ইতালিতে নারী হত্যা ঠেকাতে শাস্তির নতুন আইন পাশ
ইতালির পার্লামেন্টে নারী হত্যাকে (ফেমিসাইড) স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধানসহ সর্বসম্মতিতে একটি বিল পাস হয়েছে।
নতুন আইনের মাধ্যমে এখন থেকে কোনো নারীকে তার লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে হত্যা করা হলে তা ফেমিসাইড হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ হত্যার উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার বৈষম্যকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা করে দেখা হবে। এ জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন ইতালিতে নারী হত্যার ২১১টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে।
ইতালির আগে সাইপ্রাস, মাল্টা ও ক্রোয়েশিয়া তাদের ফৌজদারি আইনে ফেমিসাইডকে আলাদা আইনি সংজ্ঞা দিয়েছে। এবার ইতালি সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের দিনই এ আইন পাস হওয়ায় বিষয়টি দেশে–বিদেশে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন আইনে ফেমিসাইডের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক হত্যাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ফেমিসাইড নিয়ে স্বতন্ত্র আইন করার ধারণাটি ইতালিতে নতুন নয়। তবে ২০২২ সালে জিউলিয়া চেকেত্তিন নামের তরুণীকে তার সাবেক প্রেমিক ফিলিপ্পো তুরেত্তার হাতে নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ২২ বছর বয়সী জিউলিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার দেহ ব্যাগে ভরে হ্রদের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। অপরাধীকে ধরার আগ পর্যন্ত ঘটনাটি ইতালির সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিল।
জিউলিয়ার বোন এলেনার একটি বক্তব্য তখন ব্যাপক আলোচিত হয়। তিনি বলেছিলেন, খুনি কোনো দানব নয়, বরং একটি গভীর পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে ওঠা ‘একটি হৃষ্টপুষ্ট সন্তান’। তার এই মন্তব্য সমাজজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে পরিবর্তনের দাবি তোলে। এরপর দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা ও হত্যার কারণ ও কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর ইতালির আইনপ্রণেতারা অবশেষে নারী হত্যাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থী সরকার যেমন এ বিলকে সমর্থন করেছে, তেমনি বিরোধীদলের সদস্যরাও একজোট হয়ে পক্ষে ভোট দেন। অনেক সংসদ সদস্য সেদিন লাল রিবন বা লাল জ্যাকেট পরে নারীর প্রতি সহিংসতার শিকারদের প্রতি সংহতি জানান।








