যোগাযোগ ক্ষেত্রে বারবার প্রতারিত হওয়া এ উপজেলার মানুষ আর ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারছে না। দেয়ালে পিঠ ঠেকার উপক্রম। বর্তমান সরকারের প্রায় শুরু থেকে উপজেলার রাস্তাঘাট গুলো ভেঙ্গে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত হলেও তা বারবার আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদার দিয়ে কোন মতে সংস্কার করা (ছেফ দিয়ে, লেপ ঢাকা) হচ্ছে। বিশেষ করে জকিগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা সদরে আসার একমাত্র রাস্তা আটগ্রাম-জকিগঞ্জ রোড দীর্ঘদিন থেকে ভেঙ্গে বড় বড় শতাধিক  গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দু’একবার তা সংস্কার করা হলেও মাত্র এক-দু’মাসের মাথায় তা আবার ভেঙ্গে আরো বৃহৎ গর্তের সৃষ্ঠি হয়। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে নিুমানের কাজ করে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করাটাই দায়ী বলে স্থানীয়রা জানান। জানা যায়, ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে আটগ্রাম-রতনগঞ্জ সড়কের ২২ লাখ টাকার সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কার কাজের দুই মাসের মধ্যেই রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়। ছোট বড় দুই শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয় এ সড়কে। দীর্ঘ দু’বছরের অধিক সময় রাস্তাটি ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকারপর মাননীয় এমপি মহোদয়ের হৃদয়ে জকিগঞ্জবাসীর প্রতি সহানুভুতি জাগলে তিনি রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ প্রকল্পটি অনুমোদন লাভের পর শুনা যায়, জানুয়ারীর শেষ দিকে কাজ শুরু হবে এবং কাজটি হবে আর্ন্তজাতিক মানের। কিন্তু হায়! মাত্র কিছুদিনের মাথায় এ বরাদ্ধের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। দেখা যায়, মাত্র ১০ কিলোমিটার রাস্তার কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করে একজন বির্তকিত ঠিকাদারকে ৭ কিলোমিটার রাস্তার কাজ দেওয়া হয়। যার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের অভিযোগের কোন শেষ নেই। এছাড়া বাকি ৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এখনও কোন ঠিকাদার পেয়েছে কি না তা জানেনা জকিগঞ্জবাসী। অথচ আটগ্রাম থেকে রতনগঞ্জ হয়ে মনসুরপুর পযর্ন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় মিনি পুকুরের মতো গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে তা আরোও বৃহৎ আকার ধারণ করছে। বাকি ৭ কিলোমিটার রাস্তার ঠিকাদার শামসুল আলম বাবুল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করলেও প্রথম থেকেই তার বিরুদ্ধে নিুমানের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। দেখা দিয়েছে এলাকার মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন, বির্তকিত ঠিকাদার ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বাবুলকে দিয়ে বারবার পরিকল্পিতভাবে টেন্ডা দেওয়া হয়। সংস্কারে অনিয়ম করায় তাকে অতিতে জরিমানাও করা হয়েছিল বলেও অনেকে জানান। বির্তকিত ঠিকাদার বাবুল আবারো সে সড়কের কাজ পাওয়ায় যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ভালো কাজের ব্যাপারে আস্থাহীনতায় রয়েছেন। আড়াই কোটি টাকার কাজের মধ্যে কত টাকার কাজ হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনেককে বলতে শুনা যায়, অতিতের ন্যায় এবারও এলজিইডির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদার মিলে গিলে ফেলবেন প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকা। আর বিগত অভিজ্ঞতায় তাদের সে ধারণা অমুলক নয় বলেও সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন। এনিয়ে আওয়ামী ঘরানায়ও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একটি পক্ষ বলছে এবার যদি এ রাস্তার কাজ ঠিক মতো না হয় তবে আগামীতে এলাকাবাসীকে নিয়ে চাঁদা তুলে রাস্তার কাজ করানো হবে। এছাড়া ‘ছেপ দিয়ে লেপ’ জাতীয় কাজ করার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার কথা বলেছেন অনেকে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদ বলেন, রাস্তাটিতে নিুমানের কাজ হচ্ছে এমনটাই সর্বত্র শুনা যাচ্ছে। তিনি জেলা ও উপজেলা আইন শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় পৃথকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলেও জানান। এনিয়ে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বাকবিতন্ড হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন,কাজটি সিডিউল মতো হচ্ছে না। এছাড়া আটগ্রাম থেকে বাকি প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার করুন দশার কথাও তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বলেছেন। তিনি নিজেই বলেন রতনগঞ্জ বাজারের ভিতরে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এতে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া গর্তের ভিতর জমে থাকা পানি গাড়ি চলাচলের সময় বাজারে চলচলরত মানুষের কাপড় চোপড়ে পড়ে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে যে কোন সময় আইন শৃংখলার চরম অবনতি হতে পারে বলেও তিনি জানান। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে এখনই ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য জোর দাবী জানান। সাবেক পৌর মেয়র ইকবাল আহমদ বলেন-ঠিকাদার বাবুল এ কাজ পাওয়ায় আমরা মনে করি জকিগঞ্জবাসীর কপালে যে কষ্ট ছিল সে কষ্টই থাকবে। তিনি কাজ শুরু করেছেন আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছি কাজে অনিয়ম হলে জকিগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। যুবলীগ নেতা নুরুল হক অনু বলেন-ঠিকাদার বাবুল সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কাজ ভাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ হবে না। তার কাছে মান সম্মত কাজ আশা করা বোকামি। সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আতিকুর রহমান মনি বলেন, কাজ যাকে দেওয়া হোক না কেন এবার কাজের কোন ধরণের অনিয়ম ও গড়িমিশি করা হলে আমরা আগামীতে এলাকাবাসীকে নিয়ে চাঁদা তুলে কাজ করবো। বারহালের সমাজসেবী আহমদুল হক চৌধুরী বেলাল বলেন, সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুসরণ না করে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কাজলসার ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবী শফিকুর রহমান বলেন, লোভা ছড়ার পাথরের সাথে ভোলাগঞ্জের পাথর মিলিয়ে নিুমানের কাজ করা হচ্ছে। যা বেশীদিন ঠিকে থাকবে না। দু’তিন মাসের মাথায় আবারও ভেঙ্গে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, কাজ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু জকিগঞ্জবাসী ফল ভোগ করতে পারবে বলে মনে হয় না। কেননা কাজ হচ্ছে একেবারে নিুমানের।
এব্যাপারে ঠিকাদার শামসুল আলম বাবুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কাজ ঠিক মতো হচ্ছে। কোথায়ও নিুমানের জিনিষ ব্যবহার করা হচ্ছে না।
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বাদশাহ আলমগীর বলেন, আমি নিয়মিত তদারকি করছি। এখনও নিুমানের কোন কাজ হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে না।
এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কাজের কোথায় অনিয়মের খবর পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, এই রাস্তার পাশে জকিগঞ্জের বৃহৎ ৪টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জিএমসি স্কুল এন্ড কলেজ, জকিগঞ্জ সরকারী কলেজ ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবন রয়েছে। এরমধ্যে ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা, লামারগ্রাম টাইটেল মাদ্রাসা ও হাড়িকান্দী টাইটেল মাদ্রাসার বিভন্ন মাহফিলে বছরে দেশের দূরদুরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয়। এতে সেসকল মানুষের চলাচলে দারুণ দূভোর্গ পোহাতে হয়। শুধু তাই নয় বর্তমানে রাস্তার এই করুণ অবস্থার ফলে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদ বিকল্প রাস্তা শেওলা-জকিগঞ্জ রোড হয়ে জকিগঞ্জ আসেন বলে অনেকে জানান।
               

 
 
আরিফুল হকের সমর্থনে সম্মিলিত নাগরিক জোট করা হচ্ছে
 

সিলেট নগরীর উন্নয়নে সম্মিলিত নাগরিক জোট গঠিত হচ্ছে । এ জোট গঠনের লক্ষ্যে বুধবার রাতে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এম আতাউর রহমান পীর। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম, সাবেক এমপি আবেদা চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, জিয়া ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী আশফাক আহমদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দাল মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান এমরান রববানী, মহানগর বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জিলু, জিয়াউল মোস্তফা চৌধুরী খুররম, পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা, মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট, মহানগর বিএনপি নেতা এডভোকেট ফয়জুর রহমান চৌধুরী জাহেদ, আব্দুল সালাম নিশি, হাজী আব্দুল কাইউম, সৈয়দ মকবর আলী, আলাউদ্দিন আহমদ, হাজী মেরাই মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট চেম্বারের পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, শেখ মকবুল হোসেন মকু মেম্বার, হাজী মশাহিদ আহমদ, শ্রমিকদল নেতা মাসুক এলাহি চৌধুরী, প্রবীণ বিএনপি নেতা ইসমাইল আলী বাবু, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মুক্তিযোদ্ধাদলের মহানগর শাখার যুগ্ম-আহবায়ক সুহাদ রব চৌধুরী, মাসুদ আহমদ আফতাব, ট্রাক শ্রমিক নেতা আব্দুল্লা, আম্বরখানা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী মন্তাজ আলী, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল রশীদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম বাবলু, উত্তম সিং রতন, এস রতন সিনহা, ধনঞ্জয় চৌধুরী, ফনি পুরকায়স্থ, কাজল ভট্টাচার্য, জাতীয়তাবাদী হোটেল শ্রমিক দলের জেলা সভাপতি রজব আলী, সিলেট ছাত্র যুব কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এইচ এম আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, সুয়েবুল হক উসমানী, পরিবহন শ্রমিক নেতা জয়নাল আহমদ, সোয়েব আহমদ, শাহজাহান আলম শাহীন, হকার্স দলের সভাপতি শফিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ, আবুল কাশেম, বিশিষ্ট মুরববী গফুর মিয়া, হাফিজ মো. রইস উদ্দিন প্রমুখ। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাকির হোসেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হক সিলেট নগরীর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে সম্মিলিত নাগরিক জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহবান জানান। কারণ একটি পরিবর্তন এখন অপরিহার্য। বক্তারা বলেন, গত ১৫-২০ বছরে সিলেট নগর কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। নগরবাসীকে তারা জঞ্জাল উপহার দিয়েছেন। যানজট, জলাবদ্ধতা পানীয় জলের অভাবসহ নানামুখী সমস্যা নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমতাবস্থায় নগরবাসী আর কোন ব্যর্থ নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে নিজেদের দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে রাজী নন। সভায় বক্তারা সিলেট নগরীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিসহ একটি অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য এম সাইফরু রহমানের উন্নয়ন সহযোগী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে আগামী নির্বাচনে কাজ করার অভিমত ব্যক্ত করেন। এজন্য বৃহৎ পরিসরে সকল দল মতের মানুষকে নিয়ে সম্মিলিত নাগরিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। শীঘ্রই ২৭ টি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সমন্বয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।                

 
 
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের আদর্শ তরুণ প্রজন্মকে ধারণ করতে হবে--- স্মরণ সভায় বক্তারা
 

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মকে ধারণ করতে হবে। দেশে শিক্ষা ও সুশাসন বিস্তারের পাশাপাশি পরিবেশ-নদী-বন রক্ষায় তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। বাংলাদেশের দুর্নীতির উৎস অনুসন্ধান থেকে শুরু করে এটি নিমূর্লের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রামী ছিলেন।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নগরের বারুতখানা এলাকায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই দাঁড়িয়ে প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম।    বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিমের সঞ্চালনে বক্তৃতা দেন বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, ইমদাদুল হক, আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী, সঞ্জয় নাথ, মোমেন মিয়া, রুবেল আহমদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বাংলাদেশে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাপা, সুজন, টিআইবি, জাতিসংঘ সমিতিসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। তাঁর জীবন ও কর্মের সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে তরুণ প্রজন্ম কখনোই আদর্শচ্যুত হবে না। মোজাফ্ফর আহমদের জীবন অনুসরণ করে তরুণেরা দেশপ্রেমী হতে শিখবে।
               

 
 
মন্ত্রীর স্ত্রীর কান্ড: ছাত্রীদের জামার হাতা কেটে দিলেন
 

নিউজডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল ও শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর স্ত্রী মাহবুবা খানম কল্পনা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে অর্ধশতাধিক ছাত্রীর স্কুল ড্রেসের জামার ফুলহাতার অর্ধেকটা কেটে দিয়েছেন। এ সময় কাঁচিতে অনেকের হাতেও আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  বুধবার ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ফুলহাতা শার্ট পরে এসেছে- এমন অভিযোগ তুলে স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মাহবুবা খানম কল্পনা কাঁচি দিয়ে ছেলেদের সামনেই মেয়েদের জামার হাতা কেটে দেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের শাস্তির দাবিতে তারা স্কুল প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন। স্কুলের গভর্নিং বডি যদি আজকের মধ্যে তাদেরকে অপসারণ না করে, তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে জানান অভিভাবকরা।

অভিভাবক আব্দুল আলিম মিয়া বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা নির্দেশনা না দিয়ে এ কাজ করেছে। এ রকম স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় কারণে হিজাব বা ফুলহাতা পরে আসতেই পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ নয়। আমরা স্কুলের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ দাবি করছি।

তিনি বলেন, মন্ত্রীর স্ত্রী হওয়ার দাপটে স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল এ কর্মকান্ডের পাশাপশি এর আগেও অনেক স্বৈরাচারী কর্মকান্ড করেছেন।

অভিভাবক সায়মা সুমী জানান, ইভটিজিং প্রতিহত করার জন্য এতো প্রচেষ্টা চালানো হয়। আবার ফুলহাতা ড্রেস পরে এলেও তা কেটে দেয়া হবে, তাহলে ইভটিজিং কমবে কিভাবে? আমরা মেয়েদের শালীনতার কথা চিন্তা করে হিজাব ও ফুলহাতা শার্ট পরতে উৎসাহিত করি- সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধা দিচ্ছে!

