বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট আগামী রবিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু এই হরতালের ডাক দেন।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, দুর্নীতিবাজ মহাজোট সরকারের পদত্যাগ ও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিরোধী জোট এই কর্মসূচি দিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কঠোর সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমি জানি না সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার কার প্ররোচনায় এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তিনি যা বলেছেন তা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে নাসিম সাহেবের এমন মন্তব্য খুবই নির্মম। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তার এই ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য আশা করা যায় না। তারেক রহমান অচিরেই বাংলাদেশে আসবেন। আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন।
মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে যে সব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা সামলানোর পরামর্শ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন আন্দোলন খেলা শুরু করেছেন। আমরা আবারো বলতে চাই, আসুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা করি। নইলে রাজপথে এর সমাধান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল হক চৌধুরীকে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে মেয়র পদে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিএনপির চারজনের মধ্যে কে হবেন মেয়র প্রার্থী তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। বিষয়টিতে সমঝোতা করতে গত সোমবার সিলেট যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
তিনি বিএনপির চার প্রার্থীকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক বসেন। বৈঠকে কোন সমঝোতায় না আসতে পেরে ঢাকায় ফেরত আসেন তিনি।
এদিকে বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে আসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির এ চার প্রার্থীকে ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডাকেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ।
সিলেটে মেয়র প্রার্থীতার বিষয়টি নিয়ে রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন চারজনের সাথে বৈঠকে বসেন। পরে বিষয়টিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়। দীর্ঘ বৈঠকের শেষে সিলেটের মেয়র প্রার্থী হিসাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা দেয় বিএনপি।
এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে অন্য তিন প্রার্থী ও সিলেট বিএনপির সকল নেতা-কর্মীকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিলেট নগরীর উপশহরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে রিংকু বড়ুয়া নামের এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে এমসি কলেজের এক ছাত্র তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিংকু বড়ুয়ার পিতার নাম সুকুমার বড়ুয়া। উপশহর বি ব্লকে তার বাসা(নং ৩৭)।হত্যা কান্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি।
আবদুল কাইয়ূম, লন্ডন থেকে:
লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় এক সেনা নিহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে দক্ষিণ পূর্ব লন্ডনের উইলউইচ এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় দুই সন্ত্রাসী কুপিয়ে এই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় লন্ডন জুড়ে আতংক বিরাজ করছে। নিহত ব্যক্তি উলউইচ রয়েল আর্টিলারি ব্যারাকের একজন সেনা সদস্য বলে জানা গেছে। বর্বর এই ঘটনার পর লন্ডনের সব সেনা ব্যারাকে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে সন্দেহভাজন দু’জনকেই আটক করে। তবে পুলিশের গুলিতে তারা মারাত্মক আহত হওয়ায় কড়া নজরদারিতে তাদের চিকিৎসা চলছে। তাদের নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভুত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ডেইলি টেলিগ্রাফ একটি উগ্রবাদী গ্রুপের নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীদের একজন নও মুসলিম। প্রায় এক দশক আগে মাইকেল আডিবুলাজো ধর্মান্তরিত হবার পর মুজাহিদ নাম ধারণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীসুত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে উলইচের জন উইলসন স্ট্রিটে সংঘটিত এই ঘটনার সময় মিলিটারি চ্যারিটি ‘হেল্প ফর হিরোস’ লিখা টি-শার্ট পরিহিত ২০ বছর বয়সের এক যুবককে আক্রমণ করে অপর দুই যুবক। এতে ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
হোম সেক্রেটারী টেরেসা মে এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলা বৃটেনের বিরুদ্ধে হামলা। তিনি ঘটনার পরপরই ইমারজেন্সী রেসপন্স টিম কোবরা-র সাথে বৈঠক করেছেন। লন্ডনের সব ব্যারাকের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফ্রান্স সফররত বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার রাতেই লন্ডন ফিরেছেন। ক্যামেরন দেশে ফিরেই রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সিকিউরিটি ফোর্সদের ও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিম কোবরা-র সাথে বৈঠকে মিলিত হন। এই হত্যাকান্ডকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মনে করছেন ক্যামেরন । যেকোন সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরণের হামলার পর বৃটেন কখনও চুপ করে বসে থাকবে না।
