আজ কবি মুহিত চৌধুরীর জন্মদিন
আজ ২ নভেম্বর কবি, সাংবাদিক, গীতিকার ও সম্পাদক মুহিত চৌধুরীর জন্মদিন। ১৯৬০ সালের এই দিনে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চক্রবাণী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সাহিত্য ও সাংবাদিকতা—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘ পথচলায় তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব পরিচিতি।
ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে গল্পের বই ‘আঁখি ভরা জল’ ও নাটক ‘প্রতিশোধ নেব না’ রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যচর্চার সূচনা। এরপর কবিতা, গল্প, নাটক, গান, উপন্যাস ও গবেষণাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
মুহিত চৌধুরীর কবিতায় প্রেম, বিরহ, নিঃসঙ্গতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম, ধর্মীয় চেতনা ও সমাজবাস্তবতার নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি মানুষের জীবনসংগ্রাম, সময়ের অসংগতি এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ লক্ষ করা যায়। সহজ-সরল ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশ তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এ পর্যন্ত কবি মুহিত চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২টি
১. প্রতিশোধ নেবনা (নাটক) ২.সানাই কথা বললো না (কাব্য) ৩.নির্লজ্জের লজ্জা (কাব্য)৪.যদি ভালোবাসা মরে যায়(কাব্য)৫. কসম সিনাই পর্বতের (কাব্য)
৬. নিলামে উঠুক তোমার পৃথিবী (কাব্য)৭.পাখি গেলে পোঁকার বাস (গীতিসংকলন)৮. ফিরে আসা (উপন্যাস)
৯. এই ঘর এই মন (উপন্যাস)১০.সহজ হজ্ব গাইড(ধর্ম বিষয়ক)১১. আমেরিকায় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি( গবেষণা)
১২. বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা (সাংবাদিকতা বিষয়ক)
। সম্প্রতি তাঁর কবিতায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জীবন, প্রেম, অপেক্ষা, স্মৃতি, মানবিকতা ও আত্মোপলব্ধির নানা বিষয়।
গীতিকার হিসেবেও মুহিত চৌধুরীর রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি। বাংলাদেশ বেতারের জন্য তিনি চার শতাধিক গান রচনা করেছেন। মরমি, পল্লিগীতি ও আধুনিকসহ বিভিন্ন ধারার গানে তাঁর সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর গানের সংকলন ‘পাখি গেলে পোকার বাস’ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এ ছাড়া বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে তাঁর লেখা অর্ধশতাধিক নাটক।
সাংবাদিকতা পেশায়ও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি ‘শিকড়’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৩ সাল থেকে মাসিক বিশ্ববাংলা নামক ম্যাগাজিন সম্পাদনা শুরু করেন। ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর তাঁর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিকসিলেটডটকম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউজ পোর্টালটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিলেটে অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশ ও পেশাগত ঐক্য প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তাকে সিলেটের অনলাইন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হয়। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সিলেটের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখালেখি ও মতামত প্রকাশ করে আসছেন।
সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব পোয়েট্রি’ থেকে মানবতাবাদী কবিতার জন্য ‘এডিটরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তিনি। তাঁর কবিতা ওই প্রতিষ্ঠানের ‘স্পার্কলস ইন দ্য স্যান্ড’ কাব্যসংকলনেও স্থান পায়।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও মুহিত চৌধুরী সক্রিয়। তাঁর সৃজনশীলতার মূল অনুপ্রেরণা মানুষ, সমাজ, দেশ ও জীবন। সময়ের পরিবর্তন, মানুষের অনুভূতি এবং সমাজের নানা অসংগতি তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে।
জন্মদিন উপলক্ষে কবি মুহিত চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সৃজনশীল জীবন কামনা করেছেন তাঁর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, পাঠক ও সাহিত্যাঙ্গনের অনুরাগীরা।
শুভ জন্মদিন কবি মুহিত চৌধুরী। তাঁর কলম চলুক মানুষের জন্য, মানবতার জন্য এবং সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়।