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নওশিন বলেন, আমাদের আগে কখনো নোটিশ দেয়া হয়নি। ক্লাসে কখনো বলাও হয়নি। আমরা হিজাব পরিধান করি। কিন্তু এর সাথে শর্ট হাতা পরলে সবাই খারাপ ভাববে। তাই ফুলহাতা পরে আসি। কিন্তু ম্যাডামরা আমাদের কোনো ধরনের সুযোগ না দিয়ে সবার সামনে হাতা কেটে দিলেন।

আরেক অভিভাবক জহিরুল ইসলাম জানান, মুসলিম দেশে মেয়েরা ফুল হাতার পোশাক পরিধান করতেই পারে। যদি এটি তাদের পছন্দ না হয় তাহলে জিন্সের প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরার নিয়ম করুক। তিনি মন্ত্রীর স্ত্রী বলে যা ইচ্ছা তাই করবেন- এটা হতে পারে না। এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ড. উম্মে সালেমা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার নির্দেশে তাদের জামার হাতা কেটে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে আমি তাদের অনেকবার নিষেধ করেছি ফুলহাতা পরে আসতে। কিন্তু এরপরও তারা একই কর্মকান্ড করেছে। তাই স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল কাঁচি দিয়ে ফুলহাতা কেটে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্কুলের নিয়ম অনুসারে সবাইকে ড্রেস পরে স্কুলে আসতে হবে। এর বাইরে মেনে নেয়া হবে না। তবে কেউ যদি পর্দার কারণে ফুলহাতা শার্ট ও হিজাব পরে, তবে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

উদয়ন স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মাহবুবা খানম কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বারবার ফোন করলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
--জাস্ট নিউজ                

 
 
পাঠানটুলা পয়েন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে এমসি কলেজ ছাত্র খুন
 

পাঠানটুলা পয়েন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে এমসি কলেজ ছাত্র আহমদ ইমতিয়াজ পারভেজ খুন হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৪টায় নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পারভেজ এমসি কলেজের অর্থনীতি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। তিনি সিলেট সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মজম্মিল আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারভেজ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে পাঠানটুলা পয়েন্টে আসলে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী তার সিএনজির গতিরোধ করে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনে এবং রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায়  তাকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 
 
সিলেট বিএনপি’র চার মেয়র প্রার্থীকে ঢাকায় তলব, শমসের মবিন ফিরে গেলেন
 

সিলেট বিএনপি’র চার মেয়র প্রার্থীকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি’র গুলশান অফিসে তাদের সাথে বৈঠক করবেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। এ বৈঠকে দলের একক প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বিুাকারী চার প্রার্থী হলেন-মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। এ চার প্রার্থীর মধ্যে একজনকে দলের মনোনয়ন দিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের দূত হিসাবে সিলেটে আসেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি চার প্রার্থীর সাথে তার হোটেল স্যুটে আলাদা বৈঠক করেন। কিন্তু, এ ব্যাপারে একক সিদ্ধান্তে আসতে অনেকটা ব্যর্থ হন। তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতি দলের চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন। এ অবস্থায় চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড চার প্রার্থীকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় তলব করেছে। দলের সিনিয়র নেতারা তাদের সাথে সেখানে বৈঠক করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, সিলেটে তিনদিনের সফরশেষে আজ বেলা ২টা ২৫ মিনিটে নভোএয়ারযোগে সিলেট ছাড়ছেন শমসের মবিন চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১৪ দলের একক প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপির চার প্রার্থী ছাড়াও জামায়াতের এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।               

 
 
দলীয় গ্রুপিং ভারে ন্যুজ সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল
 

এস এ শফি:
গ্রুপিং ভারে ন্যুজ সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ব্যস্ত না রেখে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচী পালনে ব্যস্ত রয়েছে ছাত্রদলের অসংখ্য গ্রুপ। একে অপরকে ঘায়েল করার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ব্যক্ত রেখে ছাত্রদল গোটা জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগের চেয়ে ভয়াবহ ও ভয়ংকর অবস্থান নিয়ে গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। সিলেটের বেশীর ভাগ ছিনতাই ও হত্যা মামলার আসামী সিলেট ছাত্রদলের কর্মীরা। বিএনপি নেতারা তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পৃথক পৃথক গ্রুপ সৃষ্টি করে তাদেরকে এ পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সক্রিয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিক খালেদ রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তার প্রতি আস্থাশীল। এছাড়া সাইদ আহমদ, আহমদ চৌধুরী ফয়েজও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে ফয়েজের নামে হত্যা, অস্ত্র সহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য চেষ্টা করছেন রেজাউল করিম নাচন, মাহফুজুল করিম জেহিন, আবু সালেহ লোকমান, মতিউল বারী খুরশেদ, তবে আলোচনার শীর্ষে আছেন রেজাউল করিম নাচন, যদিও নাচন এবং জেহিন-এর সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি অস্ত্র সহ একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এইচ রহমান হাবিব, কাজী মেরাজ, আব্দুর রকিব, তবে আব্দুর রকিব জায়গা দখল ও গাড়ি চুরির মামলায় জেল খেটেছেন, মেরাজের নামে রয়েছে চুরি সহ একাধিক মামলা আরও যারা মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য তদবির করছেন তারা হলেন দেওয়ান জাকির, মুমিনুর রহমান তানিম, লোকমান আহমদ, মুরাদ আহমদ, নিজাম উদ্দিন ইমন, হেলাল আহমদ, মির্জা সম্রাট, জিল্লুল হক জিনু, আশরাফ আহমেদ, আবু সালেহ শামীম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। এছাড়া সৈয়দ সাফেক মাহবুব, সিদ্দিকুর রহমান পাপলুও চেষ্টা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মাহবুবুল হক চৌধুরী, শাকিল মুর্শেদ, কোহিনুর আহমেদ, লোকমান তালুকদার লবিং করছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য মইনুল ইসলাম রিপন, আজিজুল হোসেন আজিজ, মকসুদ আহমদ, মিজানুর রহমান নেছার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য লবিং করছেন চৌধুরী মুহাম্মদ সোহেল, নেছার আলম শামীম, রাশিদুল হাসান খালেদ, লায়েক আহমদ, আব্দুল হাকিম জাকারিয়া, ইমাম উদ্দিন, এনামুল হক শামীম। সিলেটের ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবী করেন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, অস্ত্রবাজ ও বিতর্কিত নেতা বর্জিত একটি সুন্দর ও গতিশীল নেতৃত্ব বা বহুধা বিভক্ত ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করতে অতিশীঘ্রই কমিটি ঘোষনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সিলেটের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন। নিকট অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল, আভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলে জর্জরিত ছাত্রদলের পূর্বের সেই অবস্থান এখন আর নেই, ছাত্রদলের রাজনীতি এখন পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রীক হয়ে গেছে, দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে এক সাথে এক স্টেজে দেখা যায় না বললেই চলে। তৃণমুল ছাত্রদলকর্মীরা অলি-গলিতে গজিয়ে উঠা এইসব উপ-গ্রুপের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদকেই দায়ী করেছেন। মহানগর বিএনপি সভাপতি এম এ হক ও সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম মদদপুষ্ট জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব-জেহিন-লোকমান গ্রুপ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী-যুগ্ম সম্পাদক আজমল সাদেক-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদি’র মদদে রয়েছে সবচেয়ে বড় অংশ যার নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকি খালেদ-সাহেদ-চমন-এইচ রহমান হাবিব গ্রুপ, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ডা. শাহরিয়ার-আবুল কাহের শামীম এর সমর্থন পুষ্ট সিদ্দিকুর রহমান পাপলু-সাইদ আহমদ, রেজাউল করিম নাচন গ্রুপ, স্বেচ্ছাসেবক আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির অব্যাহতি প্রাপ্ত ১ম যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জামান জামানের আশীর্বাদ পুষ্ট আব্দুল আহাদ খান জামাল-মতিউল বারী খুরশেদ-আজিজ গ্রুপ, স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির অব্যাহতি প্রাপ্ত ১ম যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জামান জামানের আশীর্বাদপুষ্ট আব্দুল আহাদ খান জামাল, মতিউল বারী খুরশেদ-আজিজ গ্রুপ, ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই আসকির আলীকে কেন্দ্র করে রয়েছে আহমদ চৌধুরী ফয়েজ-শাকিল মুর্শেদ-মকসুদ গ্রুপ, বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী সমর্থিত মাহবুবুল হক চৌধুরী দেওয়ান জাকির গ্রুপ।
এছাড়া গুম হওয়া ছাত্রনেতা দিনারের অনুসারীরা রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফ্ফার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদের সমর্থনপুষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নেতৃত্বের জট, তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রদল, সৃষ্টি হচ্ছে উপ-গ্রুপ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদাসীনতা ও সিলেটের কমিটি গঠনে বিলম্ব নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। গ্রুপ বদল ও নেতা বদলের কারণেই বার বার বাড়ছে সংঘর্ষের ঘটনা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা ও চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে সবাইকে নিয়ে গঠন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কাউন্সিলের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করেও তৃণমূল পর্যায়ে জরিপ করে বার বার উদ্যোগ নিয়ে কয়েকবার কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করেও রহস্যজনক কারণে তা প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে সিলেটের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপির লেজুড়ভিত্তিক থেকে ছাত্রদলকে বের করে আনতে এই মুহূর্তে নতুন কমিটি ঘোষণা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে ছাত্রদলের বিশাল কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগাতে কেন্দ্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন।
               

 
 
বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী আর বিরোধীদল ষড়যন্ত্রে---সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি
 

বাছির সরদার, দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি বলেছেন, আওয়ামীলীগ দেশের উন্নয়ন করেছে, তাই আগামী নির্বাচনে ক্ষামতায় যাবে এটা আমরা বিশ্বাস করি, আর বিরোধী দল ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এটা তাদের বিশ্বাস। কিন্তু ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন ফুরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৪২ বছরের বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ১২ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। আওয়ামীলীগের ৪ বছরের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীদল ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তাদের চক্রান্ত সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। জনগণ বিরোধী দলের এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে তাদেরকে প্রত্যাখান করছে। আওয়ামীলীগের উন্নয়নে মানুষের বিশ্বাস বেড়েছে, নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। জনগণের প্রতি আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেত্রীকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু তিনি মুখোমুখি না হয়ে ছলচাতুরী করছেন। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিভিন্ন প্রকল্প কাজের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসি ও সুনামগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতির কর্মকর্তাদের উদ্যেগে দিরাই গণমিলনায়তন হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল হকের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী জগলুল হায়দার, এজিএম মমিনুল হক, পার্থ চক্রবর্তী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৯৫টি গ্রামে পল্লী বিদ্যুত সমিতি বিদ্যুতায়নের প্রকল্প হাতে নিয়েছে, এরমধ্যে রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর, মির্জাপুর, মাছিমপুর, মেঘনা বারঘর, খাগাউড়া, সেচনী, আনোয়ারপুর, জগন্নাথপুর, কুড়ী নোয়াগাঁও, সমীপুর, গাজিয়ারগাঁও, সাদিরপুর, রামজীবনপুর, সজনপুর, বাসাখরচ। কুলঞ্জ ইউনিয়নের নাগেরগাঁও, শালীরগাঁও, পিতাম্বরপুর, রাড়ইল, টংগর, তারাপাশা, মিলনগঞ্জ বাজার, জারলিয়া, হাতিয়া, নাচনী, রাধানগর, বরইতিয়র, কুলঞ্জ, তেতৈয়া, আকিলশাহ, ভাইটগাঁও, ধাইপুর, ধীতপুর, গলিশাইল, বাউশী, ছোট বাউশী, শোয়াতিয়র, উত্তর সুরিয়ারপাড়, দক্ষিণ সুরিয়ারপাড়। জগদল ইউনিয়নের একতিয়ারপুর, আতবাড়ি, কালধর, চানপুর, বকশিপুর, রাজানগর, মিঠাপুর, বাশুরী, হালেয়া, কদমতলী, সিংহনাথ, নারায়নকুড়ি, জগদল, হোসেনপুর, সিকন্দরপুর, দৌলতপুর, নতুন জগদল, পুরাতন জগদল, হরনগর, বড়বাড়ি। তাড়ল ইউনিয়নের তাড়ল, রণভূমি, কাদিরপুর, উজানধল, ভাটিধল, ধল ভড়াউট, আমিরপুর, সরালীতোপা, বোরহানপুর, ভাঙ্গাডহর, ডাইয়ারগাঁও, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, কলধুম, আশ্রম। রাজানগর ইউনিয়নের কদমতলী, উমেদনগর, কাজুয়াবাদ, ফাতেমানগর, দরগাবাড়ি, ধাপখাই, রন্নারচর, জাহানপুর, শিলারচর, হারানপুর, জাগরনীরচর, মির্জাপুর, অনন্তপুর, জটিরচর, কালীনগর, কাইমা, মধুপুর, ধলুয়া, আনোয়ারপুর।

 
 
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় লেগুনা ড্রাইভার নিহত, আহত ৮
 

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় লেগুনা ড্রাইভার নিহত, আহত হয়েছেন ৮ জন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার পাগলা বাজার বাসস্টেন্ডে সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সিলেট মূখী মিনিবাস (সিলেট.ব.৬৩০৯) ও রাস্থায়দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা (সিলেট ছ-১১-১৫০৯) কে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় লেগুনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা ড্রাইভার উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউপির রায়পুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে মোঃ ইদ্রিছ মিয়া (২৬) ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় আহত হন লেগুনা মালিক, কন্ট্রাক্টর, পথচারি সহ ৮ জন। আহতরা হলেন উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউপির রায়পুর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫), শত্র“মর্দন গ্রামের আরব আলীর ছেলে তছলিম মিয়া (১৫), পাগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তফসিল দার মহছিন উদ্দিন (৪৫), পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শিব্বির আহমদ (১৪), জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের মাফিক মিয়ায় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২০), কামরুপদলং গ্রামের বাশাদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া (১২) সহ অজ্ঞাত আরও ২ জন। আহতদেরকে সিলেট ওসমানি মেডিকে হাসপাতাল, কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা-সড়কে ঘন্টা ব্যাপী যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস আই মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
               

 
 
কেন্দ্রীয় সভাপতিকে রিমান্ডের নামে নির্যাতনের প্রতিবাদে সিলেটে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল
 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর  সভাপতি এড. আনোয়ারূল ওয়াদুদ টিপু বলেছেন-এই সরকার ধারাবাহিক ভাবে নির্বিচারে গ্রেফতার, নির্যাতন, রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া সহ সব ধরনের অমানবিক কাজ অতীতের যে কোন রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। বর্তমানে তাদের রেকর্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রিমান্ডের নামে অমাষিক নির্যাতন করে মুমুর্ষ অবস্থায় আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা। প্রশাসন যন্ত্রের এই বর্বরতা দেখে জাতি আজ স্তম্ভিত। জাতির কাছে আজ প্রশ্ন দেশের আজ মানবাধিকার বলতে কী কিছু আছে। আমাদের মানাধিকারের ধ্বজাদারীরা কোথায় আজ। এর চাইতে আর বড় মানবাধিকার লংঘন আর কী হতে পারে? সরকার ও তারে প্রশাসনের এই নির্মমতা আদিম মধ্য যুগীয় বর্বরতাকেও আজ হার মানিয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর’র উদ্যোগে আয়োজিত শিবিরের কেন্দ্রীয়  সভাপতিকে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর শিবির বিক্ষোভ –মিছিল  পরর্বতী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে  উক্ত কথা বলেন। ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম উদ্দিন এর যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত বিক্ষোভ –মিছিল  পরর্বতী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি সভাপতি হোসাইন আহমদ, সিলেট জেলা পুর্ব সভাপতি মাসুক আহমদ, জেলা পশ্চিম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হা.আব্দুল আজিজ, মহানগর তথ্য ও সমাজসেবা সম্পাদক এবাদুর রহমান, ছাত্রকল্যান সম্পাদক ফখরূল আলম সেলিম, প্রচার সম্পাদক সুহেল আহমদ, অর্থ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, দফতর সম্পাদক মোজাম্মেল হক, এইচ.আর.ডি সম্পাদক  এস.এম.মনোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা শাহেদ আলী, বিমান বন্দর থানা সভাপতি জুবায়ের আহমদ, সিলেট এম সি কলেজ সভাপতি নজরূল ইসলাম প্রমুখ।
তিনি আরো বলেন সরকার এখন জনগনের ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকার চাইছে যে কোন মুল্যে বিরোধী মতকে দমন করতে। তাই তারা বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দকে র্টাগেট করে নিশ্পেষনে নেমেছে। সরকারের বাচাল ও দুনীর্তিবাজ  মন্ত্রী-আমলারাও  জনগনের কাছে তাদের কৃত কর্মের ভয়ে ভীত। তাই তারা জনগনের শেষ ভরসা মত প্রকাশে  মাধ্যমকেও বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয়  সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এর উপর নির্যাতন বন্ধ করে তাকে মুক্তির আহবান জানিয়ে বলেন, যদি তার উপর নির্যাতন বন্ধ না করা হয় ,অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না, হয় তাহলে এদেশের  লক্ষ-লক্ষ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে তার মুক্তি নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

 
 
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী নিয়ে জটিলতা কাটেনি
 

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী নিয়ে জটিলতা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দেবেন বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি’র চার মেয়র প্রার্থীর সাথে আলাদা বৈঠক করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম। সোমবার সন্ধ্যায় ও মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এ চার প্রার্থীর সাথে পৃথক মতবিনিময় করলেও কোন সিদ্ধান্ত জানাননি। এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিুাকারী ৪ প্রার্থী হলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকী, সিনিয়র সহ সভাপতি নাছিম হোসাইন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।
জামান ছাড়া বাকি তিন প্রার্থী সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহরের হোটেল রোজভিউয়ে শমসের মবিনের সাথে দেখা করেন। শামসুজ্জামান জামান মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তার সাথে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন।
গাক্ষাৎ কালে নাছিম, পংকী ও জামান- তাদের তিন জনের মধ্যে থেকে একজনকে প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে অনড়। বিষয়টি তারা শমসের মুবিন চৌধুরীকে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, শমসের মবিন সামগ্রিক পরিস্থিতি অবহিত হয়েছেন। দলের চেয়ারর্পাসনের সাথে আলোচনা করে তিনি এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন সিলেট সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে।               

 
 
ক্রাউন প্লাজায় সভা পন্ডঃ পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে শান্তিপূর্ণভাবে তারেক রহমানের সভা সম্পন্ন
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন:
বহুল আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এবং নেতা-কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সোমবার বেলা আনুমানিক দুইটার দিকে লন্ডনের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বিএনপির সভা শুরু হয়। ব্রিটেন ও ইউরোপের ২৪টি দেশের বিএনপির শাখা কমিটির প্রেসিডেন্ট, সম্পাদক, আহবায়ক এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ক্রাউন প্লাজায় উপস্থিত হন। তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। ক্রাউন প্লাজা শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে। হোটেলের লবির ভিতরে স্থান সংকুলান না হওয়াতে অনেক নেতা-কর্মী বাইরে থেকে হোটেলে ঢোকার জন্য গেইটে ধাক্কা-ধাক্কি করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা ভিতরের পক্ষের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকলে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সাথে কথা কাঠাকাঠি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
বাইরের এই বিশৃঙ্খলার সংবাদ ভিতরে পৌছলে সেখানেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এই পর্যায়ে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা একে অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে সভায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকতার হোসেন সভায় শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মহিদুর রহমান, সাবেক কমিটির আব্দুল মালিক, ব্যারিস্টার এম এ সালাম নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সভা পণ্ড হয়ে যায়।
বেলা দুইটায় ক্রাউন প্লাজার সভার শুরুতে তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে তিনি বাংলাদেশের নিহত জনগণের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন, দুর্গত জনগণের সাহায্যে নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি সরকারের দমন-পীড়নে বিএনপি নেতা-কর্মীদের খোজ-খবর নেন।স্বাগত বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির শক্তিশালী কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলে পুরো হলে বিএনপি নেতা কর্মীরা তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন।স্বাগত বক্তব্যের পর তারেক রহমান তখন বিভিন্ন শাখা কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেয়ার আহবান জানান এবং তিনি সকলেরই বক্তব্য শুনবেন বলে সবাইকে আশ্বস্থ করেন। এই পর্যায়ে একে অন্যের বক্তব্যের বিরোধীতা আর বাইরের হট্টগোলে একে অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে সভা পণ্ড হয়ে যায়।হোটেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ কল করলে সভায় উপস্থিত উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়, এখান থেকে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকতার হোসেন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মহিদুর রহমান, আব্দুল মালিক, এম এ সালাম সহ সভার প্রধান অতিথি তারেক রহমান সভা এখানে স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে চলে আসার কথা বলে সেখানে চলে যান।তারেক রহমান, মহিদুর রহমান, আব্দুল মালিক, এম এ সালাম কেউই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।
পরে বিকেলের দিকে ক্রাউন প্লাজা থেকে সভা সরিয়ে নিয়ে পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে শুরু হয়। সেখানে নির্ধারিত নেতা-কর্মী ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সভা চলছিলো।সেখানে তারেক রহমান অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শুনেন এবং মাঝে-মধ্যে নিজের ডায়রিতে নোট লিখে নিচ্ছিলেন।ক্রাউন প্লাজার মতোই তিনি সবাইকে আশ্বস্থ করেন, সকলের মতামতের ভিত্তিতেই যুক্তরাজ্য বিএনপির গতিকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটি শীগ্রই তিনি ঘোষণা করবেন।এই সভায় বিএনপি নেতা আকতার এবং অধ্যাপক আব্দুল আহাদকে বেশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তারেক রহমানের সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষ্যে সকল পক্ষের সাথে সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।শান্তিপূর্ণভাবে সভা অনেক রাত অবধি চলে।
Salim932@googlemail.com
           

 
 
সাংবাদিক নির্যাতনকারী রাজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলো ছাত্রলীগ
 

নিউজডেস্ক: সিলেট নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী রাজনকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে একই সংগঠনের ক্যাডারা। সিলেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (হেড কোয়ার্টার) মো: আইয়ুব সাংবাদিকদের জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে টিলাগড়ের পয়েন্টে পুলিশ রোববারের অস্ত্রধারী রাজনকে ধরতে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাদের বাধা দেয়। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠাচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,সোমবার রাতে টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে সাদা পোষাকধারী পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী রাজনকে আটক করে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী রাজনকে ধরে নিতে পুলিশকে বাধা দেন। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাছ থেকে রাজনকে ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ উঠে। নিপু টিলাগড়ে  রনজিত-আজাদ গ্র“পের কর্মী হিসাবে পরিচিত।
এদিকে, রাজনকে ছিনিয়ে নেয়ার পর ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখানে মিছিল বের করে। এ কারণে টিলাগড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়।
গত রোববার এমসি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রনজিত-আজাদ গ্র“পের সাথে ও এমপি গ্র“পের নেতাকর্মীদের গোলাগুলি হয়। এতে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এসময় ছাত্রলীগ কর্মী রাজনসহ কয়েকজন ক্যাডার সময় টিভির প্রতিনিধি আবদুল আহাদ ও ক্যামেরাপার্সন নওশাদকে লাঞ্ছিত করে ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

 
 
মঙ্গলবার সারাদেশে শিবিরের বিক্ষোভ
 

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি। সোমবার গণমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিবির সভাপতিকে গ্রেফতারের পর পাঁচ বারে টানা ৫৩ দিন রিমান্ডে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও সোমবার ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা মুমূর্ষু থাকায় আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এতে আরো বলা হয়, ফের ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে সরকার প্রমাণ করেছে তারা বর্বর মানসিকতার অধিকারী।               

 
 
 
 
 
কবিতা
শিল্প-সাহিত্য
বিচিত্রা
ইসলাম
Image Missing
 
 
বিনোদন
বিচিত্রা
বিচিত্রা
বিচিত্রা
মুক্তমঞ্চ
Image Missing
 
 
খেলাধুলা
খেলাধুলা
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য
তথ্য-প্রযুক্তি
তথ্য-প্রযুক্তি
 
 
সংবাদদাতা
জীবন সদস্য
সম্পাদক
Do You Like Us?
 
দেশ বিদেশ
 
 
 

নিউজডেস্ক: বহুল সমালোচিত ড্রোনের ব্যবহার কেবল শক্তিশালী উগ্রপন্থীদের থেকে আত্মরক্ষার হাতিয়ার বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ড্রোন হামলার ফলে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত চার মার্কিনি নিহত হওয়ার ব্যাপারে ওবামা বলেন, “আমরা এখন এমন এক সংগঠনের সংগঠনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছি, যাদের না থামালে তারা যত আমেরিকানকে পারবে হত্যা করবে। তাই এটা কেবলই যুদ্ধ- যা সমানে সমানে শুরু হয়েছে। এর শেষ অবলম্বন হলো আত্মরক্ষা।”

তিনি আরও বলেন, “ যেহেতু আমাদের লড়াই নতুন এক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে, তাই যুক্তরাষ্ট্র বৈধ উপায়ে আত্মরক্ষা করছে কিনা, সেখানেই আলোচনা শেষ হয়ে যায় না। একটি সামরিক কৌশল বৈধ বা কার্যকর হলেই যে তাকে প্রতি পদক্ষেপে বিজ্ঞ বা নৈতিক হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।”

ড্রোনের আক্রমণে যাতে কোনো সাধারণ নাগরিক মারা না যায়, সে ব্যাপারে প্রায় সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রীতিমতো আদর্শ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে সশস্ত্র ড্রোন। কিন্তু এর ব্যবহার বিভিন্ন জটিল আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ড্রোন আক্রমণ আদৌ কতোটা কার্যকর, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাম্প্রতিক বছরগুলোকে ড্রোন হামলা কিছুটা কমিয়ে এনেছে ওমাবা প্রশাসন।

গুয়ান্তামো বে কারাগার বন্ধ করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বক্তব্যে ওবামা বলেন, “গুয়ান্তানামো সারা বিশ্বের সামনে এমন এক যুক্তরাষ্ট্রকে উপস্থাপন করেছে, যারা আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করে।”

গুয়ান্তানামোর বন্দীদের ইয়েমেনে স্থানান্তর আপাতত স্থগিত করবেন জানিয়ে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কারাগারটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানান।               

 
 
 
 
 
 

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে সংলাপ করতে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদুর স্বাক্ষরিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
 
গত ২২ মে বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে যে বৈঠক করেছেন তার আলোচ্য বিষয়বস্তু বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সহিংসতা, হানাহানি, খুন, নিপীড়ন এবং আক্রমণাত্মক ও অশ্লীল মিথা প্রচারণা বন্ধ করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সব দলের অংশগ্রহণ ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজনের জন্য আবারো ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, সর্বক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অপশাসন, দুঃশাসন, কুশাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বশীলদের কান্ডজ্ঞানহীন উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হটকারী আচরণ দেশকে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। সর্বগ্রাসী সংকটে জাতি আজ হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন সংঘাতপূর্ণ অনিশ্চিত পরিবেশ বাংলাদেশে এর আগে আর কখনো সৃষ্টি হয়নি। জাতীয় সমপদের এমন নিষ্ঠুর লুণ্ঠন, এমন নির্লজ্জ জঘন্য দলীয়করণ এবং এমন বর্বর পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কোনো অভিজ্ঞতা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের আর কখনো হয়নি।

জাতীয় স্থায়ী কমিটি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সরকারের এই দুঃশাসন ও সর্বব্যাপী ব্যর্থতার প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এবং বিরোধী দল যখন দেশবাসীর অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন গড়ে তুলছে সেই সময় গণবিচ্ছিন্ন সরকার আরো অস্থির ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো ব্যবহার করে গণহত্যা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে জনগণের ওপর হামলায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রায় সরাসরি সশস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। বিরোধী দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দের ওপরেও সরাসরি গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। মিছিল-সমাবেশ থেকে নারীদের পর্যন্ত ধরে নিয়ে তাদের ওপর দৈহিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের নামে দীর্ঘ সময়ের জন্য রিমান্ডে নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সম্মানিত নাগরিকদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তা অপপ্রচারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা বর্তমান সরকারের এ জঘন্য কু-অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সক্রিয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় পাইকারি গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পর্যন্ত হাস্যকর সব মিথ্যা অভিযোগে বারবার গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশের কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি লোক এখন আটক রাখা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিরোধী দলের নেতাকর্মী। বর্তমান সরকার সারাদেশটাকেই আজ কারাগারে পরিণত করেছে।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় আটক করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মিডিয়ায় রাজনৈতিক ধাঁচের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছে। সরকার এ শৃঙ্খলা ও আইন ভঙ্গ এবং এখতিয়ারবহির্ভূত অপতৎপরতায় মদদ দিচ্ছে এবং তাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বারবার সতর্ক করা সত্ত্ব্বেও প্রজাতন্ত্রের চাকরিরত কিছু সদস্য জনগণ ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দলীয় সন্ত্রাসীর মতো আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের চিহ্নিত করে রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ ও প্রশাসনের আইন মান্যকারী সদস্যদের প্রতি জাতীয় স্থায়ী কমিটি আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার দেশে অঘোষিত একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তন করে গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে দিতে চায়। এ অসদুদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এক অসপষ্ট ও বেআইনি নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। এমনকি দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপির দোয়ার মাহফিলে বাধা দেয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বেশির ভাগ সময়ে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে কার্যত অবরোধ করে রাখা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে যে নেতাই মিডিয়ায় কথা বলছেন, তাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচিতেই সশস্ত্রভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জামিনে মুক্ত নেতাকর্মীদের জেল গেট থেকে ধরে আবারো জেলে ঢোকানো হচ্ছে। বিরোধী দলের ঘোষিত কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে সরকারি দল, পুলিশ, র‌্যাব, বিজেবির পাশাপাশি দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মাঠে নামাচ্ছে। তাদের সশস্ত্র হামলার চিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত হলেও গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এমনকি বিরোধী দলের প্রচারপত্র ছাপা ও বিলিতে পর্যন্ত পুলিশ বাধা দিচ্ছে। এভাবে বিরোধী দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কার্যত অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে।

জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, গত ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে হটাতে আলো নিভিয়ে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানোর পর দেশ-বিদেশে সরকার যে ভয়ঙ্কর চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে তা আড়াল করতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন নেতা বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য প্রচারাভিযান শুরু করেছে। গণহত্যাকারী সরকার এখন সন্ত্রাস, ধ্বংস ও হত্যার পথ ছেড়ে বিরোধী দলকে আলোচনা বসার হাওয়াই আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বলছে, সংবিধান বদল করে ক্ষমতা থেকে নির্বাচন করার যে অসৎ ও গণবিরোধী পদক্ষেপ তারা নিয়েছে, তা বহাল থাকবে এবং শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। অর্থাৎ আলোচনার কথা বলে আলোচনার সব পথ তারাই রুদ্ধ করছে।

হেফাজতে ইসলামের ৫ মের অবস্থান কর্মসূচি সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে সরকার উৎখাত হয়ে যেত- এই হাস্যকর অজুহাতে তাদের ওপর গভীর রাতে নৃশংস অভিযান পরিচালনাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারে না। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকারি দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ মিডিয়া ও বিরোধী দলের হাতেও রয়েছে। বিএনপি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে কখনো বিশ্বাস করে না। এগুলো আওয়ামী লীগেরই মজ্জাগত অভ্যাস। তারাই সরকার উৎখাতের জন্য ‘ট্রামকার্ড ষড়যন্ত্র’ করেছিল। তারাই বিগত দিনে লগি-বৈঠা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের ’আন্দোলনের ফসল’ বলে একটি অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। বিতর্কিত মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভালোভাবে দেশ চালানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৪ মের ঢাকার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আলোচনায় বসুন। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। সরকার সে আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে বলে জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে।”
“ইসলামী টিভি ও দিগন্ত টিভিকে রাতের অন্ধকারে বন্ধ করা, আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের উদ্দেশ্যে ছাপাখানায় তালা দেয়া ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতার-এর প্রতিবাদ করায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ১৫ সম্পাদককে হুমকি, দৈনিক যুগান্তরের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মালিকানার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, টিভি টক শোতে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য, ৯০% নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে এই জনমত জরিপ প্রকাশের দায়ে পত্রিকার সমপাদকের বিরুদ্ধে বিষোদগারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থায়ী কমিটি বলেছে, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সরকার শৃঙ্খলিত করেছে। এভাবে কোনো স্বৈরাচার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এখন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবার ও সরকারের নানান অপকীর্তি ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়ে পড়ছে।

বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় স্থায়ী কমিটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

আগামী ৩০ মে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর অধিনায়ক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাহাদৎবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটি বলেছে, শাসক দলের ইশতেহারের প্রতিফলনে বিতর্কিত কোনো বিচারকের পর্যালোচনা, ফরমায়েশি লেখকদের ইতিহাসের বিকৃতি ও সরকারি স্থূল অপপ্রচারণায় গণমানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়াকে মোছা যাবে না। এই বাংলাদেশই তার অবিনাশী স্মৃতিস্তম্ভ।”               

 
 
 
 
 
 

আজ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ উৎসব পালিত হয়। বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধ এ দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এমনি এক পূর্ণিমা রাতে তিনি বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নাগরিকরাও দিনটি যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি প্রতিবারের এবারও পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
 
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেট তার বাণীতে  দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। পারস্পরিক সহাবস্থান, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দেশ ও জাতি গঠনে যথাযথ অবদান রাখবে।

তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সর্বাঙ্গীণ সুখ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপ্রয়াণের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেছেন,  আমরা ধর্মীয় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বিভাজনে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই বাংলাদেশী। ধর্মীয় সমপ্রীতি এবং সব ধর্মের মর্যাদা রক্ষায় আমরা সব সময়ই সচেষ্ট থেকেছি এবং আগামীতেও সে প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ সমপ্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। রাত সাড়ে ৮টায় তার গুলশানের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র বিষয়টি জাস্ট নিউজকে নিশ্চিত করেছে। এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।               

 
 
 
 
 
 