ঘটনাস্থলের ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যাক্তি রক্তাক্ত হাতে রক্তমাখা মাংস কাটার ছুরি উচিয়ে ধরে বলছে, ‘তারা আমাদের বিরুদ্ধে হামলা করলে আমাদেরও পাল্টা হামলা করতে হবে। চোখের বদলে চোখ আর দাঁতের বদলে দাঁত ফেলতে হবে। ওই লোকটি আরও বলছিল, মহিলাদের আজ এমন দৃশ্য দেখতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত, কিন্তু আমাদের দেশের মহিলাদেরও এমন দৃশ্য দেখতে হয়। তোমরা কখনও নিরাপদ অনুভব করবে না। তোমাদের সরকারকে উৎখাত করো; তারা তোমাদের কথা ভাবে না।’ বিবিসির জানায়, হামলাকারীরা হত্যাকান্ডের পর ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী জেমস জানান, দুইজন লোক প্রায় ২০ বছর বয়স্ক অপর এক লোকের উপর হামলা করে। তারা ক্ষেপে গিয়ে তাকে ফুটপাত থেকে টেনে নিয়ে রাস্তার মাঝখানে ফেলে রাখে। বর্বর এই হামলার পর দুই লোক প্রকাশ্যে ছুরি উঁচিয়ে আশপাশের লোকজনকে তাদের ছবি তোলার আহবান জানাচ্ছিল। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই ঘটনা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাকে ঘটনাটি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে। লন্ডন মেয়র বরিস জনসন তার টুইটার বার্তায় বর্বর ঘটনাটিকে অসুস্থ, প্রতারণামূলক এবং ক্ষমার অযোগ্য সন্ত্রাসী কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। লেবার লিডার এড মিলিবান্ড টুইটারে লিখেছেন, এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। গোটা দেশ আতংকিত। এদিকে, উলউইচের বর্বর হত্যাকান্ডের পর দক্ষিণ পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্ট ও এসেক্স এলাকার দু’টি মসজিদে বর্ণবাদী হামলা এবং আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এই পৃথক দুটো ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত নৃশংস হিসেবে উল্লেখ করে। সাবেক এমপি পদপ্রার্থী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইমাম আজমল মসরুরও বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারের এই বর্বর ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৭/৭ এর সন্ত্রাসী ঘটনায় ৫২ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। প্রায় ৮ বছর পর বুধবার দিবালোকে লন্ডনের রাস্তায় এমন বর্বর সন্ত্রাসী ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটলো।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাগরিক কমিটির ব্যানারে প্রার্থী হওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দল। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে সভা করে কামরানকে সমর্থন দেন সিলেটের ১৪ দলের নেতারা। সেই সাথে কামরানের বিজয় নিশ্চিত করতে ২৭ ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে প্রচারণা চালাতে গিয়ে যাতে নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১৪ দলের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ১৪ দলের অর্ন্তভূক্ত সকল রাজনৈতিক দলের জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সদস্য রাখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, মহানগরের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা ন্যাপের সভাপতি সৈয়দ এমএ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া, জেলা জাসদের সভাপতি কলন্দর আলী, মহানগর সভাপতি জাকির আহমদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, আজাদুর রহমান আজাদ, রণজিত সরকার প্রমুখ।:
রহমত আলী হেলালী:
সিলেট শহর থেকে সবচেয়ে দূরের উপজেলা জকিগঞ্জ। এ উপজেলার মানুষ সরকারী সুযোগ সুবিদা থেকে বার বার বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষের জীবনের মৌলিক যে কয়টি বিষয় রয়েছে তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে জকিগঞ্জবাসী। যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেট জেলার আরো ১১টি উপজেলা থেকে জকিগঞ্জ অনেকগুণ পিছিয়ে রয়েছে বলে এখানকার সাধারণ মানুষ মনে করেন। উপজেলার সিংহভাগ এলাকায় এখনও বিদ্যুতের আলো পৌছেনি। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন উপজেলার সর্বত্র গ্যাস সরবরাহ করা হলেও জকিগঞ্জ বাসীর কাছে তা এখনও শুধু স্বপ্ন। এরপরও তারা ধৈর্য্য হারায় নি। দাবী আদায়ের জন্য মাঠে নামেনি। শান্তি প্রিয় মানুষগুলো নীরবে নিভৃত্বে বসে সরকার বাহাদুরের দিকে চেয়ে অপেক্ষার প্রহরগুণছে। উপজেলাবাসী ভাবছে হয়তো একদিন জকিগঞ্জবাসীর দূর্ভোগের কথা সংশ্লিষ্টদের চোঁখে পড়বে। উদ্যোগ নেয়া হবে তা সমাধানের। তবে যোগাযোগ ক্ষেত্রে বারবার প্রতারিত হওয়া এ উপজেলার মানুষ আর ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারছে না। দেয়ালে পিঠ ঠেকার উপক্রম। বর্তমান সরকারের প্রায় শুরু থেকে উপজেলার রাস্তাঘাট গুলো ভেঙ্গে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত হলেও তা বারবার আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদার দিয়ে কোন মতে সংস্কার করা (ছেফ দিয়ে, লেপ ঢাকা) হচ্ছে। বিশেষ করে জকিগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা সদরে আসার একমাত্র রাস্তা আটগ্রাম-জকিগঞ্জ রোড দীর্ঘদিন থেকে ভেঙ্গে বড় বড় শতাধিক গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দু’একবার তা সংস্কার করা হলেও মাত্র এক-দু’মাসের মাথায় তা আবার ভেঙ্গে আরো বৃহৎ গর্তের সৃষ্ঠি হয়। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে নিুমানের কাজ করে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করাটাই দায়ী বলে স্থানীয়রা জানান। জানা যায়, ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে আটগ্রাম-রতনগঞ্জ সড়কের ২২ লাখ টাকার সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কার কাজের দুই মাসের মধ্যেই রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়। ছোট বড় দুই শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয় এ সড়কে। দীর্ঘ দু’বছরের অধিক সময় রাস্তাটি ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকারপর মাননীয় এমপি মহোদয়ের হৃদয়ে জকিগঞ্জবাসীর প্রতি সহানুভুতি জাগলে তিনি রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ প্রকল্পটি অনুমোদন লাভের পর শুনা যায়, জানুয়ারীর শেষ দিকে কাজ শুরু হবে এবং কাজটি হবে আর্ন্তজাতিক মানের। কিন্তু হায়! মাত্র কিছুদিনের মাথায় এ বরাদ্ধের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। দেখা যায়, মাত্র ১০ কিলোমিটার রাস্তার কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করে একজন বির্তকিত ঠিকাদারকে ৭ কিলোমিটার রাস্তার কাজ দেওয়া হয়। যার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের অভিযোগের কোন শেষ নেই। এছাড়া বাকি ৩ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এখনও কোন ঠিকাদার পেয়েছে কি না তা জানেনা জকিগঞ্জবাসী। অথচ আটগ্রাম থেকে রতনগঞ্জ হয়ে মনসুরপুর পযর্ন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় মিনি