লেবাননে চলছে ইসরায়েলি বিমান হামলা
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ‘স্পষ্ট এবং বিপজ্জনক’ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি)।
সংস্থাটি বলছে, গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননে সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মানবিক সহায়তা সংস্থাটি জানায়, গত মাসে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননে অন্তত ৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এনআরসি’র মতে, এই ধারাবাহিক হামলা ২০২৪ সালের নভেম্বরে সই হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে উপহাসে পরিণত করেছে। উল্লেখ্য, এক বছরের বেশি সময় ধরে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং দুই মাসের ভয়াবহ যুদ্ধের পর ওই চুক্তি হয়েছিল, যাতে লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
লেবাননে এনআরসি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মরিন ফিলিপন বলেন, ‘‘এই হামলাগুলো এবং ক্যামেরার আড়ালে চলা অসংখ্য স্থল অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন কাগজে কলমে থাকা কালির চেয়ে বেশি কিছু নয়।’’
নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলাস অ্যাসিস্ট্যান্স’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনআরসি কেবল মানবচালিত যুদ্ধবিমানের হামলার হিসাব দিয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন হামলা বা স্থল অভিযানের হামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই।
সম্প্রতি গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননের কাফার তেবনিট এবং আইন কানা গ্রামে উচ্ছেদ আদেশের পর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ভবনগুলো হিজবুল্লাহর ‘সামরিক অবকাঠামো’ ছিল এবং তারা সেখানে কার্যক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল বুধবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিবেশগত অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন, কারণ ইসরায়েলি বিমানগুলো দক্ষিণ লেবাননের শহরগুলোতে অজ্ঞাত রাসায়নিক পদার্থ স্প্রে করেছে।
মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে এনআরসি জানিয়েছে, চলমান এই হামলা বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা উপত্যকার কয়েক ডজন শহর ও গ্রামে এসব হামলায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মরিন ফিলিপন একটি উদাহরণ টেনে বলেন, পশ্চিম বেকায় তাদের সংস্থা একটি স্কুল মেরামত করেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বেসামরিক এলাকায় হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী, আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। শর্ত ছিল হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর উত্তরে সরে যাবে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
তবে লেবানন সরকারের দাবি, ইসরায়েল এই পর্যন্ত হাজার হাজার বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতির গত ১৪ মাসে হিজবুল্লাহ মাত্র একটি হামলা চালালেও ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই-ও রয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা