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০১২ সালে ১৭% স্টক ও ৮% নগদ ডিভিডেন্ড অনুমোদন করেছে।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহেরের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ ডিভিডেন্ড অনুমোদিত হয়। সভায় ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের ব্যালেন্স শীট, লাভ-লোকসানের হিসাব এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। সভায় ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৌদি আরবের ইউসিফ আবদুল্লাহ আল রাজী, ডাইরেক্টর সৌদি আরবের ড. আবদুল হামিদ ফুয়াদ আল-খতিব, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)-এর প্রতিনিধি ড. আরিফ সুলেমান, কুয়েত আওকাফ পাবলিক ফাউন্ডেশন-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-জালাহমাসহ শেয়ারহোল্ডাবৃন্দ বক্তব্য পেশ করেন।
সভায় নতুন ডাইরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত হন কুয়েত আওকাফ পাবলিক ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল জালাহমা ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এর প্রতিনিধি ড. আরীফ সুলেমান।
অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের ১৬ কোটি মানুষের ব্যাংক। মানব কল্যাণ আমাদের প্রধানতম উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গণমানুষের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক। সার্বিক বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক আজ দেশের শীর্ষ ব্যাংকের মর্যাদায় আসীন হয়েছে। এদেশের মানুষের ভালবাসার কারণেই এ গৌরব অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বোত্তম গ্রাহক সেবা আমাদের অঙ্গীকার। ইসলামী শরী’আহ’ পরিপালন আমাদের দায়বদ্ধতা। গ্রাহকের আস্থা আমাদের পুঁজি। মানুষের ভালবাসা আমাদের পথচলার প্রেরণা। মানুষের জীবন-মান উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংক জনগণের মৌলিক চাহিদা তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সাধারণ মানুষের মৌলিক অভাব পূরণের লক্ষ্যে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, রিয়েল এস্টেট, খাদ্য, স্টীল ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প উন্নয়ন ও শিল্পোদ্যোক্তা  তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এ দেশের সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে ইসলামী ব্যাংকের অগ্রগতি বেগবান হয়েছে। সে জন্য প্রতিটি নাগরিকের কাছে এখন ‘ইসলামী ব্যাংক আমার ব্যাংক’।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  সততা আমাদের পুঁজি। এ সততায় আকৃষ্ট হয়েছেন গ্রাহকরা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসলামী ব্যাংক একটি মডেল ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।               

 
 
 
 
 
 

বিপুল উতসাহ উদ্দীপনার মধ্যে তিলপারা ইউনিয়ন এডুকেশন এন্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের  দ্বিবার্ষিক সভা গত ১৯ মে পূর্বলন্ডনের স্টিফোর্ড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি হাজী শামছুল হকের সভাপতিত্বে ও  লুতফুর রহমান ছায়াদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত? সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র ল্ফুুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার রাজিব আহমেদ, বিয়ানী বাজার উপজেলার ভাইস চেয়ার আবুল কাশেম পল্লব। সভায়  বক্তারা তিলপারা ইউনিয়নের শিক্ষা, উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকার রাখবে বলে জানান। বক্তারা উক্ত কমিটিকে সর্বাতœক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় বক্তব্য রাখেন মহিবুর রহমান, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের এমডি শাব উদ্দিন, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সেলিম আহমদ, ইউকে জাতীয়পার্টির সভাপতি ও বাংলাদেশ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান,   নতুন দিন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মানিক মিয়া, কাউন্সিলার গোলাম রববানী, ট্রাস্টের সেক্রেটারী দেলোয়ার হোসেন, থানা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল সফিক, থানা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ও জনকল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, প্রগতি ট্রাস্ট ইউকে প্রেসিডেন্ট আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, সেক্রেটারী রহমান ময়না, এলডিপির সভাপতি মনজুর আলী, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ, জাতীয় পার্টির লন্ডন মহানগরের সভাপতি শামছুল হক, ইউকে জাতীয় পার্টির সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ জয়নাল উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলার শাহাব উদ্দিন, বাংলা টিভির রিপোর্টার ও প্রেজেন্টার আব্দুল কাদির মুরাদ  ও মাথিউরা উন্নয়ন ট্রাস্টের সেক্রেটারী দিলাল আহমেদ প্রমূখ।  সভায় সংগঠনকে ১ লাখ টাকা দান করেন বিয়ানী বাজার ক্যান্সার হাসপাতালের এমডি শাব উদ্দিন।  সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার বার্তার এডিটর বদরুল হক, মাথিজুরা এডুকেশন ডেভেলাপমেন্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি এখলাস উদ্দিন জালাল, শামছুল হক ইয়াহিয়া,  মির্জা ফারুক আহমেদ, হারুন মিয়া, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সাবেক সেক্রেটারী ছানু মিয়া, আনছার আলী মিয়া, মামুন রশিদ, আব্দুল হাকিম হাদি, সালিক আহমদ, মুজিবুর রহমান রুনু, আকরাম আলী এমাদ, শামিম নেহার, ছাইদুর রহমান, আতাউর রহমান, আব্দুর রশিদ, কবির হোসেন ও ফরহাদ হোসেন টিপু প্রমূখ।  সভায় মামুন রশীদকে সভাপতি, ফরহাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ও ডা. সফিক উদ্দিনকে কোষাধ্যক্ষ করে আগামী দুই বছরের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন হাজী শামছুল হক, সোহাব উদ্দিন ও লুতফুর রহমান ছায়েদ। কমিটির অন্যরা হলেন সহসভাপতি আকরাম  আলী এমাদ, আব্দুর রহমান আলী, আমির উদ্দিন ও মোহাম্মদ ছাদ উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক সামছুল হক এহিয়া, করিম হোসেন ও আব্দুর রশীদ, সহট্রেজারার আব্দুল হাকিম হাদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান আবু, দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান, প্রবাস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস শুকুর, যুব ও ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে মইনুল ইসলাম, শামিম হাসান (নিহার উদ্দিন), নাসির উদ্দিন আহমেদ (ফয়সল), আতিকুর রহমান আতিক, জামাল উদ্দিন, শাইনুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন ও আব্দুর রশিদ আবুল।                 

 
 
 
 
 
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ:
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক দুই ব্যক্তিত্ব ব্রিটেন সফর করে গেলেন। একজন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি, অর্থনীতিবিদ, নোবেল লরিয়েট ডঃ মোহাম্মদ ইউনূস, অপরজন হলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা ডঃ কামাল হোসেন। দুজনেই স্ব-স্ব-ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পরিচিত।দেশের ভিতরে যেমন হউক না কেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই দুই ব্যক্তিত্বের রয়েছে ঈর্ষনীয় গ্রহণযোগ্যতা।


ডঃ মোহাম্মদ ইউনূস তার লন্ডন সফরের সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জাতিসংঘের দক্ষিণ এশিয়া ও নারী বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের নেতৃবৃন্দ। গত ২১শে মে ওয়েস্টমিনিস্টারে সম্মেলন কক্ষে তাদের সঙ্গে ডঃ মোহাম্মদ ইউনূস মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় কালে ডঃ ইউনূস বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায়, বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নানা সম্ভাবনাময় দিক, নারী অধিকার রক্ষার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সাভার ট্রাজেডির কারণে বিদেশের মার্কেটে যাতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে ও তিনি সকলের মনোনিবেশ করেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিশ্বমান নিয়েও তিনি বেশ গর্বকরে মত ব্যক্ত করেন।


এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন- সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির বাংলাদেশ বিষয়ক সহ সভাপতি লেবার দলীয় এমপি রুশনারা আলী, লর্ড সভার সদস্য- ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দিন, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি পওলিন লেইথ্যাম,  সেক্রেটারি ব্যারোনেস হোসেইন।


এর আগে ১৯ শে মে লন্ডন থেকে অল্প দূরত্বে ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলের আমন্ত্রণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি যোগ দেন।সেখানে ডঃ মোহাম্মদ ইউনূস বলেন,  ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র বিমোচন করে দারিদ্রসীমা জিরো অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। এবং দারিদ্র বিমোচন করেই দারিদ্রকেই পাঠিয়ে দিতে চাই মিউজিয়াম কিংবা জাদুঘরে।’


ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আব্দুল জব্বারের পরিচালনায় এতে কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলের মেয়র ওলোওয়েন চাটার্টন ও ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর শোয়েব আখতার। অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোলফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর মিঃ মার্টিন হল।


আলোচনায় ডঃ ইউনূস বলেন, ‘প্রচলিত ব্যাংকগুলো শহর খোঁজে তাদের ব্যবসার জন্যে। তারা সম্পদশালী আর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কাছে যায় আর আমাদের গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামে গিয়ে সবচেয়ে অবহেলিত গরীব মহিলাদের আমরা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে।  নিজস্ব উদ্যোগেই একজন মহিলা নিজেরে পায়ে কিভাবে দাঁড়াতে পারেন তারই এক বাস্তব উদাহরণ গ্রামীণ ব্যাংক। ডঃ ইউনূস তার নয়া ভিশন সামাজিক ব্যবসার ধারণাও সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন, তাতে সকলেই অভিভূত হন, অনেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে তার বক্তব্য শুনেন। এখানে তিনি দর্শকদের ও অতিথিদের নানান প্রশ্নের উত্তরও দেন। যেমন তিনি বলেন, চ্যারিটি নয়, সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়া এবং চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টি করার অনেক উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, চ্যারিটির জন্যে বছরের পর বছর মানুষের করুণার ওপর নির্ভর করতে হয়, অথচ সামাজিক ব্যবসার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে কাজের, যা দারিদ্র বিমোচন করে।

সামাজিকভাবে পারষ্পরিক সহযোগিতায় বিশেষ অবদান রাখে- তার নতুন এই  সামাজিক ব্যবসা। এ প্রসঙ্গে তিনি তার চক্ষু হাসপাতালের কথা তুলে ধরেন। কোন চাঁদা নয়, সামাজিক ব্যবসার মধ্য দিয়েই তাদের এই হাসপাতাল এখন প্রতিবছরে ১০ হাজার ক্যাটারেট  অপারেশনের মানুষের চোখে আলো দিয়ে থাকে। দরিদ্র মানুষের জন্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা কিংবা সম্পদশালীদের জন্য মূল্যসহ(ফিসসহ) চিকিৎসা দিয়ে ব্যবসায়িক ভারসাম্য রক্ষা করেই একের পর এক সেবামুলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান।


এর সপ্তাহ খানেক আগে প্রখ্যাত আইনজীবী ডঃ কামাল হোসেন লন্ডন সফর করেন। লন্ডন সফরের আগে চ্যানেল আই তাদের নিউজ স্ক্রলে ডঃ কামালের লন্ডন সফরের প্রাক্কালে তার রচিত বই বাংলাদেশে-এর লন্ডনে প্রকাশনী উপলক্ষে লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠানের ঘোষণা প্রচার করে।

চ্যানেল আইতে সরাসরি প্রচারিত ঐ অনুষ্ঠানে ডঃ কামাল হোসেন অত্যন্ত খোলামেলা ভাবে বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, অর্থনীতি, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন। তাতে ছিলোনা কন খেদোক্তি, কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা নালিশের মতো সুর। বরং চ্যানেল আইতে লাইভ আলোচনার মাধ্যমে এবং অগণিত প্রবাসীদের প্রশ্নের উত্তরে লন্ডনে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশ বিরোধী যে ন্যক্কারজনক অপ-প্রচার চালিয়ে প্রবাসীদের বিভ্রান্ত করে আসছিলো, ডাউনিং ষ্ট্রীট সহ ফরেন অফিসে নিয়মিত নালিশ করে আসছিলো, তার যুতসই, অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর ভাবে প্রকৃত বাস্তব দৃশ্যাবলী জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।এমনকি লন্ডনের বিভিন্ন আলোচনা ও মতবিনিময় সভাতে হেফাজতের শাপলা অভিযান নিয়ে যে অতিরঞ্জিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হচ্ছিলো, তার উত্তরে ডঃ কামাল লন্ডনে তার সফরের সময় দ্ব্যার্থহীনভাবে মাস-ম্যাসাকারের বিরোধিতা করে শানিত যুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।তিনি স্পষ্টতই বলেন মাস-ম্যাসাকার হয়নি, যারা একথা বলছেন তারা মিথ্যা তথ্য দিতেছেন।

অথচ বাংলাদেশের খ্যাতিমান এই দুই দিকপালকে দেশের ভিতরে সরকারিভাবে কতোনা তাচ্ছিল্য করা হয়।
 