পুকুরের মতো গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে তা আরোও বৃহৎ আকার ধারণ করছে। বাকি ৭ কিলোমিটার রাস্তার ঠিকাদার শামসুল আলম বাবুল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করলেও প্রথম থেকেই তার বিরুদ্ধে নিুমানের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। দেখা দিয়েছে এলাকার মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন, বির্তকিত ঠিকাদার ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বাবুলকে দিয়ে বারবার পরিকল্পিতভাবে টেন্ডা দেওয়া হয়। সংস্কারে অনিয়ম করায় তাকে অতিতে জরিমানাও করা হয়েছিল বলেও অনেকে জানান। বির্তকিত ঠিকাদার বাবুল আবারো সে সড়কের কাজ পাওয়ায় যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ভালো কাজের ব্যাপারে আস্থাহীনতায় রয়েছেন। আড়াই কোটি টাকার কাজের মধ্যে কত টাকার কাজ হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনেককে বলতে শুনা যায়, অতিতের ন্যায় এবারও এলজিইডির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঠিকাদার মিলে গিলে ফেলবেন প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকা। আর বিগত অভিজ্ঞতায় তাদের সে ধারণা অমুলক নয় বলেও সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন। এনিয়ে আওয়ামী ঘরানায়ও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একটি পক্ষ বলছে এবার যদি এ রাস্তার কাজ ঠিক মতো না হয় তবে আগামীতে এলাকাবাসীকে নিয়ে চাঁদা তুলে রাস্তার কাজ করানো হবে। এছাড়া ‘ছেপ দিয়ে লেপ’ জাতীয় কাজ করার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার কথা বলেছেন অনেকে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদ বলেন, রাস্তাটিতে নিুমানের কাজ হচ্ছে এমনটাই সর্বত্র শুনা যাচ্ছে। তিনি জেলা ও উপজেলা আইন শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় পৃথকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলেও জানান। এনিয়ে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বাকবিতন্ড হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন,কাজটি সিডিউল মতো হচ্ছে না। এছাড়া আটগ্রাম থেকে বাকি প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার করুন দশার কথাও তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বলেছেন। তিনি নিজেই বলেন রতনগঞ্জ বাজারের ভিতরে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এতে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া গর্তের ভিতর জমে থাকা পানি গাড়ি চলাচলের সময় বাজারে চলচলরত মানুষের কাপড় চোপড়ে পড়ে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে যে কোন সময় আইন শৃংখলার চরম অবনতি হতে পারে বলেও তিনি জানান। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে এখনই ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য জোর দাবী জানান। সাবেক পৌর মেয়র ইকবাল আহমদ বলেন-ঠিকাদার বাবুল এ কাজ পাওয়ায় আমরা মনে করি জকিগঞ্জবাসীর কপালে যে কষ্ট ছিল সে কষ্টই থাকবে। তিনি কাজ শুরু করেছেন আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছি কাজে অনিয়ম হলে জকিগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। যুবলীগ নেতা নুরুল হক অনু বলেন-ঠিকাদার বাবুল সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কাজ ভাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ হবে না। তার কাছে মান সম্মত কাজ আশা করা বোকামি। সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আতিকুর রহমান মনি বলেন, কাজ যাকে দেওয়া হোক না কেন এবার কাজের কোন ধরণের অনিয়ম ও গড়িমিশি করা হলে আমরা আগামীতে এলাকাবাসীকে নিয়ে চাঁদা তুলে কাজ করবো। বারহালের সমাজসেবী আহমদুল হক চৌধুরী বেলাল বলেন, সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুসরণ না করে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কাজলসার ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবী শফিকুর রহমান বলেন, লোভা ছড়ার পাথরের সাথে ভোলাগঞ্জের পাথর মিলিয়ে নিুমানের কাজ করা হচ্ছে। যা বেশীদিন ঠিকে থাকবে না। দু’তিন মাসের মাথায় আবারও ভেঙ্গে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, কাজ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু জকিগঞ্জবাসী ফল ভোগ করতে পারবে বলে মনে হয় না। কেননা কাজ হচ্ছে একেবারে নিুমানের।
এব্যাপারে ঠিকাদার শামসুল আলম বাবুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কাজ ঠিক মতো হচ্ছে। কোথায়ও নিুমানের জিনিষ ব্যবহার করা হচ্ছে না।
জকিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বাদশাহ আলমগীর বলেন, আমি নিয়মিত তদারকি করছি। এখনও নিুমানের কোন কাজ হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে না।
এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কাজের কোথায় অনিয়মের খবর পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, এই রাস্তার পাশে জকিগঞ্জের বৃহৎ ৪টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জিএমসি স্কুল এন্ড কলেজ, জকিগঞ্জ সরকারী কলেজ ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবন রয়েছে। এরমধ্যে ফুলতলী কামিল মাদ্রাসা, লামারগ্রাম টাইটেল মাদ্রাসা ও হাড়িকান্দী টাইটেল মাদ্রাসার বিভন্ন মাহফিলে বছরে দেশের দূরদুরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয়। এতে সেসকল মানুষের চলাচলে দারুণ দূভোর্গ পোহাতে হয়। শুধু তাই নয় বর্তমানে রাস্তার এই করুণ অবস্থার ফলে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদ বিকল্প রাস্তা শেওলা-জকিগঞ্জ রোড হয়ে জকিগঞ্জ আসেন বলে অনেকে জানান।
