সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন আধিপত্যবাদী চক্রের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সিপাহি-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। ঐতিহাসিক এ দিন আমাদের জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা সেনানিবাসের বন্দিদশা থেকে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এ দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যায় আড়ালে রাখা হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। ইতিহাসের ইতিবাচক দিকগুলো জানলে তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হবে।
৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সংসদকে কার্যকর করতে হবে, যাতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও মতপ্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং সহসাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমীন, সাবেক সহসভাপতি বদরুদ্দোজা বদর, জিয়াউস শামস শাহীন, আবদুল কাদের তাপাদার, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবির আহমদ সুহেল, সিনিয়র সদস্য এম এ মতিন, সেলিম আউয়াল, মুহিত চৌধুরী ও সাকিব আহমদ মিটু।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন-নূর বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। একটি জাতির ইতিহাস তার পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পথচলার অন্যতম ভিত্তি। তাই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি। জাতির ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। তিনি বলেন, ইতিহাসকে কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়। বরং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ লেখনী, আলোচনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে জাতির সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সদস্য দুলাল হোসেন, শেখ আব্দুল মজিদ, আবুল কালাম কাওছার, তাজুল ইসলাম, সহযোগী সদস্য এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. শুয়াইবুল ইসলাম।