সারা বিশ্বের সকল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ব্রিটেনের লন্ডন, এর রয়েছে নানান কারণে সুখ্যাতি। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বেশীরভাগ জনগণের বসবাস এই লন্ডন শহরে। যেকারণে বিলেতের এই লন্ডন শহরকে বলা হয়ে থাকে দ্বিতীয় বাংলা। কেননা, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিমুহূর্তের দেশের ভিতরকার খবর যেমন এই লন্ডনের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে, একইভাবে বিলেতের এই লন্ডনের আনাচে-কানাচে কখন কোথায় কি হচ্ছে, সে সংবাদও বাংলাদেশের সর্বত্র মুহূর্তেই ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সব কটি দলের শাখা-প্রশাখা ব্যাপকভাবে এই লন্ডনে রয়েছে, দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা শহরের মতোই এই লন্ডন শহরে প্রতিনিয়ত পালিত হয়ে থাকে। দেশের মতোই এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর হাঙ্গামা, দলাদলি, হাড্ডা-হাড্ডি প্রতিযোগিতা চলে আসছে। ঢাকার মতোই এখানে লঘি-বৈঠা না হলেও আকারে-ইঙ্গিতে সেরকম মারামারিও হয়ে থাকে, প্রেস কনফারেন্স, সভা-সমাবেশতো আছেই সারাক্ষণ। ঢাকার রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের নেতা-নেত্রী, মন্ত্রী, সচিব, ডাইরেক্টর, কর্পোরেট প্রধান, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী সকলেই ঢাকার পরেই এখন এই লন্ডনে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভিত্তি ও শক্তিশালী ঘাটি-এ যেন আমেরিকার মতো মার্কিন সামরিক আধিপত্যের ঘাটি স্থাপনের ও শো-ডাউনের উপস্থিতি প্রায়ই এখানে লক্ষ্য করা যায়। আজকাল বিলেতের ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার বদৌলতে প্রতিমুহূর্তের লন্ডনের এই সব সভা-সমাবেশ আর শো-ডাউনের খবরাখবর সকল প্রবাসীদের নখ দর্পণে। উপরন্তু মিডিয়ার বদৌলতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, মন্ত্রী মহোদয়দের সাথে সরাসরি প্রশ্ন ও উত্তরের এক সুযোগ এখন প্রবাসীরা সহজেই পেয়ে থাকেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনবাসী লক্ষ্য করে আসছেন যে, কি সরকারি, কি বিরোধী, কি ইসলামপন্থী যে কোন দলের বা মতাদর্শের নেতা-নেত্রী লন্ডনে আসেন, যখনি কোন সুযোগ হয়, ডাউনিং ষ্ট্রীট কিংবা ফরেন অফিস বা হাউস অব কমন্স বা লর্ড সভার কোন সদস্যা বা সদস্যার সাথে সাক্ষাত বা আলোচনা কিংবা মতবিনিময়ের সুযোগে বাংলাদেশের ভিতরকার রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আর্জি, নালিশ, কখনো কখনো নিজেদের সমস্যায় তাদের হস্তক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগের জন্য সুপারিশ,দাবি,দেন-দরবার করে থাকতে দেখা যায়, যা মিডিয়ায় সচিত্র সেই সব বক্তব্য, খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। ইদানীং বাংলাদেশের নেতা-নেত্রী আর মন্ত্রীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে লন্ডনের সেই সব নেতা-নেত্রীর দলীয় অনুসারীরা প্রতিনিয়ত এমপি ও লর্ড সভার সদস্যদের সাথে দেখা করে নালিশ জানানোটা যেন আরো এক নতুন ফ্যাশন হিসেবে দেখা দিয়েছে। যেখানে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, দেখ-ভাল আর দেশের জনগণের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যার উন্নয়নে ভূমিকা বা আজকের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য আমাদের নেতা-নেত্রী আর মন্ত্রী মহোদয়দের ডাউনিং ষ্ট্রীটে বা কমন্স সভায় দেন-দরবার বা সুপারিশ করার কথাছিলো, সেখানে আমরা দেখছি বিপরীত চিত্র। আর এই বৈপরীত্যের মধ্যে একটু ব্যতিক্রম এক সফর করে গেলেন এই দুই প্রথিতযশা বিখ্যাত ব্যক্তিত্বগণ। ডঃ ইউনূস, ডঃ কামাল দুজনের কাউকেই তাদের সফরে কোন নালিশ, অভিযোগ কিংবা দেশের ভিতরকার রাজনৈতিক সমস্যায় আমাদের বিদেশী বন্ধুদের হস্তক্ষেপ বা চাপ-প্রয়োগের কথা বলতে শুনিনি। ব্যতিক্রমধর্মী পজিটিভ এই সফরে সত্যি অনেক প্রবাসীদের সাথে আমরা সকলেই খুশী এবং আনন্দিত হয়েছি। এই দুই ব্যক্তিত্ব তাদের লন্ডন সফরের মধ্যদিয়ে বরং দেশের ভাব-মূর্তি কি করে উজ্জ্বল করে তোলা যায়, ইনোভেটিভ নবতর চিন্তাধারার কথা প্রকাশ করে বাঙালির আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারণা লন্ডনের সরকারি ও একইসাথে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে শেয়ার করে গেছেন।সেজন্য তাদের দুজনকেই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। অনেক প্রবাসীকে আক্ষেপ করে বলতে শুনেছি, আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সকলে না হলেও বড় বড় নেতৃত্বের মাঝে যদি এই রকম দেশ দরদী, দেশের ভাবমূর্তি উপরে তুলে ধরার গুণাবলী থাকতো কিংবা সচেষ্ট হতেন, তাহলে আমাদের সকলের ও দেশের জন্য অনেক কল্যাণকর হতো।

Salim932@googlemail.com
20th  May 2013.UK
  
               

 
 
 
 
 
 

আগামী ২৬ ও ২৭ মে ঢাকায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পার্টনারশিপ ডায়ালগ। এর মূল এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংলাপ ইস্যু। দ্বিপাক্ষিক এ আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সম্পর্কোন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা।

ডায়ালগ নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করতে বুধবার সকালে আমেরিকান সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি এ সময় পার্টনারশিপ ডায়ালগের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।  ট্রেড ইউনিয়ন করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘নো কমেন্ট’ বলে মন্তব্য করেন।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংলাপ প্রক্রিয়া খুবই ধীরগতিতে এগুচ্ছে। বিষয়টা খুবই কঠিন। যেহেতু সবাই একটি অবাধ, সু্‌ষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাচ্ছে সে জন্য সংলাপ প্রক্রিয়ায় গতি পাবে বলে আমি আশাবাদী। সংলাপই হচ্ছে সংকট নিরসনের উত্তমপন্থা।

২০০৬ সালের সংলাপ প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মজিনা বলেন, এটা ২০০৬ কিংবা ২০০৭ সাল নয়। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। ২০০৬ কিংবা ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।           

 
 
 
 
 
 

জাতীয় পার্টির মম্মানীত চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এর মুখপাত্র সাবেক মন্ত্রী জনাব কাজী ফিরোজ রশিদ
জাতীয় পার্টির সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক টেলি কমুনিকেশন মন্র্রী জনাব কাজী ফিরোজ রশিদের লন্ডন ভ্রমণ উপলক্ষে ২০ মে সোমবার সন্ধ্যা ৯ ঘটিকায় এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্য জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব মুহাম্মদ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউরোপিয়ান উপদেষ্টা জনাব সামছুল ইসলাম সেলিম এর পরিচালনায় মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়।
উক্ত সভায় প্রধান অতিথির ভাষনে জনাব রশিদ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনাসহ দুঃখ করে বলেন মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনাতে জাতীয় পার্টি তথা জাতীয় পার্টির সস্মানীত চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকে মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা যাহা আগামীতে মহাজোটের হিসাব পাল্টিয়ে দিতে পারে এবং এ ব্যাপারে দল শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে এবং নির্বাচনের চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বিরূধী দল মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে l দেশ ক্রমেই গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে –এ থেকে উত্তরনের জন্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই l বাংলাদেশের মানুষ আজ চরম হতাশায় ভোগছে l বার বার হরতালে মানুষ আতংক গ্রস্থ হয়ে আছে l এ সব থেকে পরিত্রান পেতে হলে সকল দলকেই ত্যাগ স্বীকার করে নির্বাচনের দিকে আসতে হবে l আর  নির্বাচন করতে ব্যার্থ  হলে রাদনীতি বিদরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে l এমতাবস্থায় দেশের মানুষ মনে করে দেশের সবচেয়ে প্রবীন রাজনীতিবিদ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন l তাই দেশবাসী আজ এরশাদের দিকে থাকিয়ে আছে l এরশাদই হচ্ছেন জাতীর শেষ ভরসা l
সভাপতির জনাব মুজিবুর রহমান বলেন জাপাকে শক্তিশালী করার জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদ এর নির্দেশে দেশে-বিদেশে পার্টিকে সর্বস্থরে শক্তিশালী করা হচ্ছে যাহাতে প্রয়োজনে আগামীতে জাপা একক ভাবে নির্বাচন করতে পারে।  তিনি আরও উল্লেখ করেন সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে নেয়া যোগান্তকারী পদক্ষেপ গুলো পরবর্তী সরকার গুলো অনুস্মরণ করলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হত।  
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন রয়েল বারা অব উইঞ্জরের সাবেক মেয়র সর্বজনাব কাঃ আছগর মজিদ, ক্যবিনেট মেম্ম্বার ফর পলিসি কাঃ জর্জ বাথহার্ষ্ট, চেয়ার অব প্লানিং কাঃ ড্যারিক উইল্সন l অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব  মোঃ আঃ হাই সহ সভাপতি যুক্তরাজ্য জাপা, মাশুক আহমদ সভাপতি –যুব সংহতি যুক্তরাজ্য, বিশিষ্ট ক্যাটারার্স শাহানুর খান এবং আনোয়ার আলী প্রমূখ।  

 
 
 
 
 
 

ওয়াজারাতুল আওকাফ কুয়েত\'র উদ্যোগে গত ১৭ মে কুয়েতস্থ্য জিলিব আল সুয়েখ মসজিদ নাসের আল হামাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী মহা সম্মেলন।সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্য সংস্থা কুয়েত শাখার সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লা বেলালী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্ত রাজ্য মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার অধক্ষ্য ও জমিয়তে উলামা ইউরোপের জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা শোয়াইব আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম,মাওলানা হাসান,মাওলানা আব্দুল মালেক,মাওলানা ওয়াযায়ের,মাওলানা জিয়াউল হক,মাওলানা জাফর আহম্মেদ,মাওলানা তারেক আহম্মেদ,মাওলানা জুবায়ের আহম্মেদ,মাওলানা আব্দুল মান্নান,মাওলানা সাব্বির আহম্মেদ,মাওলানা হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল কাশেম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন আমাদের ব্যাক্তি জীবনে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর প্রদত্ত বিধান বাস্তবায়ন করতে পারলেই অনেক রকমের হানাহানি ও বালামচিবত থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি।বর্তমানে আমাদের দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা ইসলাম বিরোধীদের হাতে জিম্মী হয়ে পড়েছে। কিছু মুসলিম নামধারী ব্লগার আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ [সাঃ] কে নিয়ে কটুক্তি করছে আর সরকার তাদেরকে সব রকমের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মাসের পর মাস ঢাকার একটি অতি গুরুত্বপুর্ন জায়গায় নর্তকী নাচানোর অনুমুতি দিয়েছিল।অপর দিকে রাসুল প্রেমিক আলেম সমাজকে মাত্র কয়েক ঘন্টা ঢাকায় অবস্থান করতে দেয়নি।রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার আলেমকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে  এই সরকার প্রমান দিয়েছে এরা নাস্তিকদের বন্ধু আর ইসলামের দুশমন।তাই ইসলামকে রক্ষা করতে হলে আমাদের কে ঈমানি শক্তি দিয়ে এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। তিনি প্রবাসীদের কে ধর্মীয় অনুশাষন বজায় রেখে চলার জন্য অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সারা বিশ্বের মুসলমানদেরকে বিধর্মীদের নির্যাতন থেকে রক্ষা ও বাংলাদেশে সম্প্রতি সাভার ট্রাজেডী এবং মতিঝিলে গনহত্যায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করা হয়।
মহানবী [সাঃ]কে নিয়ে কটুক্তিকারী বগ্লারদের শাস্তির দাবি,ইসলামীক টিভি, দিগন্ত টিভি ও আমারদেশ পত্রিকা বন্ধের প্রতিবাদ এবং মতিঝিলে গভীররাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে গন হত্যার প্রতিবাদে কুয়েতে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন নিরস্ত্র আলেমদের কে হত্যার দায়ে একদিন আওয়ামীলীগের কঠিন বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

