দক্ষিণ সুরমায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১, আহত ১০
দক্ষিণ সুরমা তেতলি ইউনিয়নে সন্ত্রাসী হামলায় একজন নিহত ও ১০ দশজন আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ৩ নং তেতলি ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের লক্ষিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তি লক্ষিপুর গ্রামের সালিশী ব্যক্তি গেদা মিয়া। আর আহতরা হলেন, আনছার আলী, কাহির মিয়া,বশির মিয়া, তাহমিম আহমদ মুরাদ, রবিন, বাবুলের স্ত্রীসহ ১০জন। আহতরা সবাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত গেদা মিয়া হলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও নৌকার সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের চাচাতো ভাই। আর হামলাকারী আলাউদ্দিন, ইলিয়াস গংরা হলেন স্থানীয় এমপি বলয়ের । তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে মসজিদ, স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন, ইলিয়াস নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র সহকারে তাদের বাহিনী নিয়ে গেদা, বাবুল’র বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় নিহত গেদার ছেলে কামালের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে লুটপাট করা হয়। এতে নিহত গেদা বাধা প্রদান করলে তাকে শরীরে ১৫/২০টি আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারাযান । এসময় স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা ও আহতরা তাকে রক্ষা করতে গেলে আহতদের উপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা বাবুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে বাবুলের স্ত্রীকে মারপিট করে। তখন রবিন রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেল করে নিজ বাড়ি নিশ্চিন্তপুর যাওয়ার পথে তাকে কুপিয়ে জখম করে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান জানান, তিনি হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
লক্ষিপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, ইলিয়াস, আলাউদ্দিন স্থানীয় এমপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। গত নির্বাচনের পর থেকে তারা দুজন তাদের বলয় নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে। আর প্রতিটি জায়গায় তাদের লোক বসাতে নানা ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে আসছে। যার বলি গেদা মিয়া। গ্রামবাসী আরো জানান, হামলার পর পুলিশ গিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।
দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। আর মৃতদেহের ময়না তদন্ত শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।