সিলেট নগরীর উন্নয়নে সম্মিলিত নাগরিক জোট গঠিত হচ্ছে । এ জোট গঠনের লক্ষ্যে বুধবার রাতে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এম আতাউর রহমান পীর। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের শামীম, সাবেক এমপি আবেদা চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, জিয়া ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী আশফাক আহমদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দাল মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান এমরান রববানী, মহানগর বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জিলু, জিয়াউল মোস্তফা চৌধুরী খুররম, পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা, মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট, মহানগর বিএনপি নেতা এডভোকেট ফয়জুর রহমান চৌধুরী জাহেদ, আব্দুল সালাম নিশি, হাজী আব্দুল কাইউম, সৈয়দ মকবর আলী, আলাউদ্দিন আহমদ, হাজী মেরাই মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট চেম্বারের পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, শেখ মকবুল হোসেন মকু মেম্বার, হাজী মশাহিদ আহমদ, শ্রমিকদল নেতা মাসুক এলাহি চৌধুরী, প্রবীণ বিএনপি নেতা ইসমাইল আলী বাবু, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মুক্তিযোদ্ধাদলের মহানগর শাখার যুগ্ম-আহবায়ক সুহাদ রব চৌধুরী, মাসুদ আহমদ আফতাব, ট্রাক শ্রমিক নেতা আব্দুল্লা, আম্বরখানা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী মন্তাজ আলী, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল রশীদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম বাবলু, উত্তম সিং রতন, এস রতন সিনহা, ধনঞ্জয় চৌধুরী, ফনি পুরকায়স্থ, কাজল ভট্টাচার্য, জাতীয়তাবাদী হোটেল শ্রমিক দলের জেলা সভাপতি রজব আলী, সিলেট ছাত্র যুব কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এইচ এম আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, সুয়েবুল হক উসমানী, পরিবহন শ্রমিক নেতা জয়নাল আহমদ, সোয়েব আহমদ, শাহজাহান আলম শাহীন, হকার্স দলের সভাপতি শফিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ, আবুল কাশেম, বিশিষ্ট মুরববী গফুর মিয়া, হাফিজ মো. রইস উদ্দিন প্রমুখ। সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাকির হোসেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হক সিলেট নগরীর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে সম্মিলিত নাগরিক জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহবান জানান। কারণ একটি পরিবর্তন এখন অপরিহার্য। বক্তারা বলেন, গত ১৫-২০ বছরে সিলেট নগর কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। নগরবাসীকে তারা জঞ্জাল উপহার দিয়েছেন। যানজট, জলাবদ্ধতা পানীয় জলের অভাবসহ নানামুখী সমস্যা নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এমতাবস্থায় নগরবাসী আর কোন ব্যর্থ নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে নিজেদের দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে রাজী নন। সভায় বক্তারা সিলেট নগরীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিসহ একটি অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য এম সাইফরু রহমানের উন্নয়ন সহযোগী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে আগামী নির্বাচনে কাজ করার অভিমত ব্যক্ত করেন। এজন্য বৃহৎ পরিসরে সকল দল মতের মানুষকে নিয়ে সম্মিলিত নাগরিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। শীঘ্রই ২৭ টি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সমন্বয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মকে ধারণ করতে হবে। দেশে শিক্ষা ও সুশাসন বিস্তারের পাশাপাশি পরিবেশ-নদী-বন রক্ষায় তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। বাংলাদেশের দুর্নীতির উৎস অনুসন্ধান থেকে শুরু করে এটি নিমূর্লের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রামী ছিলেন।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় নগরের বারুতখানা এলাকায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই দাঁড়িয়ে প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম। বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিমের সঞ্চালনে বক্তৃতা দেন বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, ইমদাদুল হক, আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী, সঞ্জয় নাথ, মোমেন মিয়া, রুবেল আহমদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বাংলাদেশে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাপা, সুজন, টিআইবি, জাতিসংঘ সমিতিসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। তাঁর জীবন ও কর্মের সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে তরুণ প্রজন্ম কখনোই আদর্শচ্যুত হবে না। মোজাফ্ফর আহমদের জীবন অনুসরণ করে তরুণেরা দেশপ্রেমী হতে শিখবে।
নিউজডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল ও শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর স্ত্রী মাহবুবা খানম কল্পনা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে অর্ধশতাধিক ছাত্রীর স্কুল ড্রেসের জামার ফুলহাতার অর্ধেকটা কেটে দিয়েছেন। এ সময় কাঁচিতে অনেকের হাতেও আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ফুলহাতা শার্ট পরে এসেছে- এমন অভিযোগ তুলে স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মাহবুবা খানম কল্পনা কাঁচি দিয়ে ছেলেদের সামনেই মেয়েদের জামার হাতা কেটে দেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের শাস্তির দাবিতে তারা স্কুল প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন। স্কুলের গভর্নিং বডি যদি আজকের মধ্যে তাদেরকে অপসারণ না করে, তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে জানান অভিভাবকরা।
অভিভাবক আব্দুল আলিম মিয়া বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা নির্দেশনা না দিয়ে এ কাজ করেছে। এ রকম স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় কারণে হিজাব বা ফুলহাতা পরে আসতেই পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ নয়। আমরা স্কুলের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ দাবি করছি।
তিনি বলেন, মন্ত্রীর স্ত্রী হওয়ার দাপটে স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল এ কর্মকান্ডের পাশাপশি এর আগেও অনেক স্বৈরাচারী কর্মকান্ড করেছেন।
অভিভাবক সায়মা সুমী জানান, ইভটিজিং প্রতিহত করার জন্য এতো প্রচেষ্টা চালানো হয়। আবার ফুলহাতা ড্রেস পরে এলেও তা কেটে দেয়া হবে, তাহলে ইভটিজিং কমবে কিভাবে? আমরা মেয়েদের শালীনতার কথা চিন্তা করে হিজাব ও ফুলহাতা শার্ট পরতে উৎসাহিত করি- সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধা দিচ্ছে!