 
 
 
 
 
 

নিউজডেস্ক:
এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ শেষে নামার পথে এক বাংলাদেশী পর্বতারোহী মোহাম্মদ হোসেন (৩৫) ও তার সঙ্গে থাকা অপর এক পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। নিহত অপর পর্বতারোহী দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজ এ তথ্য দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ওই কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না নিয়েই এভারেস্ট জয়ের অভিযান শুরু করেছিলেন এই দুই পর্বতারোহী। চূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করার পর নামার সময় তারা মৃত্যুবরণ করেন। তবে ঠিক কি কারণে তারা মৃত্যুবরণ করেছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। এভারেস্টের সবচেয়ে বৈরী স্থান বলে পরিচিত ‘ডেথ জোনে’ তারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পর্যটনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে মওসুম শেষে এই দুই পর্বতারোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সম্প্র্রতি কয়েক শ’ পেশাদার ও সৌখিন পর্বতারোহী বিশ্বের সবোর্চ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে হিমালয়ের পাদদেশে জড়ো হয়েছেন।               

 
 
 
 
 
 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় একটি শক্তিশালী টর্নেডো আঘাতে ২০ শিশুসহ ১০১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংঙ্ক্ষা করা হচ্ছে।
টর্নেডোর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে স্কুলসহ আশপাশের এলাকার বেশ কয়েকটি স্থাপনা। বিধ্বস্ত স্কুল ভবনের ভেতরে অনেক শিশু আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেখাণে উদ্ধার কাজ চলছে।
মার্কিন আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এ টর্নেডোর ব্যস ছিল অন্তত দুই কিলোমিটার।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটার দিকে ওকলাহোমার শহরতলীতে আঘাত হানে টর্নেডোটি।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, টর্নেডোটি কারণে স্কুল, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধসে পড়েছে। তারা বলছেন, স্কুলের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে অন্তত ২০টি শিশু আটকে আছে যাদের বয়স ৮ বছরের মতো।
বিকালে টর্নেডোর আঘাতের পর, রাতজুড়েই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও ঝড়ের আঘাতে ধসে পড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটকা পড়েছে বেশ কিছু শিশু।
টর্নেডোর কিছু সময় পরেই স্কুল থেকে নিজের সন্তানকে নিতে এসে রবার্ট রেমন্ড বলেন, টর্নেডোটি চলের যাওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করেন। এরপর বাইরে এসে তারা দেখতে পান, আকাশ থেকে আবর্জনার পাহাড় ছড়িয়ে পড়ছে।
জানতে পারেন, হাসপাতালে সেটি আঘাত হেনেছে, স্থানীয় থিয়েটার হলে আঘাত হেনেছে এবং তাদের সন্তান যে স্কুলে পড়ে সেই স্কুল ভবনেও আঘাত করেছে টর্নেডোটি। তিনি বলেন, সেটি শোনার পর আর বসে থাকতে পারেননি।
আকাশ থেকে শহরতলীর ভিডিও চিত্র দেখা যাচ্ছিল বেশ বড়সড় এলাকায় ধ্বংসের ছাপ। কিছু কিছু বিল্ডিংয়ে আগুন ধরে গিয়েছে।
পুলিশ জানায়, সেটি ওকলাহোমার শহরতলীতে প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায়। এদিকে ওকলাহোমার প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।               

 
 
 
 
 
 

আমান উল্লাহ আমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ঢাকা জেলা বিএনপি। তবে রাজধানী হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা জেলার উপজেলা, থানা ও পৌরসভাগুলোতে হরতাল পালন করবে দলটি। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

 
 
 
 
 
 

লন্ডন থেকে আবদুল কাইয়ূম:
ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর চিকি”সার্থে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার প্রায় সাড়ে চার বছর পর প্রকাশ্য জনসম্মুখে এলেন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশে সরকারের নানা কুটকৌশলের কাছে অনেকটা বিপর্যস্ত যখন দলীয় কার্যক্রম, দলের শীর্ষ নেতারা যখন বিভিন্ন মামলায় একের পর এক কারাবরণ ও রিমান্ডে পর্যদুস্ত। অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর নানা উপদলে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ যখন বিভক্ত এবং নেতৃত্বশূণ্য ঠিক তখন জনসম্মুখে বের হয়ে এলেন দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায় ‘ভবিষ্যত রাষ্ট্রনায়ক’ খ্যাত এই নেতা। দীর্ঘ বিরতির পর তার এ প্রকাশ্যে আসায় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রাণচঞ্চল্যের সঞ্চার করে। তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সকল সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের তৃণমূলসহ যুক্তরাজ্যের সকল জোনাল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা তারেক রহমানের নেতাকর্মীদের সামনে এসে তাদের কথা শোনার মাধ্যমে সাংগঠনিকভাবে ক্ষত-বিক্ষত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা এবং তাদের সংঘবদ্ধ করতে সহায়ক হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সমাবেশকে ঘিরে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নতুন কমিটির ঘোষণা আসার কথা চাউর হলেও সেখান থেকে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ১০/১২ দিনের মধ্যেই নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূ(েড) জানা গেছে। অপরদিকে, সমাবেশ সম্পর্কে বিভিন্ন মিডিয়ায় বিকৃত সংবাদ পরিবেশনের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রীক নিজস্ব এক বিশেষ বলয়ের রাজনীতির প্রবর্তক হিসেবে নিন্দিত তারেক রহমানকে নতুন রূপে দেখা গেলো সোমবারের যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একটি বিশেষ সমাবেশে। এসময় তিনি প্রাক্তন নেতাদের চেয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বিভিন্ন জোনাল কমিটি তথা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শোনেন মনযোগ দিয়ে। তার এ পরিবর্তন এবং জনসম্মুখে আসাকে উপস্থিত অনেকে সময়োপযুগী বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকের ধারণা যুক্তরাজ্যের মাব্বিকালচারাল গণতান্ত্রিক পরিবেশে থেকে তারেক রহমানের এই পরিবর্তন - যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের সময় মাঝে মধ্যে চি”কার, চেচামেচি হলেও তারেক রহমানের বক্তব্য পিনপত্তন নিরবতায় শ্রবণ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এসময় তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নেতাকর্মীদের যে কোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বস্ব দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হবে তা পালন করতে হবে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন মিডিয়ায় তারেক রহমানের উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নতুন কমিটি ঘোষণার চমক আসার সম্ভাবনা বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। বরং উপস্থিত সবার বক্তব্য শোনে পরবর্তিতে কমিটি নাম ঘোষণা করা হবে বলে তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
২০ মে সোমবার সন্ধ্যায় ফরেস্ট গেইটের রমফোর্ড রোডস্থ পামট্রি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সমাবেশটিতে সভাপতিত্ব করেন নিউহাম বিএনপি’র সভাপতি শায়েস্ত চৌধুরী কদ্দুছ। সভাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন নিউহাম বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক এমএ কাইয়ূম এবং যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস আলম। সমাবেশে ৪২টি জোনাল কমিটিসহ মোট ৪৯টি শাখা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন। এর আগে বেলা ২টার দিকে পুর্বনির্ধারিত পূর্ব লন্ডনস্থ ডকলেন্ডের ক্রাউন প্লাজায় সভা শুরু হয়। বিভিন্ন সূ(েড) জানা যায়, জোনাল কমিটির সভাপতি, সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নির্দিষ্ট কিছু নেতাসহ সভাটি প্রায় দুইশ’ জনের একটি বিশেষ সভা হিসেবে বুক করা হয়। কিন্তু তারেক রহমানের সভায় উপস্থিত থাকার খবর পেয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ভিড় জমান সেখানে। এতে করে সভাস্থলে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। সভা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলনায়তনের বাইরে অপেক্ষমান বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপক্ষ সভায় প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অপরপক্ষ যুবদলের কর্মীরা তালিকা বহির্ভূত প্রবেশেচ্চছুদের বাধা দেন। এসময় যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতা মাহিদুর রহমান, এমএ মালেকসহ বেশকিছু শীর্ষ নেতাও বাইরে আটকা পড়েন। আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা আর নেতাকর্মীদের চরম হট্টগালে একপর্যায়ে সভাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। পুলিশ মিলনায়তনে প্রবেশ করলে তাদের সাথে আলাপ করতে নিজেই এগিয়ে যান তারেক রহমান। একপর্যায়ে নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ সেখানে সভা না করতে দেবার সিদ্বান্তের কথা জানায় । কিন্তু তারেক রহমান সভা করার ব্যাপারে অনঢ় অবস্থানে থাকায় পরবর্তীতে ঘন্টাখানেক পরে নিউহাম এলাকার পাম ট্রি রেষ্টুরেন্টের হলরুমে সভা শুরু হয়। তখন সভায় প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয় সব নেতাকর্মী এবং গনমাধ্যমকর্মীদেরও।
দ্বিতীয় পর্বের সভার প্রথমে উপস্থিত নেতাকর্মীদের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শোনেন তারেক রহমান। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রায় আধা ঘন্টা বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন বলেও উল্লেখ করেন। তারেক রহমান তার বক্তব্যে সম্প্রতি সিবিএ টিভির সাথে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলেন সেখানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উচু পর্যায়ের নেতাসহ শেখ হাসিনার পরিবার কীভাবে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তা সাক্ষাতকার গ্রহণকারীরা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপ(েড) প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ’আমার পরিবারের কেউ দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়’ মর্মে স্বপ্রণোদিত বিবৃতিকে ’ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাই না’ প্রবাদের সাথে মিলিয়ে শেখ হাসিনারই সংসদে করা একসময়ের মন্তব্য ’ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ মন্তব্যকে ঘুরিয়ে তারই দিকে ছুঁড়ে মারেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আপনাদের অভিযোগ-অনুযোগ থাকতে পারে। দলীয় ফোরামের বাইরে অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে কথা না বলে সেটি দলীয় সভায় বলুন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে ছা(ড)দলের ব্যানারে কোন রাজনীতি না করার পক্ষপাতি আমি। কারন ছা(ড)রা এখানে আসেন লেখাপড়া করতে। মা-বাবার কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করে এখানে এসে রাজনীতি নয় লেখাপড়ায় ছা(ড)দের মনোনিবেশ করা উচিত। দলের ঐক্য ধরে রাখার আহব্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
ওয়ান ইলেভেনে যখন দলের অনেক বড় বড় নেতাদের উচিত ছিল দলের ঐক্য ধরে রাখা, কিন্তু তা তারা করতে পারেননি। তখন দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটির নেতা তথা তৃণমূলের নেতারাই দলকে ধরে রেখেছিলেন। যুক্তরাজ্যের সাংসদ, মন্ত্রীসহ বৃটেনের মুলধারার রাজনীতিকদের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানিয়ে তাদের কাছে চিঠি লিখুন। যুক্তরাজ্যে আমাদের রাজনীতি হবে একটু ভিন্নরকম। এখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের লবিয়িং করতে হবে।
৫মে দিবাগত রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজত সমাবেশে র‌্যাব-পুলিশের অ্যাকশনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘রাতের অন্ধকারে বাতি নিভিয়ে সমাবেশে আক্রমণ, মানুষ হত্যা, এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? তিনি ঐ সমাবেশে অগণিত মানুষ হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় নিতে হবে।
তারেক বলেন, দেশ আজ স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। জনগণ আজ নিরাপত্তাহীন, মানবাধিকার ল-িঘত হচ্ছে প্রতি মূহূর্তে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্ত... করে দিতে বাকশালী কায়দায় সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দলীয় করণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরব হলেই সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসছে হত্যার খড়গ।
এ সময় সমাবেশে উপস্থিত দৈনিক আমার দেশের একজন সাংবাদিককে দেখিয়ে তিনি বলেন, নিজের প্রাণ বাঁচাতে এই সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। ঐ সাংবাদিকের কাছ থেকে সংখ্যা জেনে নিয়ে তারেক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এই পর্যন্ত প্রায় ২০ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র এই শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি সরকারের একটি বড় ধরনের দুর্নীতি প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন বলেই তাদের হত্যা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এখন চলছে বিভিন্ন নাঠক।
ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে বর্তমান সরকার তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে অভিযোগ করে তারেক বলেন, একটি শীর্ষ পত্রিকার কয়েক হাজার পাঠকের ওপর করা জরিপে প্রমাণ হয়েছে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্বাবধায়ক সিস্টেম চায়। কিন্তু সরকার জনমতের প্রতি কোন রকম তোয়াক্কা না করেই এক তরফা নির্বাচনের দিকে হাঁটছে বলেই মনে হচ্ছে।
তারেক বলেন, জনগণের প্রয়োজনেই বিএনপি’র জন্ম হয়েছিল। সুতরাং এই জনগণের প্রয়োজনেই দলকে সুসংগঠিত করে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে দিতে হবে সারা দেশে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ব্রিটেনে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি আশা করছে, অচিরেই যুক্তরাজ্য বিএনপি’র এমন একটি কমিটি আপনারা দলকে উপহার দেবেন, যে কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ঘটবে, ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের সমাবেশ। আশা করি আপনারা সবাই সেই রকম একটি কমিটির পক্ষে মত দেবেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলকে তুলে ধরতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব সম্পন্ন কমিটি এখন সময়ের দাবি, এবং অচিরেই উপরোক্ত গুণাবলি সম্পন্ন একটি কমিটি আসবে বলে আমি আশাবাদী।
তাঁকে দেশে ফিরে দলের হাল ধরার নেতাকর্মীদের আহবানের জবাব দিতে গিয়ে তারেক জানান, তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। বেশি সময় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন না, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।
নেতাকর্মীরা লন্ডনের বাইরে অন্যান্য শহরেও তাঁকে নিয়ে সমাবেশ করার আগ্রহ দেখালে তারেক বলেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর ইনশাল্লাহ ব্রিটেনের অন্যান্য শহরে গিয়েও আমি নেতাকর্মীদের সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করবো।
তারেক রহমান প্রায় আধাঘণ্টার মত সময় বক্তব্য রাখেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে। তারেক ছাড়াও সমাবেশে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, বাতিলকৃত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এম এ মালেক, যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, এনামুল হক লিটন, সাবেক যুগ্ন সম্পাদক মল্লিক হোসাইন আহমেদ হাসনু, নাসিম চৌধুরী, কয়সর আহমেদ, জমিলুল হক, ফযসল আহমেদ, এম লু”ফুর মোশাহিদ হোসেইন ও এম জাহেদ আলী প্রমুখ।
তবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সবচেয়ে প্রবীণ নেতা মিয়া মনিরুল আলম সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। আর তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হবার পর এখন কেমন নেতৃত্ব আসছে যুক্তরাজ্য বিএনপির আসন্ন কমিটিতে -  সেই অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।

১০/১২ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি:
চমক শেষ পর্যন্ত চমকই থেকে গেলো। বিভিন্নভাবে বিভক্ত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আলোচিত নতুন কমিটির কোনো ঘোষণা দিলেন না দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন জোরদার করার আহবান জানিয়ে শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা হবে বলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্থ করেন তিনি। তবে দলীয় একটি সূ(েড) জানা গেছে আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে নতুন কমিটির ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সোমবারের সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ব্যারিস্টার এমএ সালাম। নতুন এ কমিটিতে যে পুরনো অনেক নেতারই স্থান হবে না তার ইঙ্গিত ছিলো তারেক রহমানের বক্তব্যেও। উপস্থিত নেতারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমানের কাছে তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতৃত্বে যে আমুল একটি পরিবর্তন ঘটতে যাচ্চেছ তার স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ছিলো তারেক রহমানের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, কমিটিতে সবাই থাকতেই হবে এমন কোনো বিষয় নয়। যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের হয়ে লবিং সক্ষম তাদেরকে এই কাজটি করতে হবে। যুক্তরাজ্যে নয়, এর বাইরে বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের এ কাজটি করতে হবে। সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ইত্যাদি বিষয় উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে তুলে ধরতে হবে। একসাথে সবকিছু আশা করা যাবেনা উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রবীণ-নবীন এবং ভলো-মন্দের সংমিশ্রনে গঠন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যাদের নিয়েই কমিটি গঠন করা হোক না কেন তাদের কাজ প্রথম কাজ হবে একটি নতুন নেতৃত্ব বের করে আনা।
গত ১০ মাস থেকে স্থগিতকৃত যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সভাপতি, সম্পাদক হিসেবে নবীন-প্রবীন মিলিয়ে প্রায় একডজন নেতার নাম আলোচিত হয়ে আসছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতৃত্ব তা পুরোপুরি ধারণা কেউ করতে পারছেন না। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে অবস্থান করতে থাকা দলীয় অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের একক পছন্দের উপরই যে নির্ভর করছে তা সহজেই বুঝা যায়। একটি সূ(েড) জানা গেছে সোমবারের সমাবেশের সভাপতিত্বকারী, নিউহাম বিএনপি’র সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ এবং সমাবেশ আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাজ্য বিএন’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম নেতৃত্বে নতুন কমিটি আসার সম্ভাবনা রয়েছে বেশী । কোনো কোনো সূ(ড) মতে, ব্যারিস্টার এমএ সালামকে আন্তজাতিক কোনো পদে দায়িত্ব দিয়ে তদস্থলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. সাইফুল আলম চৌধুরী কিংবা লুতফুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তবে কারা আসছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতৃত্বে তা একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের উপর। আপাতত সে পর্যন্তই সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন সূ(েড) জানা গেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বহু প্রতীক্ষিত সেই ঘোষণাটি শীঘ্রই জানার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিকৃত সংবাদ পরিবেশনে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ :
এদিকে, তারেক রহমানের প্রকাশ্য সমাবেশে আসার খবরে নির্ধারিত ডেলিগেটদের বাইরে প্রচুর সংখ্যক নেতাকর্মীর আগমনে কিছু হট্টগোলের সৃষ্টি এবং স্থান সংকুলান না হওয়া ও নিরাপত্তার কথা ভেবে স্থানান্তরিত সভাকে কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যমে ’পন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালামসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সোমবারের সমাবেশের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতা ব্যারিস্টার সালাম বাংলা পোস্টের সাথে আলাপকালে বলেন, সমাবেশটি ছিলো আমাদের ৪২ জোনাল কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বাতিলকৃত কমিটির এগারো জন সদস্যকে নিয়ে। যার এই বিশেষ লিষ্ট এর বাইরের কাউকে প্রথমে সমাবেশে ঢুকতে দেয়া যায়নি। তিনি বলেন, ফোর স্টার মানের ডকল্যান্ডস্থ ক্রাউন প্লাজার হলটি আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের স্থান সংকুলানের জন্য যথেষ্ট ছিলো না। তাছাড়া হল সিকিউরিটি এবং সমাবেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করে আমরা স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হই বলেও উল্লেখ এমএ সালাম। কিন্তু এই স্থানান্তরকে কোনো কোনো মিডিয়ায় সমাবেশ পন্ড বলে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। যা খুবই দু”খজনক। তিনি বিভ্রান্তিমূলক সংবাদের পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান।

ঘুম হারাম নেতাকর্মীদের :
কী কমিটি আসছে। কাদের নাম আসছে সেই দু”শ্চিন্তায় চোখের ঘুম হারাম হয়েছে গেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের। সোমবার বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশে উপস্থিতি নেতাকর্মীদের শীঘ্রই নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করতে এই আশ্বাসের পর নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের হার্টবিট আরো একধাপ বেড়ে গেছে। তাই সোমবার সমাবেশ সন্ধ্যা ৯টায় শেষ হলেও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্র“পে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্থানে মিটিং করার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ৯০ দশকের সাবেক নেতাকর্মীদের এক সমাবেশ ব্রিকলেনের একটি রেস্টুরেন্টে গভীর রাত চলে বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূ(েড)। অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত যুবদল একাংশের সভাপতি নাসিম চৌধুরী তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ও পৃথক বৈঠক করেন। বিভিন্ন সূ(েড) জানা গেছে, ১/১২ দিনের মধ্যেই যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হবে।               

 
 
 
 
 
 

নিউজডেস্ক: গত ২০ শে মে ফ্রান্সে অবস্তানরত বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে ফ্রান্সের বাংলাদেশ দুতাবাসের হলরুমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদুত এম শহীদুল ইসলামের আমন্ত্রনে অনুষ্টিত হয় মতবিনিময় সভা।সভার শুরুতে রাষ্ট্রদুত তার স্বাগত বক্তব্যে সাংবাদিকদের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন ফ্রান্সের সাংবাদিকরা যেভাবে ইতিবাচক ভাবে প্রত্যেকটি গুরুত্বপুর্ন ইস্যুতে ভুমিকা রাখছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।কমিউনিটি গঠনে সাংবাদিকদের এ অবদান ফ্রান্সের বাংলাদেশীরা সারা জীবন মনে রাখবে।তিনি দুতাবাসের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে ফ্রান্স ব্যাপী বাংলাদেশকে পরিচিত করা,বাংলাদেশের পোশাক ইন্ডাস্টিজের রপ্তানি বাড়ানো,দুতাবাসের সেবার মান,নতুন ওয়েবসাইট, সহ আগামীদিনের বিভিন্ন কর্মসুচী নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।সাংবাদিকদের বিভিন্ন অভি্যোগ যেমন পাসপোর্ট রিনিউএর মেয়াদকাল ৬ মাস,বাংলাদেশ প্রমোটিং সিস্টেম,পোশাক প্রমোটিং সিষ্টেম,দুতাবাসের বিভিন্ন সেবাদানের উপর আরোপিত বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন অভিযোগ নোট করে আবিলম্বে তা সমাধানের আশ্বাস দেন।সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ্য থেকে রাষ্ট্রদুত এবং দুতাবাস কর্মকর্তাবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।দুতাবাসের কমার্ষিয়াল কাউন্সিলর ফিরোজ রশীদ ও প্রথম সেক্রেটারী ওয়ালিউর রহমানের উপস্তিতে অনুষ্টানে উপস্তিত ছিলেন প্যারিসের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক দেবেশ বড়ুয়া,নুরুল ওয়াহিদ, আবু তাহির,অধ্যাপক আলম অপু,শাহীন আহমদ,ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ,খান বাবু রুমেল,ইকবাল হোসেইন,খালেদ রহমান বাপ্পি,বদরুল হাসান,ওলিউর রহমান,সেলিম চৌধুরী,সাখাওয়াত হোসেইন প্রমুখ!               

 
 
 
 
 
 

নিউজডেস্ক:
দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন্ডি আর শারম্যান।
২৬ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। একই সফরে শারম্যান  ইন্দোনেশিয়া ও ভারত যাবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের এক বিবৃতিতে  (মিডিয়া নোট) এ কথা জানানো  হয়েছে।
আন্ডার সেক্রেটারি শারম্যান বাংলাদেশে সফরকালে দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদশে অংশীদারি সংলাপ দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৃহত্তর পরসিরে আলোচনার একটি ফোরাম।

উন্নয়ন, সুশীল সমাজ ও সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গসমতাসহ বিশদ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয়াদি আরো বিস্তৃত ও গভীরভাবে আলোচনার জন্য অংশীদারিত্ব সংলাপ সর্বোচ্চ ফোরাম।
আন্ডার সেক্রেটারি শারম্যান শ্রম, শিল্প ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেবেন। সেখানে  রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পরবর্তী পোশাকশিল্প খাতের মান নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে মিডিয়া নোটে জানানো হয়।
বাংলাদেশে আসার আগে শ্যারম্যান যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক নীতি সংলাপে অংশগ্রহণ করতে ২১-২৩ মে ইন্দোনেশিয়া সফর করবেন।  ইন্দোনেশীয় সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
 বৈশ্বিক নীতি সংলাপ যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ইয়োডোয়ুনো ২০১০ সালে উদ্বোধন করেন। এর লক্ষ্য হলো সহযোগিতা আরো জোরদার করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।
ইন্দোনেশিয়া থেকে আন্ডার সেক্রেটারি শারম্যান ২৪-২৫ মে পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লি সফর করবেন। সেখানে তিনি বিশদভাবে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয়াদি আলোচনা ও জুনে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত সংলাপের প্রস্তুতির জন্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদ, পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই ও অন্যান্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এরপর তিনি ২৫ মে ভারতের হায়দরাবাদের সফসে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবন আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

 
 
 
 
যোগাযোগ করুন..
01712 247 900

dainiksylhet@yahoo.com