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নওশিন বলেন, আমাদের আগে কখনো নোটিশ দেয়া হয়নি। ক্লাসে কখনো বলাও হয়নি। আমরা হিজাব পরিধান করি। কিন্তু এর সাথে শর্ট হাতা পরলে সবাই খারাপ ভাববে। তাই ফুলহাতা পরে আসি। কিন্তু ম্যাডামরা আমাদের কোনো ধরনের সুযোগ না দিয়ে সবার সামনে হাতা কেটে দিলেন।
আরেক অভিভাবক জহিরুল ইসলাম জানান, মুসলিম দেশে মেয়েরা ফুল হাতার পোশাক পরিধান করতেই পারে। যদি এটি তাদের পছন্দ না হয় তাহলে জিন্সের প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরার নিয়ম করুক। তিনি মন্ত্রীর স্ত্রী বলে যা ইচ্ছা তাই করবেন- এটা হতে পারে না। এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ড. উম্মে সালেমা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার নির্দেশে তাদের জামার হাতা কেটে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে আমি তাদের অনেকবার নিষেধ করেছি ফুলহাতা পরে আসতে। কিন্তু এরপরও তারা একই কর্মকান্ড করেছে। তাই স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল কাঁচি দিয়ে ফুলহাতা কেটে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্কুলের নিয়ম অনুসারে সবাইকে ড্রেস পরে স্কুলে আসতে হবে। এর বাইরে মেনে নেয়া হবে না। তবে কেউ যদি পর্দার কারণে ফুলহাতা শার্ট ও হিজাব পরে, তবে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
উদয়ন স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মাহবুবা খানম কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বারবার ফোন করলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
--জাস্ট নিউজ
পাঠানটুলা পয়েন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে এমসি কলেজ ছাত্র আহমদ ইমতিয়াজ পারভেজ খুন হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৪টায় নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পারভেজ এমসি কলেজের অর্থনীতি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। তিনি সিলেট সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মজম্মিল আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারভেজ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে পাঠানটুলা পয়েন্টে আসলে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী তার সিএনজির গতিরোধ করে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনে এবং রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট বিএনপি’র চার মেয়র প্রার্থীকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি’র গুলশান অফিসে তাদের সাথে বৈঠক করবেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা। এ বৈঠকে দলের একক প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বিুাকারী চার প্রার্থী হলেন-মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। এ চার প্রার্থীর মধ্যে একজনকে দলের মনোনয়ন দিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের দূত হিসাবে সিলেটে আসেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি চার প্রার্থীর সাথে তার হোটেল স্যুটে আলাদা বৈঠক করেন। কিন্তু, এ ব্যাপারে একক সিদ্ধান্তে আসতে অনেকটা ব্যর্থ হন। তিনি সামগ্রিক পরিস্থিতি দলের চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন। এ অবস্থায় চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড চার প্রার্থীকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় তলব করেছে। দলের সিনিয়র নেতারা তাদের সাথে সেখানে বৈঠক করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, সিলেটে তিনদিনের সফরশেষে আজ বেলা ২টা ২৫ মিনিটে নভোএয়ারযোগে সিলেট ছাড়ছেন শমসের মবিন চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১৪ দলের একক প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপির চার প্রার্থী ছাড়াও জামায়াতের এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এস এ শফি:
গ্রুপিং ভারে ন্যুজ সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ব্যস্ত না রেখে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচী পালনে ব্যস্ত রয়েছে ছাত্রদলের অসংখ্য গ্রুপ। একে অপরকে ঘায়েল করার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ব্যক্ত রেখে ছাত্রদল গোটা জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগের চেয়ে ভয়াবহ ও ভয়ংকর অবস্থান নিয়ে গোটা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। সিলেটের বেশীর ভাগ ছিনতাই ও হত্যা মামলার আসামী সিলেট ছাত্রদলের কর্মীরা। বিএনপি নেতারা তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পৃথক পৃথক গ্রুপ সৃষ্টি করে তাদেরকে এ পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সক্রিয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিক খালেদ রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তার প্রতি আস্থাশীল। এছাড়া সাইদ আহমদ, আহমদ চৌধুরী ফয়েজও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে ফয়েজের নামে হত্যা, অস্ত্র সহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য চেষ্টা করছেন রেজাউল করিম নাচন, মাহফুজুল করিম জেহিন, আবু সালেহ লোকমান, মতিউল বারী খুরশেদ, তবে আলোচনার শীর্ষে আছেন রেজাউল করিম নাচন, যদিও নাচন এবং জেহিন-এর সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি অস্ত্র সহ একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এইচ রহমান হাবিব, কাজী মেরাজ, আব্দুর রকিব, তবে আব্দুর রকিব জায়গা দখল ও গাড়ি চুরির মামলায় জেল খেটেছেন, মেরাজের নামে রয়েছে চুরি সহ একাধিক মামলা আরও যারা মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য তদবির করছেন তারা হলেন দেওয়ান জাকির, মুমিনুর রহমান তানিম, লোকমান আহমদ, মুরাদ আহমদ, নিজাম উদ্দিন ইমন, হেলাল আহমদ, মির্জা সম্রাট, জিল্লুল হক জিনু, আশরাফ আহমেদ, আবু সালেহ শামীম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। এছাড়া সৈয়দ সাফেক মাহবুব, সিদ্দিকুর রহমান পাপলুও চেষ্টা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মাহবুবুল হক চৌধুরী, শাকিল মুর্শেদ, কোহিনুর আহমেদ, লোকমান তালুকদার লবিং করছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য মইনুল ইসলাম রিপন, আজিজুল হোসেন আজিজ, মকসুদ আহমদ, মিজানুর রহমান নেছার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য লবিং করছেন চৌধুরী মুহাম্মদ সোহেল, নেছার আলম শামীম, রাশিদুল হাসান খালেদ, লায়েক আহমদ, আব্দুল হাকিম জাকারিয়া, ইমাম উদ্দিন, এনামুল হক শামীম। সিলেটের ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবী করেন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, অস্ত্রবাজ ও বিতর্কিত নেতা বর্জিত একটি সুন্দর ও গতিশীল নেতৃত্ব বা বহুধা বিভক্ত ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করতে অতিশীঘ্রই কমিটি ঘোষনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সিলেটের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন। নিকট অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল, আভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলে জর্জরিত ছাত্রদলের পূর্বের সেই অবস্থান এখন আর নেই, ছাত্রদলের রাজনীতি এখন পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রীক হয়ে গেছে, দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে এক সাথে এক স্টেজে দেখা যায় না বললেই চলে। তৃণমুল ছাত্রদলকর্মীরা অলি-গলিতে গজিয়ে উঠা এইসব উপ-গ্রুপের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদকেই দায়ী করেছেন। মহানগর বিএনপি সভাপতি এম এ হক ও সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম মদদপুষ্ট জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব-জেহিন-লোকমান গ্রুপ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী-যুগ্ম সম্পাদক আজমল সাদেক-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদি’র মদদে রয়েছে সবচেয়ে বড় অংশ যার নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকি খালেদ-সাহেদ-চমন-এইচ রহমান হাবিব গ্রুপ, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ডা. শাহরিয়ার-আবুল কাহের শামীম এর সমর্থন পুষ্ট সিদ্দিকুর রহমান পাপলু-সাইদ আহমদ, রেজাউল করিম নাচন গ্রুপ, স্বেচ্ছাসেবক আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির অব্যাহতি প্রাপ্ত ১ম যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জামান জামানের আশীর্বাদ পুষ্ট আব্দুল আহাদ খান জামাল-মতিউল বারী খুরশেদ-আজিজ গ্রুপ, স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির অব্যাহতি প্রাপ্ত ১ম যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জামান জামানের আশীর্বাদপুষ্ট আব্দুল আহাদ খান জামাল, মতিউল বারী খুরশেদ-আজিজ গ্রুপ, ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই আসকির আলীকে কেন্দ্র করে রয়েছে আহমদ চৌধুরী ফয়েজ-শাকিল মুর্শেদ-মকসুদ গ্রুপ, বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী সমর্থিত মাহবুবুল হক চৌধুরী দেওয়ান জাকির গ্রুপ।
এছাড়া গুম হওয়া ছাত্রনেতা দিনারের অনুসারীরা রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফ্ফার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদের সমর্থনপুষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নেতৃত্বের জট, তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রদল, সৃষ্টি হচ্ছে উপ-গ্রুপ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদাসীনতা ও সিলেটের কমিটি গঠনে বিলম্ব নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। গ্রুপ বদল ও নেতা বদলের কারণেই বার বার বাড়ছে সংঘর্ষের ঘটনা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা ও চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে সবাইকে নিয়ে গঠন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কাউন্সিলের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করেও তৃণমূল পর্যায়ে জরিপ করে বার বার উদ্যোগ নিয়ে কয়েকবার কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করেও রহস্যজনক কারণে তা প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে সিলেটের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপির লেজুড়ভিত্তিক থেকে ছাত্রদলকে বের করে আনতে এই মুহূর্তে নতুন কমিটি ঘোষণা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনে ছাত্রদলের বিশাল কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগাতে কেন্দ্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন।
বাছির সরদার, দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি বলেছেন, আওয়ামীলীগ দেশের উন্নয়ন করেছে, তাই আগামী নির্বাচনে ক্ষামতায় যাবে এটা আমরা বিশ্বাস করি, আর বিরোধী দল ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এটা তাদের বিশ্বাস। কিন্তু ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন ফুরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৪২ বছরের বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ১২ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। আওয়ামীলীগের ৪ বছরের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীদল ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তাদের চক্রান্ত সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। জনগণ বিরোধী দলের এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে তাদেরকে প্রত্যাখান করছে। আওয়ামীলীগের উন্নয়নে মানুষের বিশ্বাস বেড়েছে, নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। জনগণের প্রতি আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেত্রীকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু তিনি মুখোমুখি না হয়ে ছলচাতুরী করছেন। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিভিন্ন প্রকল্প কাজের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসি ও সুনামগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতির কর্মকর্তাদের উদ্যেগে দিরাই গণমিলনায়তন হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল হকের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পল্লী বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী জগলুল হায়দার, এজিএম মমিনুল হক, পার্থ চক্রবর্তী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৯৫টি গ্রামে পল্লী বিদ্যুত সমিতি বিদ্যুতায়নের প্রকল্প হাতে নিয়েছে, এরমধ্যে রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর, মির্জাপুর, মাছিমপুর, মেঘনা বারঘর, খাগাউড়া, সেচনী, আনোয়ারপুর, জগন্নাথপুর, কুড়ী নোয়াগাঁও, সমীপুর, গাজিয়ারগাঁও, সাদিরপুর, রামজীবনপুর, সজনপুর, বাসাখরচ। কুলঞ্জ ইউনিয়নের নাগেরগাঁও, শালীরগাঁও, পিতাম্বরপুর, রাড়ইল, টংগর, তারাপাশা, মিলনগঞ্জ বাজার, জারলিয়া, হাতিয়া, নাচনী, রাধানগর, বরইতিয়র, কুলঞ্জ, তেতৈয়া, আকিলশাহ, ভাইটগাঁও, ধাইপুর, ধীতপুর, গলিশাইল, বাউশী, ছোট বাউশী, শোয়াতিয়র, উত্তর সুরিয়ারপাড়, দক্ষিণ সুরিয়ারপাড়। জগদল ইউনিয়নের একতিয়ারপুর, আতবাড়ি, কালধর, চানপুর, বকশিপুর, রাজানগর, মিঠাপুর, বাশুরী, হালেয়া, কদমতলী, সিংহনাথ, নারায়নকুড়ি, জগদল, হোসেনপুর, সিকন্দরপুর, দৌলতপুর, নতুন জগদল, পুরাতন জগদল, হরনগর, বড়বাড়ি। তাড়ল ইউনিয়নের তাড়ল, রণভূমি, কাদিরপুর, উজানধল, ভাটিধল, ধল ভড়াউট, আমিরপুর, সরালীতোপা, বোরহানপুর, ভাঙ্গাডহর, ডাইয়ারগাঁও, নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, কলধুম, আশ্রম। রাজানগর ইউনিয়নের কদমতলী, উমেদনগর, কাজুয়াবাদ, ফাতেমানগর, দরগাবাড়ি, ধাপখাই, রন্নারচর, জাহানপুর, শিলারচর, হারানপুর, জাগরনীরচর, মির্জাপুর, অনন্তপুর, জটিরচর, কালীনগর, কাইমা, মধুপুর, ধলুয়া, আনোয়ারপুর।
কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় লেগুনা ড্রাইভার নিহত, আহত হয়েছেন ৮ জন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার পাগলা বাজার বাসস্টেন্ডে সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সিলেট মূখী মিনিবাস (সিলেট.ব.৬৩০৯) ও রাস্থায়দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা (সিলেট ছ-১১-১৫০৯) কে ধাক্কা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় লেগুনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা ড্রাইভার উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউপির রায়পুর গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে মোঃ ইদ্রিছ মিয়া (২৬) ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় আহত হন লেগুনা মালিক, কন্ট্রাক্টর, পথচারি সহ ৮ জন। আহতরা হলেন উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউপির রায়পুর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫), শত্র“মর্দন গ্রামের আরব আলীর ছেলে তছলিম মিয়া (১৫), পাগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তফসিল দার মহছিন উদ্দিন (৪৫), পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শিব্বির আহমদ (১৪), জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের মাফিক মিয়ায় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২০), কামরুপদলং গ্রামের বাশাদ আলীর ছেলে মাসুদ মিয়া (১২) সহ অজ্ঞাত আরও ২ জন। আহতদেরকে সিলেট ওসমানি মেডিকে হাসপাতাল, কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা-সড়কে ঘন্টা ব্যাপী যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস আই মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি এড. আনোয়ারূল ওয়াদুদ টিপু বলেছেন-এই সরকার ধারাবাহিক ভাবে নির্বিচারে গ্রেফতার, নির্যাতন, রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া সহ সব ধরনের অমানবিক কাজ অতীতের যে কোন রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। বর্তমানে তাদের রেকর্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রিমান্ডের নামে অমাষিক নির্যাতন করে মুমুর্ষ অবস্থায় আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা। প্রশাসন যন্ত্রের এই বর্বরতা দেখে জাতি আজ স্তম্ভিত। জাতির কাছে আজ প্রশ্ন দেশের আজ মানবাধিকার বলতে কী কিছু আছে। আমাদের মানাধিকারের ধ্বজাদারীরা কোথায় আজ। এর চাইতে আর বড় মানবাধিকার লংঘন আর কী হতে পারে? সরকার ও তারে প্রশাসনের এই নির্মমতা আদিম মধ্য যুগীয় বর্বরতাকেও আজ হার মানিয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর’র উদ্যোগে আয়োজিত শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর শিবির বিক্ষোভ –মিছিল পরর্বতী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উক্ত কথা বলেন। ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম উদ্দিন এর যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত বিক্ষোভ –মিছিল পরর্বতী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি সভাপতি হোসাইন আহমদ, সিলেট জেলা পুর্ব সভাপতি মাসুক আহমদ, জেলা পশ্চিম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হা.আব্দুল আজিজ, মহানগর তথ্য ও সমাজসেবা সম্পাদক এবাদুর রহমান, ছাত্রকল্যান সম্পাদক ফখরূল আলম সেলিম, প্রচার সম্পাদক সুহেল আহমদ, অর্থ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, দফতর সম্পাদক মোজাম্মেল হক, এইচ.আর.ডি সম্পাদক এস.এম.মনোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা শাহেদ আলী, বিমান বন্দর থানা সভাপতি জুবায়ের আহমদ, সিলেট এম সি কলেজ সভাপতি নজরূল ইসলাম প্রমুখ।
তিনি আরো বলেন সরকার এখন জনগনের ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকার চাইছে যে কোন মুল্যে বিরোধী মতকে দমন করতে। তাই তারা বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দকে র্টাগেট করে নিশ্পেষনে নেমেছে। সরকারের বাচাল ও দুনীর্তিবাজ মন্ত্রী-আমলারাও জনগনের কাছে তাদের কৃত কর্মের ভয়ে ভীত। তাই তারা জনগনের শেষ ভরসা মত প্রকাশে মাধ্যমকেও বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এর উপর নির্যাতন বন্ধ করে তাকে মুক্তির আহবান জানিয়ে বলেন, যদি তার উপর নির্যাতন বন্ধ না করা হয় ,অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না, হয় তাহলে এদেশের লক্ষ-লক্ষ ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে তার মুক্তি নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী নিয়ে জটিলতা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দেবেন বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি’র চার মেয়র প্রার্থীর সাথে আলাদা বৈঠক করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম। সোমবার সন্ধ্যায় ও মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এ চার প্রার্থীর সাথে পৃথক মতবিনিময় করলেও কোন সিদ্ধান্ত জানাননি। এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিুাকারী ৪ প্রার্থী হলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকী, সিনিয়র সহ সভাপতি নাছিম হোসাইন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।
জামান ছাড়া বাকি তিন প্রার্থী সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহরের হোটেল রোজভিউয়ে শমসের মবিনের সাথে দেখা করেন। শামসুজ্জামান জামান মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তার সাথে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন।
গাক্ষাৎ কালে নাছিম, পংকী ও জামান- তাদের তিন জনের মধ্যে থেকে একজনকে প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে অনড়। বিষয়টি তারা শমসের মুবিন চৌধুরীকে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, শমসের মবিন সামগ্রিক পরিস্থিতি অবহিত হয়েছেন। দলের চেয়ারর্পাসনের সাথে আলোচনা করে তিনি এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন সিলেট সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে।
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন:
বহুল আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এবং নেতা-কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সোমবার বেলা আনুমানিক দুইটার দিকে লন্ডনের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বিএনপির সভা শুরু হয়। ব্রিটেন ও ইউরোপের ২৪টি দেশের বিএনপির শাখা কমিটির প্রেসিডেন্ট, সম্পাদক, আহবায়ক এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ক্রাউন প্লাজায় উপস্থিত হন। তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। ক্রাউন প্লাজা শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে। হোটেলের লবির ভিতরে স্থান সংকুলান না হওয়াতে অনেক নেতা-কর্মী বাইরে থেকে হোটেলে ঢোকার জন্য গেইটে ধাক্কা-ধাক্কি করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা ভিতরের পক্ষের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকলে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সাথে কথা কাঠাকাঠি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।
বাইরের এই বিশৃঙ্খলার সংবাদ ভিতরে পৌছলে সেখানেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এই পর্যায়ে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীরা একে অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে সভায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকতার হোসেন সভায় শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মহিদুর রহমান, সাবেক কমিটির আব্দুল মালিক, ব্যারিস্টার এম এ সালাম নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সভা পণ্ড হয়ে যায়।
বেলা দুইটায় ক্রাউন প্লাজার সভার শুরুতে তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে তিনি বাংলাদেশের নিহত জনগণের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন, দুর্গত জনগণের সাহায্যে নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি সরকারের দমন-পীড়নে বিএনপি নেতা-কর্মীদের খোজ-খবর নেন।স্বাগত বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির শক্তিশালী কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলে পুরো হলে বিএনপি নেতা কর্মীরা তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন।স্বাগত বক্তব্যের পর তারেক রহমান তখন বিভিন্ন শাখা কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেয়ার আহবান জানান এবং তিনি সকলেরই বক্তব্য শুনবেন বলে সবাইকে আশ্বস্থ করেন। এই পর্যায়ে একে অন্যের বক্তব্যের বিরোধীতা আর বাইরের হট্টগোলে একে অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে সভা পণ্ড হয়ে যায়।হোটেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ কল করলে সভায় উপস্থিত উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়, এখান থেকে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকতার হোসেন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে মহিদুর রহমান, আব্দুল মালিক, এম এ সালাম সহ সভার প্রধান অতিথি তারেক রহমান সভা এখানে স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে চলে আসার কথা বলে সেখানে চলে যান।তারেক রহমান, মহিদুর রহমান, আব্দুল মালিক, এম এ সালাম কেউই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।
পরে বিকেলের দিকে ক্রাউন প্লাজা থেকে সভা সরিয়ে নিয়ে পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে শুরু হয়। সেখানে নির্ধারিত নেতা-কর্মী ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পাল্ম ট্রি রেস্টুরেন্টে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সভা চলছিলো।সেখানে তারেক রহমান অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শুনেন এবং মাঝে-মধ্যে নিজের ডায়রিতে নোট লিখে নিচ্ছিলেন।ক্রাউন প্লাজার মতোই তিনি সবাইকে আশ্বস্থ করেন, সকলের মতামতের ভিত্তিতেই যুক্তরাজ্য বিএনপির গতিকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটি শীগ্রই তিনি ঘোষণা করবেন।এই সভায় বিএনপি নেতা আকতার এবং অধ্যাপক আব্দুল আহাদকে বেশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তারেক রহমানের সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষ্যে সকল পক্ষের সাথে সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।শান্তিপূর্ণভাবে সভা অনেক রাত অবধি চলে।
Salim932@googlemail.com
নিউজডেস্ক: সিলেট নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী রাজনকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে একই সংগঠনের ক্যাডারা। সিলেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (হেড কোয়ার্টার) মো: আইয়ুব সাংবাদিকদের জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে টিলাগড়ের পয়েন্টে পুলিশ রোববারের অস্ত্রধারী রাজনকে ধরতে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাদের বাধা দেয়। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠাচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,সোমবার রাতে টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে সাদা পোষাকধারী পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী রাজনকে আটক করে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী রাজনকে ধরে নিতে পুলিশকে বাধা দেন। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাছ থেকে রাজনকে ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ উঠে। নিপু টিলাগড়ে রনজিত-আজাদ গ্র“পের কর্মী হিসাবে পরিচিত।
এদিকে, রাজনকে ছিনিয়ে নেয়ার পর ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখানে মিছিল বের করে। এ কারণে টিলাগড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়।
গত রোববার এমসি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রনজিত-আজাদ গ্র“পের সাথে ও এমপি গ্র“পের নেতাকর্মীদের গোলাগুলি হয়। এতে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এসময় ছাত্রলীগ কর্মী রাজনসহ কয়েকজন ক্যাডার সময় টিভির প্রতিনিধি আবদুল আহাদ ও ক্যামেরাপার্সন নওশাদকে লাঞ্ছিত করে ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি। সোমবার গণমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিবির সভাপতিকে গ্রেফতারের পর পাঁচ বারে টানা ৫৩ দিন রিমান্ডে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও সোমবার ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা মুমূর্ষু থাকায় আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এতে আরো বলা হয়, ফের ১৭ দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে সরকার প্রমাণ করেছে তারা বর্বর মানসিকতার অধিকারী।
























